এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়ার অভিযোগে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের প্রায় আট হাজার শিক্ষক শাস্তির মুখে পড়েছেন। চলতি বছরের ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণে ব্যাপক অসংগতি ধরা পড়ার পর এই শিক্ষকদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে গত বছরের গাফিলতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকদের দুই বছর পর্যন্ত খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হতে পারে। আর গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়লে সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনে আরও কঠোর শাস্তির মুখে পড়বেন তারা।
গত ১০ আগস্ট ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশিত হয়। ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। এরপর ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নেওয়া হয়। মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ শিক্ষার্থী আবেদন করলে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আওতায় আসে। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র ছিল ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি।
পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ৪ হাজার ৫৮৫ শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের এবং নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯টি উত্তরপত্রে।
কোন পর্যায়ের নম্বরকে 'অনুচিত' ধরা হবে, তা নির্ধারণ করতে একটি 'পুনর্মূল্যায়ন নীতিমালা' প্রণয়ন করতে যাচ্ছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। এতে ওভার মার্কিং ও আন্ডার মার্কিংয়ের গ্রহণযোগ্য সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। ওই সীমা ছাড়িয়ে নম্বর দিলে পরীক্ষককে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, বিষয়টি নিয়ে বোর্ডগুলোতে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি তুলে ধরা হবে। মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পেলে নীতিমালা প্রণয়নের জন্য কমিটি গঠন করা হবে।
তিনি বলেন, 'ওভার নাম্বারিং-আন্ডার নাম্বারিংয়ের বিষয়ে যেসব শিক্ষকের ত্রুটি রয়েছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নীতিমালা কমিটি যাচাই-বাছাই করে কত নম্বরকে অনুচিত নম্বর হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তা নির্ধারণ করবে। এরপর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
খাতা মূল্যায়নে ভুলের কারণে পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে ১ হাজার ৬৮৪ জন প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষককে আগামী দুই বছর কোনো পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী বলেন, নির্ভুল ফল প্রকাশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি বা ভুল করা পরীক্ষকদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হবে।
বোর্ড সূত্র জানায়, পুনর্নিরীক্ষণের পর যশোর বোর্ডে ২ হাজার ৪৩৬ পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। ফেল করা ৩৮০ জন পাস করেছে। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ১ হাজার ৩০৪ জনের এবং নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭৫২ জন। এই ফল বিশ্লেষণ করে গাফিলতি বা ভুল করা পরীক্ষকদের শনাক্ত করা হয়।
খাতা মূল্যায়নে ইচ্ছাকৃত অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। গত ৭ জুলাই জাতীয় সংসদে অনুমোদিত সংশোধিত আইনে পাবলিক পরীক্ষার ফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং কিংবা অবৈধ পরিবর্তনকে 'ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন' হিসেবে নতুন অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ওভার মার্কিং ও আন্ডার মার্কিংয়ের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশোধিত আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সাধারণ ভুল, অসাবধানতা ও ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর বাড়ানো-কমানোর ঘটনা আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি। এজন্যই 'অনুচিত নম্বর'-এর সীমা নির্ধারণ করে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা পরিচালনায় গাফিলতির অভিযোগে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ৩৪টি কেন্দ্রের সচিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। গত রোববার জারি করা নোটিশে ৭ অক্টোবরের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়ার অভিযোগে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের প্রায় আট হাজার শিক্ষক শাস্তির মুখে পড়েছেন। চলতি বছরের ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণে ব্যাপক অসংগতি ধরা পড়ার পর এই শিক্ষকদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে গত বছরের গাফিলতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকদের দুই বছর পর্যন্ত খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হতে পারে। আর গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়লে সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনে আরও কঠোর শাস্তির মুখে পড়বেন তারা।
গত ১০ আগস্ট ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশিত হয়। ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। এরপর ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নেওয়া হয়। মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ শিক্ষার্থী আবেদন করলে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আওতায় আসে। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র ছিল ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি।
পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ৪ হাজার ৫৮৫ শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের এবং নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯টি উত্তরপত্রে।
কোন পর্যায়ের নম্বরকে 'অনুচিত' ধরা হবে, তা নির্ধারণ করতে একটি 'পুনর্মূল্যায়ন নীতিমালা' প্রণয়ন করতে যাচ্ছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। এতে ওভার মার্কিং ও আন্ডার মার্কিংয়ের গ্রহণযোগ্য সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। ওই সীমা ছাড়িয়ে নম্বর দিলে পরীক্ষককে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, বিষয়টি নিয়ে বোর্ডগুলোতে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি তুলে ধরা হবে। মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পেলে নীতিমালা প্রণয়নের জন্য কমিটি গঠন করা হবে।
তিনি বলেন, 'ওভার নাম্বারিং-আন্ডার নাম্বারিংয়ের বিষয়ে যেসব শিক্ষকের ত্রুটি রয়েছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নীতিমালা কমিটি যাচাই-বাছাই করে কত নম্বরকে অনুচিত নম্বর হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তা নির্ধারণ করবে। এরপর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
খাতা মূল্যায়নে ভুলের কারণে পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে ১ হাজার ৬৮৪ জন প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষককে আগামী দুই বছর কোনো পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী বলেন, নির্ভুল ফল প্রকাশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি বা ভুল করা পরীক্ষকদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হবে।
বোর্ড সূত্র জানায়, পুনর্নিরীক্ষণের পর যশোর বোর্ডে ২ হাজার ৪৩৬ পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। ফেল করা ৩৮০ জন পাস করেছে। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ১ হাজার ৩০৪ জনের এবং নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭৫২ জন। এই ফল বিশ্লেষণ করে গাফিলতি বা ভুল করা পরীক্ষকদের শনাক্ত করা হয়।
খাতা মূল্যায়নে ইচ্ছাকৃত অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। গত ৭ জুলাই জাতীয় সংসদে অনুমোদিত সংশোধিত আইনে পাবলিক পরীক্ষার ফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং কিংবা অবৈধ পরিবর্তনকে 'ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন' হিসেবে নতুন অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ওভার মার্কিং ও আন্ডার মার্কিংয়ের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশোধিত আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সাধারণ ভুল, অসাবধানতা ও ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর বাড়ানো-কমানোর ঘটনা আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি। এজন্যই 'অনুচিত নম্বর'-এর সীমা নির্ধারণ করে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা পরিচালনায় গাফিলতির অভিযোগে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ৩৪টি কেন্দ্রের সচিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। গত রোববার জারি করা নোটিশে ৭ অক্টোবরের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন