পরিবেশ কন্ঠ

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ


প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ
জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন। আজ সোমবার দুপুরে

মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে অংশ নেওয়ার পর দেশজুড়ে শুরু হওয়া তীব্র সমালোচনা এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশের পরই মূলত তিনি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নিজের নিরাপত্তার খাতিরে ওই অস্ত্র ব্যবহারের দাবি করলেও ঘটনার পর বিএনপি ও সরকারের অভ্যন্তরীণ মহলে ব্যাপক অস্বস্তি তৈরি হয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গতকাল রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এরপরই আজ সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি নিজের সরে যাওয়ার ঘোষণাটি দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, জনসেবার স্বার্থে তিনি স্বেচ্ছায় এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রী হিসেবে নয় বরং একজন সাধারণ বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদক নির্মূল ও দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি গতিশীল হয়ে কাজ করতে চান। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর উপস্থিতিতে দলের শত শত নেতাকর্মী নানা স্লোগান দিয়ে সমর্থন জানান, যা রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ সময় তিনি বিগত সময়ের কাজের জন্য দুঃখপ্রকাশও করেন।

বর্তমানে ইশরাক হোসেন মন্ত্রিত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে নিজ এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতা ও দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে মনোযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে পাওয়া কঠোর নির্দেশনায় তাঁর এই পদত্যাগ রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরণের বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ঘটনার মাধ্যমে মাদকবিরোধী অভিযানের আইনি সীমাবদ্ধতা ও নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনে রাজনৈতিক মেরুকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে অংশ নেওয়ার পর দেশজুড়ে শুরু হওয়া তীব্র সমালোচনা এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশের পরই মূলত তিনি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নিজের নিরাপত্তার খাতিরে ওই অস্ত্র ব্যবহারের দাবি করলেও ঘটনার পর বিএনপি ও সরকারের অভ্যন্তরীণ মহলে ব্যাপক অস্বস্তি তৈরি হয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গতকাল রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এরপরই আজ সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি নিজের সরে যাওয়ার ঘোষণাটি দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, জনসেবার স্বার্থে তিনি স্বেচ্ছায় এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রী হিসেবে নয় বরং একজন সাধারণ বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদক নির্মূল ও দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি গতিশীল হয়ে কাজ করতে চান। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর উপস্থিতিতে দলের শত শত নেতাকর্মী নানা স্লোগান দিয়ে সমর্থন জানান, যা রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ সময় তিনি বিগত সময়ের কাজের জন্য দুঃখপ্রকাশও করেন।

বর্তমানে ইশরাক হোসেন মন্ত্রিত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে নিজ এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতা ও দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে মনোযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে পাওয়া কঠোর নির্দেশনায় তাঁর এই পদত্যাগ রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরণের বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ঘটনার মাধ্যমে মাদকবিরোধী অভিযানের আইনি সীমাবদ্ধতা ও নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনে রাজনৈতিক মেরুকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ