মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের সেই আলোচিত হেফাজত সমাবেশের হত্যাযজ্ঞ ও গণহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই মামলায় সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেপ্তার ছাপিয়ে এই মুহূর্তে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে তার ছোট ভাই, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর (বীর উত্তম) দেওয়া অত্যন্ত সাহসী ও দার্শনিক এক বক্তব্য।
বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে কাদের সিদ্দিকী সাংবাদিকদের সামনে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বড় ভাইয়ের হাতে পরা হাতকড়া নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি অত্যন্ত নির্ভীক কণ্ঠে বলেন, হাতকড়া আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়। রাজনৈতিক জীবনে আমরা বহুবার কারাবরণ করেছি, বহুবার এই লৌহকপাট ও শিকল আমাদের স্পর্শ করেছে। বিয়ের আসরে কনে যেমন সানন্দে সোনার চুড়ি পরে, আমরা দেশের জন্য বা সত্যের পথে চলতে গিয়ে হাতকড়াকে তেমনই অলঙ্কার মনে করি।
এ নিয়ে আমাদের কোনো অনুশোচনা বা অভিযোগ নেই। লতিফ সিদ্দিকীকে শাপলা চত্বর গণহত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন বঙ্গবীর। তিনি যুক্তি দেন যে, লতিফ সিদ্দিকী তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী থাকলেও তিনি কখনোই 'কিচেন ক্যাবিনেটের' বা মূল নীতিনির্ধারণী সার্কেলের অংশ ছিলেন না। কাদের সিদ্দিকী বলেন, তিনি তখন ছিলেন পাটমন্ত্রী। পাট নিয়ে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব নয়। বরং ওই সময়ে বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে শেখ হাসিনার সাথে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল এবং তাকে দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছিল।
এমন একজনকে গণহত্যার পরিকল্পনাকারী বানানো স্রেফ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন। লতিফ সিদ্দিকীর বর্তমান বয়স ৮৭ বছর। বার্ধক্যের এই শেষ পর্যায়ে এসে বড় ভাইয়ের বিচার নিয়ে এক আবেগঘন মন্তব্য করেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকী যদি এমন কোনো অপরাধে ফাঁসির দণ্ড পান যা তিনি আসলে করেননি, তবে আমরা তা মাথা পেতে নেব।
কারণ আমরা বিশ্বাস করি, বিনা অপরাধে দুনিয়াতে শাস্তি পেলে পরকালে আল্লাহ তায়ালা তাকে উত্তম প্রতিদান দেবেন। দুনিয়ার এই ভুলে ভরা বিচার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি আল্লাহর দরবারে ক্ষমা পাবেন—সেটাই হবে আমাদের পরম সান্ত্বনা। আদালতে লতিফ সিদ্দিকীকে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে কাদের সিদ্দিকী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রত্যেক অভিযুক্তেরই আত্মপক্ষ সমর্থনের মৌলিক অধিকার রয়েছে। কিন্তু তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। তারা এই আইনি লড়াইকে রাজপথের বদলে আদালতের কাঠগড়াতেই মোকাবিলা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন মাত্রার যোগ করেছে, যেখানে ভ্রাতৃত্বের টান আর ন্যায়বিচারের লড়াই সমান্তরালভাবে উঠে এসেছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের সেই আলোচিত হেফাজত সমাবেশের হত্যাযজ্ঞ ও গণহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই মামলায় সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেপ্তার ছাপিয়ে এই মুহূর্তে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে তার ছোট ভাই, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর (বীর উত্তম) দেওয়া অত্যন্ত সাহসী ও দার্শনিক এক বক্তব্য।
বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে কাদের সিদ্দিকী সাংবাদিকদের সামনে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বড় ভাইয়ের হাতে পরা হাতকড়া নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি অত্যন্ত নির্ভীক কণ্ঠে বলেন, হাতকড়া আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়। রাজনৈতিক জীবনে আমরা বহুবার কারাবরণ করেছি, বহুবার এই লৌহকপাট ও শিকল আমাদের স্পর্শ করেছে। বিয়ের আসরে কনে যেমন সানন্দে সোনার চুড়ি পরে, আমরা দেশের জন্য বা সত্যের পথে চলতে গিয়ে হাতকড়াকে তেমনই অলঙ্কার মনে করি।
এ নিয়ে আমাদের কোনো অনুশোচনা বা অভিযোগ নেই। লতিফ সিদ্দিকীকে শাপলা চত্বর গণহত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন বঙ্গবীর। তিনি যুক্তি দেন যে, লতিফ সিদ্দিকী তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী থাকলেও তিনি কখনোই 'কিচেন ক্যাবিনেটের' বা মূল নীতিনির্ধারণী সার্কেলের অংশ ছিলেন না। কাদের সিদ্দিকী বলেন, তিনি তখন ছিলেন পাটমন্ত্রী। পাট নিয়ে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব নয়। বরং ওই সময়ে বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে শেখ হাসিনার সাথে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল এবং তাকে দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছিল।
এমন একজনকে গণহত্যার পরিকল্পনাকারী বানানো স্রেফ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন। লতিফ সিদ্দিকীর বর্তমান বয়স ৮৭ বছর। বার্ধক্যের এই শেষ পর্যায়ে এসে বড় ভাইয়ের বিচার নিয়ে এক আবেগঘন মন্তব্য করেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকী যদি এমন কোনো অপরাধে ফাঁসির দণ্ড পান যা তিনি আসলে করেননি, তবে আমরা তা মাথা পেতে নেব।
কারণ আমরা বিশ্বাস করি, বিনা অপরাধে দুনিয়াতে শাস্তি পেলে পরকালে আল্লাহ তায়ালা তাকে উত্তম প্রতিদান দেবেন। দুনিয়ার এই ভুলে ভরা বিচার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি আল্লাহর দরবারে ক্ষমা পাবেন—সেটাই হবে আমাদের পরম সান্ত্বনা। আদালতে লতিফ সিদ্দিকীকে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে কাদের সিদ্দিকী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রত্যেক অভিযুক্তেরই আত্মপক্ষ সমর্থনের মৌলিক অধিকার রয়েছে। কিন্তু তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। তারা এই আইনি লড়াইকে রাজপথের বদলে আদালতের কাঠগড়াতেই মোকাবিলা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন মাত্রার যোগ করেছে, যেখানে ভ্রাতৃত্বের টান আর ন্যায়বিচারের লড়াই সমান্তরালভাবে উঠে এসেছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন