নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা নদী ঘেঁষা আনন্দবাজার হাট—একসময় যেখানে ছিল মানুষের ভিড়, ব্যবসার হাঁকডাক আর জীবনের প্রাণচাঞ্চল্য—আজ সেখানে ভর করছে অনিশ্চয়তা আর আতঙ্ক। শত বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী হাট এখন নদী ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী খননের সরকারি প্রকল্পের আড়ালে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে শুধু নদীর স্বাভাবিক গতিপথই বদলে যাচ্ছে না, বরং ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তীরবর্তী জনপদ ও আনন্দবাজার হাটের ভিত্তি।
সূত্র বলছে, বিআইডব্লিউটিএ-এর অনুমোদিত ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ প্রথমে একজন ব্যবসায়ীর হাতে থাকলেও পরবর্তীতে এর নিয়ন্ত্রণ চলে যায় স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের হাতে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্র রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তির যোগসাজশে রাতের আঁধারে মেঘনায় একের পর এক ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে।
দিনে বাইরে থেকে সব স্বাভাবিক মনে হলেও রাত নামলেই বদলে যায় দৃশ্যপট। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতভর ১২ থেকে ১৫টি ড্রেজার দিয়ে নদীর তীর ঘেঁষে চলছে বালু উত্তোলনের কাজ। এতে নদীর পাড় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ ভাঙন।
আনন্দবাজার হাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই হাট শুধু একটি বাজার নয়—এটি এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার কেন্দ্র। কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী—সবাই এই হাটের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এখন হাটের কিছু অংশে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। অনেকেই ভয় পাচ্ছেন, কয়েক বছরের মধ্যেই হয়তো পুরো হাটটি নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।
একজন প্রবীণ ব্যবসায়ী কণ্ঠ ভারী করে বলেন, “আমরা এখানে জন্ম থেকে ব্যবসা করছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যাবে। কেউ কিছু বলছে না, কেউ দেখছে না।”
অন্যদিকে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখনো কোনো কার্যকর অবস্থান দেখা যায়নি। সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া মেলেনি।
স্থানীয়দের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সরকারি প্রকল্পের নামে যদি এভাবে নদী ও ঐতিহ্য ধ্বংস হয়, তবে দায় নেবে কে?
পরিবেশবিদরা বলছেন, এভাবে অবৈধ ড্রেজিং চলতে থাকলে শুধু একটি হাট নয়, পুরো মেঘনা তীরবর্তী এলাকা ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে আশপাশের গ্রাম ও জনপদে।
সব মিলিয়ে আনন্দবাজার হাট এখন কেবল একটি বাজার নয়—এটি এক হারিয়ে যাওয়ার গল্প হয়ে ওঠার পথে। প্রশ্ন শুধু একটাই, এই ধ্বংসের আগে কি কেউ জেগে উঠবে?

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা নদী ঘেঁষা আনন্দবাজার হাট—একসময় যেখানে ছিল মানুষের ভিড়, ব্যবসার হাঁকডাক আর জীবনের প্রাণচাঞ্চল্য—আজ সেখানে ভর করছে অনিশ্চয়তা আর আতঙ্ক। শত বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী হাট এখন নদী ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী খননের সরকারি প্রকল্পের আড়ালে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে শুধু নদীর স্বাভাবিক গতিপথই বদলে যাচ্ছে না, বরং ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তীরবর্তী জনপদ ও আনন্দবাজার হাটের ভিত্তি।
সূত্র বলছে, বিআইডব্লিউটিএ-এর অনুমোদিত ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ প্রথমে একজন ব্যবসায়ীর হাতে থাকলেও পরবর্তীতে এর নিয়ন্ত্রণ চলে যায় স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের হাতে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্র রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তির যোগসাজশে রাতের আঁধারে মেঘনায় একের পর এক ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে।
দিনে বাইরে থেকে সব স্বাভাবিক মনে হলেও রাত নামলেই বদলে যায় দৃশ্যপট। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতভর ১২ থেকে ১৫টি ড্রেজার দিয়ে নদীর তীর ঘেঁষে চলছে বালু উত্তোলনের কাজ। এতে নদীর পাড় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ ভাঙন।
আনন্দবাজার হাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই হাট শুধু একটি বাজার নয়—এটি এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার কেন্দ্র। কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী—সবাই এই হাটের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এখন হাটের কিছু অংশে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। অনেকেই ভয় পাচ্ছেন, কয়েক বছরের মধ্যেই হয়তো পুরো হাটটি নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।
একজন প্রবীণ ব্যবসায়ী কণ্ঠ ভারী করে বলেন, “আমরা এখানে জন্ম থেকে ব্যবসা করছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যাবে। কেউ কিছু বলছে না, কেউ দেখছে না।”
অন্যদিকে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখনো কোনো কার্যকর অবস্থান দেখা যায়নি। সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া মেলেনি।
স্থানীয়দের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সরকারি প্রকল্পের নামে যদি এভাবে নদী ও ঐতিহ্য ধ্বংস হয়, তবে দায় নেবে কে?
পরিবেশবিদরা বলছেন, এভাবে অবৈধ ড্রেজিং চলতে থাকলে শুধু একটি হাট নয়, পুরো মেঘনা তীরবর্তী এলাকা ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে আশপাশের গ্রাম ও জনপদে।
সব মিলিয়ে আনন্দবাজার হাট এখন কেবল একটি বাজার নয়—এটি এক হারিয়ে যাওয়ার গল্প হয়ে ওঠার পথে। প্রশ্ন শুধু একটাই, এই ধ্বংসের আগে কি কেউ জেগে উঠবে?

আপনার মতামত লিখুন