টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার চরম প্রতিকূলতার মাঝে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এবার সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকা সহ বগুড়া ও বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন কলেজের কয়েক হাজার পরীক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়া ও বন্যার মতো পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নিতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ সাধারণ শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি ও মানসিক চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়নি।
বিক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর উত্তরা থেকে সায়েন্স ল্যাব পর্যন্ত। উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা, যার ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ রুটে দীর্ঘ সময় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। অন্যদিকে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা আইডিয়াল কলেজ ও বিএফ শাহীন কলেজসহ প্রায় ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর তারা মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরের দিকে এগিয়ে যান। তবে পুলিশি বাধার মুখে তারা নীলক্ষেত থেকে টিএসসি অভিমুখী সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্র। পরীক্ষার্থীদের দাবি, এবারের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় অন্তত দুটি প্রশ্ন ভুল ছিল এবং বাকি প্রশ্নগুলো করা হয়েছে সাধারণ মানদণ্ডের বাইরে অত্যন্ত কঠিনভাবে। বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার আদলে এই প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়েছে। ভুল প্রশ্ন আর এই কঠিন প্রশ্নের ভারে আমরা যদি ব্যর্থ হই, তবে তার দায়ভার কে নেবে?’ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ছিল এক দফা দাবি—শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ।
ঢাকার বাইরে বগুড়ায় শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। অন্যদিকে বরিশালে শিক্ষা বোর্ডের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধের ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৃষ্টির কারণে অনেকের প্রবেশপত্র ভিজে নষ্ট হয়েছে, আবার অনেকে পানিবন্দি থাকায় সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এই অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দায়ে তারা শিক্ষাসচিবের অপসারণও দাবি করেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় ছিলেন। তবে বিকালের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। পরিস্থিতির গভীরতা পর্যবেক্ষণ করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা, তবে এখনো মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আশ্বাস পাওয়া যায়নি।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬
টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার চরম প্রতিকূলতার মাঝে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এবার সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকা সহ বগুড়া ও বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন কলেজের কয়েক হাজার পরীক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়া ও বন্যার মতো পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নিতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ সাধারণ শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি ও মানসিক চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়নি।
বিক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর উত্তরা থেকে সায়েন্স ল্যাব পর্যন্ত। উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা, যার ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ রুটে দীর্ঘ সময় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। অন্যদিকে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা আইডিয়াল কলেজ ও বিএফ শাহীন কলেজসহ প্রায় ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর তারা মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরের দিকে এগিয়ে যান। তবে পুলিশি বাধার মুখে তারা নীলক্ষেত থেকে টিএসসি অভিমুখী সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্র। পরীক্ষার্থীদের দাবি, এবারের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় অন্তত দুটি প্রশ্ন ভুল ছিল এবং বাকি প্রশ্নগুলো করা হয়েছে সাধারণ মানদণ্ডের বাইরে অত্যন্ত কঠিনভাবে। বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার আদলে এই প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়েছে। ভুল প্রশ্ন আর এই কঠিন প্রশ্নের ভারে আমরা যদি ব্যর্থ হই, তবে তার দায়ভার কে নেবে?’ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ছিল এক দফা দাবি—শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ।
ঢাকার বাইরে বগুড়ায় শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। অন্যদিকে বরিশালে শিক্ষা বোর্ডের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধের ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৃষ্টির কারণে অনেকের প্রবেশপত্র ভিজে নষ্ট হয়েছে, আবার অনেকে পানিবন্দি থাকায় সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এই অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দায়ে তারা শিক্ষাসচিবের অপসারণও দাবি করেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় ছিলেন। তবে বিকালের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। পরিস্থিতির গভীরতা পর্যবেক্ষণ করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা, তবে এখনো মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আশ্বাস পাওয়া যায়নি।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন