জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান দমনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নানামুখী অপতৎপরতার নতুন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। এবার সেই উত্তাল সময়ে জনরোষ দমনে ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত করার নেপথ্যে সরাসরি রাজনৈতিক নির্দেশনার প্রমাণ মিলেছে। সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের মধ্যকার একটি চাঞ্চল্যকর ফোনালাপ এখন আলোচনার তুঙ্গে। এই কল রেকর্ডটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
রবিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এই তথ্যপ্রমাণটি আনুষ্ঠানিকভাবে শোনানো হবে। মামলার বিচারে স্বচ্ছতা ও অপরাধের গভীরতা নিশ্চিত করতে এই ডিজিটাল প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ফোনালাপটিতে শোনা যায়, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি ভঙ্গিতে পলককে নির্দেশ দিচ্ছেন ইন্টারনেট গতি কমিয়ে দেওয়ার জন্য। কথোপকথনের একপর্যায়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা একটু স্লো করে দাও, ইন্টারনেট।’ জবাবে জুনাইদ আহমেদ পলক সম্মতি জানিয়ে বলেন, ‘জি, একটু নেত্রীর পারমিশনটা নিয়া নিই।’ এরপর কাদের তাকে অনুমতি নিয়ে কাজ শুরু করতে বলেন। এই আলাপন থেকে স্পষ্ট হয় যে, দেশজুড়ে ইন্টারনেট শাটডাউন বা গতি কমিয়ে দেওয়া কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল না, বরং এটি ছিল রাজনৈতিক উচ্চপর্যায়ের সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত।
মামলায় ওবায়দুল কাদের ও জুনাইদ আহমেদ পলক ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ও কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া ছিল নাগরিকদের তথ্য অধিকার হরণ এবং গণমাধ্যমকে পঙ্গু করে দেওয়ার একটি অপচেষ্টা, যাতে মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো দমন-পীড়নের চিত্র বহির্বিশ্বে এবং দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারে। এই ফোনালাপটি বিচার প্রক্রিয়ায় একটি বড় মাইলফলক হয়ে দাঁড়াতে পারে, যা জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত অপরাধগুলোর বিচার ত্বরান্বিত করবে। দেশের সচেতন মহলে এই অডিও ক্লিপটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে অনেকেই ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান দমনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নানামুখী অপতৎপরতার নতুন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। এবার সেই উত্তাল সময়ে জনরোষ দমনে ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত করার নেপথ্যে সরাসরি রাজনৈতিক নির্দেশনার প্রমাণ মিলেছে। সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের মধ্যকার একটি চাঞ্চল্যকর ফোনালাপ এখন আলোচনার তুঙ্গে। এই কল রেকর্ডটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
রবিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এই তথ্যপ্রমাণটি আনুষ্ঠানিকভাবে শোনানো হবে। মামলার বিচারে স্বচ্ছতা ও অপরাধের গভীরতা নিশ্চিত করতে এই ডিজিটাল প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ফোনালাপটিতে শোনা যায়, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি ভঙ্গিতে পলককে নির্দেশ দিচ্ছেন ইন্টারনেট গতি কমিয়ে দেওয়ার জন্য। কথোপকথনের একপর্যায়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা একটু স্লো করে দাও, ইন্টারনেট।’ জবাবে জুনাইদ আহমেদ পলক সম্মতি জানিয়ে বলেন, ‘জি, একটু নেত্রীর পারমিশনটা নিয়া নিই।’ এরপর কাদের তাকে অনুমতি নিয়ে কাজ শুরু করতে বলেন। এই আলাপন থেকে স্পষ্ট হয় যে, দেশজুড়ে ইন্টারনেট শাটডাউন বা গতি কমিয়ে দেওয়া কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল না, বরং এটি ছিল রাজনৈতিক উচ্চপর্যায়ের সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত।
মামলায় ওবায়দুল কাদের ও জুনাইদ আহমেদ পলক ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ও কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া ছিল নাগরিকদের তথ্য অধিকার হরণ এবং গণমাধ্যমকে পঙ্গু করে দেওয়ার একটি অপচেষ্টা, যাতে মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো দমন-পীড়নের চিত্র বহির্বিশ্বে এবং দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারে। এই ফোনালাপটি বিচার প্রক্রিয়ায় একটি বড় মাইলফলক হয়ে দাঁড়াতে পারে, যা জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত অপরাধগুলোর বিচার ত্বরান্বিত করবে। দেশের সচেতন মহলে এই অডিও ক্লিপটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে অনেকেই ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন