৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১; যশোরের গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াই করে শহীদ হন জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তান।
আজ ৫ সেপ্টেম্বর। রক্তঝরা একাত্তরের এই দিনে যশোরের রণাঙ্গনে দেশমাতৃকার তরে প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ। আজ তাঁর ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গোয়ালহাটি ও ছুটিপুর সীমান্তে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে এক সম্মুখযুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে শাহাদাতবরণ করেন তিনি।
নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে চিত্রা নদীর তীরে। বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেসার সন্তান নূর মোহাম্মদ অত্যন্ত সাহসী ও প্রতিবাদী চেতনার মানুষ ছিলেন। ২৩ বছর বয়সে ১৯৫৯ সালের ২৪ মার্চ তিনি তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগদান করেন এবং দেশসেবার ব্রত গ্রহণ করেন।
১৯৭১ সালে যখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক আসে, তখন নূর মোহাম্মদ শেখ ছুটিতে নিজ গ্রামে অবস্থান করছিলেন। দেশ মাতৃকার টানে তিনি ঘরে বসে থাকতে পারেননি। তিনি মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন এবং ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ শুরু করেন। ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের ঝিকরগাছার গোয়ালহাটি গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর একটি বড় দল মুক্তিযোদ্ধাদের একটি টহল দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। নূর মোহাম্মদ শেখ ও তাঁর সঙ্গীরা বীরত্বের সঙ্গে সেই হামলা প্রতিহত করেন। এক পর্যায়ে তাঁর সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া আহত হলে নূর মোহাম্মদ তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
একই সময়ে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রচণ্ড গুলির মুখে তিনি নিজে এসএলআর হাতে তুলে নেন এবং সঙ্গীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে একা লড়াই চালিয়ে যান। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অসীম সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। পরে যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিমপুর গ্রামে তাঁকে সমাহিত করা হয়। এই মহান বীরের অসামান্য আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে ২০০৮ সালে তাঁর জন্মভূমি মহিষখোলা গ্রামের নাম পরিবর্তন করে নূর মোহাম্মদ নগর রাখা হয়।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নূর মোহাম্মদ নগরে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে র্যালি, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল এবং স্মৃতি জাদুঘরে আলোচনা সভা। নড়াইল জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের অমর স্মৃতি আজো কোটি বাঙালির হৃদয়ে দেশপ্রেমের অম্লান প্রেরণা হয়ে টিকে আছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১; যশোরের গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াই করে শহীদ হন জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তান।
আজ ৫ সেপ্টেম্বর। রক্তঝরা একাত্তরের এই দিনে যশোরের রণাঙ্গনে দেশমাতৃকার তরে প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ। আজ তাঁর ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গোয়ালহাটি ও ছুটিপুর সীমান্তে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে এক সম্মুখযুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে শাহাদাতবরণ করেন তিনি।
নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে চিত্রা নদীর তীরে। বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেসার সন্তান নূর মোহাম্মদ অত্যন্ত সাহসী ও প্রতিবাদী চেতনার মানুষ ছিলেন। ২৩ বছর বয়সে ১৯৫৯ সালের ২৪ মার্চ তিনি তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগদান করেন এবং দেশসেবার ব্রত গ্রহণ করেন।
১৯৭১ সালে যখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক আসে, তখন নূর মোহাম্মদ শেখ ছুটিতে নিজ গ্রামে অবস্থান করছিলেন। দেশ মাতৃকার টানে তিনি ঘরে বসে থাকতে পারেননি। তিনি মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন এবং ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ শুরু করেন। ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের ঝিকরগাছার গোয়ালহাটি গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর একটি বড় দল মুক্তিযোদ্ধাদের একটি টহল দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। নূর মোহাম্মদ শেখ ও তাঁর সঙ্গীরা বীরত্বের সঙ্গে সেই হামলা প্রতিহত করেন। এক পর্যায়ে তাঁর সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া আহত হলে নূর মোহাম্মদ তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
একই সময়ে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রচণ্ড গুলির মুখে তিনি নিজে এসএলআর হাতে তুলে নেন এবং সঙ্গীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে একা লড়াই চালিয়ে যান। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অসীম সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। পরে যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিমপুর গ্রামে তাঁকে সমাহিত করা হয়। এই মহান বীরের অসামান্য আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে ২০০৮ সালে তাঁর জন্মভূমি মহিষখোলা গ্রামের নাম পরিবর্তন করে নূর মোহাম্মদ নগর রাখা হয়।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নূর মোহাম্মদ নগরে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে র্যালি, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল এবং স্মৃতি জাদুঘরে আলোচনা সভা। নড়াইল জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের অমর স্মৃতি আজো কোটি বাঙালির হৃদয়ে দেশপ্রেমের অম্লান প্রেরণা হয়ে টিকে আছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন