গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন বিল উত্থাপনের মুখে সংসদ বর্জন করলেন শফিকুর রহমান; পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবিতে বিরোধী দল অনড়।
জাতীয় সংসদে এক নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কারের উদ্যোগকে ‘আংশিক’ ও ‘খণ্ডিত’ আখ্যা দিয়ে বিরোধী দলীয় সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। মূলত গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংস্কার এবং গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত বিল দুটি উত্থাপনের আগমুহূর্তে এই বর্জনের ঘটনা ঘটে।
অধিবেশনের শুরুতেই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার প্রক্রিয়ার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, তার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ২০টি অধ্যাদেশ ইতিমধ্যে কার্যকারিতা হারিয়েছে বা রহিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ সংস্কার এবং গুম কমিশনের মতো মৌলিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিরোধী দলীয় নেতার মতে, এই মৌলিক সংস্কারগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন না হলে দেশ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি পাবে না।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা পূর্ণাঙ্গ সংস্কার চাই, কোনো খণ্ডিত প্রক্রিয়া নয়। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন জরুরি ছিল, যা উপেক্ষা করা হয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংস্কারের বিষয়ে আলোচনার জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকার অনুরোধ জানানো হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর মেলেনি। আজ বেসরকারি দিবস হওয়া সত্ত্বেও তড়িঘড়ি করে সরকারি বিল উত্থাপনকে তিনি একটি খারাপ নজির হিসেবে বর্ণনা করেন।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন’ সংক্রান্ত নতুন বিল। বিরোধী দলের অভিযোগ, গুমের ঘটনা তদন্তে মানবাধিকার কমিশনকে যে ক্ষমতা দেওয়ার কথা ছিল, সংসদে আনা বিলে তা খর্ব করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তভার তাদেরই কোনো শাখার ওপর ন্যস্ত করার প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মানবাধিকার কর্মী ও অংশীজনদের উদ্ধৃতি দিয়ে শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, কমিশন যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে এবং এর গঠন প্রক্রিয়া যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
শেষ পর্যন্ত ‘সংস্কারের মূল দাবিকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে’—এমন অভিযোগ তুলে বিরোধী দলীয় নেতা ঘোষণা করেন যে, তারা এই খণ্ডিত প্রক্রিয়ার অংশ হতে চান না। তার এই বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এই ওয়াকআউটের ফলে সংসদ অধিবেশনে সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংস্কার ইস্যুতে বাড়তে থাকা দূরত্বেরই বহিঃপ্রকাশ।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন বিল উত্থাপনের মুখে সংসদ বর্জন করলেন শফিকুর রহমান; পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবিতে বিরোধী দল অনড়।
জাতীয় সংসদে এক নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কারের উদ্যোগকে ‘আংশিক’ ও ‘খণ্ডিত’ আখ্যা দিয়ে বিরোধী দলীয় সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। মূলত গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংস্কার এবং গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত বিল দুটি উত্থাপনের আগমুহূর্তে এই বর্জনের ঘটনা ঘটে।
অধিবেশনের শুরুতেই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার প্রক্রিয়ার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, তার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ২০টি অধ্যাদেশ ইতিমধ্যে কার্যকারিতা হারিয়েছে বা রহিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ সংস্কার এবং গুম কমিশনের মতো মৌলিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিরোধী দলীয় নেতার মতে, এই মৌলিক সংস্কারগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন না হলে দেশ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি পাবে না।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা পূর্ণাঙ্গ সংস্কার চাই, কোনো খণ্ডিত প্রক্রিয়া নয়। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন জরুরি ছিল, যা উপেক্ষা করা হয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংস্কারের বিষয়ে আলোচনার জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকার অনুরোধ জানানো হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর মেলেনি। আজ বেসরকারি দিবস হওয়া সত্ত্বেও তড়িঘড়ি করে সরকারি বিল উত্থাপনকে তিনি একটি খারাপ নজির হিসেবে বর্ণনা করেন।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন’ সংক্রান্ত নতুন বিল। বিরোধী দলের অভিযোগ, গুমের ঘটনা তদন্তে মানবাধিকার কমিশনকে যে ক্ষমতা দেওয়ার কথা ছিল, সংসদে আনা বিলে তা খর্ব করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তভার তাদেরই কোনো শাখার ওপর ন্যস্ত করার প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মানবাধিকার কর্মী ও অংশীজনদের উদ্ধৃতি দিয়ে শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, কমিশন যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে এবং এর গঠন প্রক্রিয়া যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
শেষ পর্যন্ত ‘সংস্কারের মূল দাবিকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে’—এমন অভিযোগ তুলে বিরোধী দলীয় নেতা ঘোষণা করেন যে, তারা এই খণ্ডিত প্রক্রিয়ার অংশ হতে চান না। তার এই বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এই ওয়াকআউটের ফলে সংসদ অধিবেশনে সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংস্কার ইস্যুতে বাড়তে থাকা দূরত্বেরই বহিঃপ্রকাশ।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন