পরিবেশ কন্ঠ

মাদক আইন সংশোধন নিয়ে আলোচনায় রুমিন ফারহানার কড়া সমালোচনা

সংসদে বিস্ফোরক রুমিন ফারহানা: মাদক কারবারিদের গন্তব্য কেন সংসদ?


প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সংসদে বিস্ফোরক রুমিন ফারহানা: মাদক কারবারিদের গন্তব্য কেন সংসদ?
সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আবারও উত্তাপ ছড়ালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল-২০২৬-এর ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে তিনি অভিযোগ করেন যে, দেশে কেবল মাদক বহনকারীরাই আইনের জালে আটকা পড়ছে, অথচ মূল কারবারিরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে। 

রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বিচারব্যবস্থায় আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি যে, যারা শুধুমাত্র মাদক বহন বা পরিবহনের কাজে ক্যারিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তারাই বারবার ধরা পড়ছে। কিন্তু যারা এই বিশাল মাদক সাম্রাজ্যের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে, তারা সবসময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও গোয়েন্দা দপ্তরের প্রতিবেদনে যাদের নাম মাদক কারবারি হিসেবে স্পষ্টভাবে উঠে আসে, তারা কিংবা তাদের পরিবারের সদস্যরা অনায়াসেই সংসদে চলে আসছেন। তিনি মাদকের ভয়াবহতা ও বিদ্যমান আইনের কঠোরতা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের দেশে মাদকবিরোধী আইন অত্যন্ত শক্ত। 

মাত্র ২৫ গ্রামের বেশি মাদক পাওয়া গেলেই মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, এই আইন কি কেবল সাধারণ বাহকদের জন্যই? যখন হাজার হাজার পিস ইয়াবা কিংবা কেজি কেজি হেরোইনসহ কেউ ধরা পড়ে, তখন সেই তদন্তের শেকলটি আর কারবারিদের মূল শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। আলোচনায় রুমিন ফারহানা আরও বলেন, মাদক সমস্যার সমাধান কেবল কঠোর আইন করে সম্ভব নয়, যদি না অপরাধীদের শাস্তির বিষয়ে নিরপেক্ষ রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে। ক্ষমতার বলয়ে থেকে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা নির্মূল করা এখন সময়ের দাবি। 

তিনি মনে করেন, কেবল বাহকদের গ্রেফতার করে মাদকের এই সর্বনাশা গ্রাস থেকে সমাজকে মুক্ত করা অসম্ভব, যদি না প্রকৃত গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা হয়। সংসদীয় অধিবেশনে তার এই বক্তব্য উপস্থিত অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও বিশেষ কৌতুহল ও আলোচনার সৃষ্টি করে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রকৃত বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি সরকারের সদিচ্ছাকে চ্যালেঞ্জ জানান এবং দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করতে আইনি সংস্কারের পাশাপাশি এর নিরপেক্ষ প্রয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। 

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বিষয় : মাদক

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


সংসদে বিস্ফোরক রুমিন ফারহানা: মাদক কারবারিদের গন্তব্য কেন সংসদ?

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আবারও উত্তাপ ছড়ালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল-২০২৬-এর ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে তিনি অভিযোগ করেন যে, দেশে কেবল মাদক বহনকারীরাই আইনের জালে আটকা পড়ছে, অথচ মূল কারবারিরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে। 

রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বিচারব্যবস্থায় আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি যে, যারা শুধুমাত্র মাদক বহন বা পরিবহনের কাজে ক্যারিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তারাই বারবার ধরা পড়ছে। কিন্তু যারা এই বিশাল মাদক সাম্রাজ্যের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে, তারা সবসময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও গোয়েন্দা দপ্তরের প্রতিবেদনে যাদের নাম মাদক কারবারি হিসেবে স্পষ্টভাবে উঠে আসে, তারা কিংবা তাদের পরিবারের সদস্যরা অনায়াসেই সংসদে চলে আসছেন। তিনি মাদকের ভয়াবহতা ও বিদ্যমান আইনের কঠোরতা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের দেশে মাদকবিরোধী আইন অত্যন্ত শক্ত। 

মাত্র ২৫ গ্রামের বেশি মাদক পাওয়া গেলেই মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, এই আইন কি কেবল সাধারণ বাহকদের জন্যই? যখন হাজার হাজার পিস ইয়াবা কিংবা কেজি কেজি হেরোইনসহ কেউ ধরা পড়ে, তখন সেই তদন্তের শেকলটি আর কারবারিদের মূল শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। আলোচনায় রুমিন ফারহানা আরও বলেন, মাদক সমস্যার সমাধান কেবল কঠোর আইন করে সম্ভব নয়, যদি না অপরাধীদের শাস্তির বিষয়ে নিরপেক্ষ রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে। ক্ষমতার বলয়ে থেকে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা নির্মূল করা এখন সময়ের দাবি। 

তিনি মনে করেন, কেবল বাহকদের গ্রেফতার করে মাদকের এই সর্বনাশা গ্রাস থেকে সমাজকে মুক্ত করা অসম্ভব, যদি না প্রকৃত গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা হয়। সংসদীয় অধিবেশনে তার এই বক্তব্য উপস্থিত অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও বিশেষ কৌতুহল ও আলোচনার সৃষ্টি করে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রকৃত বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি সরকারের সদিচ্ছাকে চ্যালেঞ্জ জানান এবং দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করতে আইনি সংস্কারের পাশাপাশি এর নিরপেক্ষ প্রয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। 

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ