পরিবেশ কন্ঠ

সুকৌশলে আমলা ও পরামর্শকদের পকেটে ভরার ব্যবস্থা

দরিদ্রের নামে ৮ কোটি, আমলা-পরামর্শকদের পকেটে ৫৩ কোটি


প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

দরিদ্রের নামে ৮ কোটি, আমলা-পরামর্শকদের পকেটে ৫৩ কোটি

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ঘরবাড়ি হারানো নিঃস্ব মানুষের ভাগ্য বদলের নামে এক অভিনব প্রকল্প প্রস্তাব করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। ‘ইন্টিগ্রেট’ শীর্ষক এই প্রকল্পে ৩০০ জন অসহায় মানুষের সহায়তায় অনুদান হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই সামান্য অর্থ বিতরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পরামর্শক নিয়োগ, বিদেশ ভ্রমণ এবং প্রশাসনিক বিলাসিতার পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩ কোটি ১৮ লাখ টাকারও বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তুহারা মানুষের সহায়তার আড়ালে এই প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থই সুকৌশলে আমলা ও পরামর্শকদের পকেটে ভরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা যায়, ‘অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নগর একীভূতকরণ সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ এবং স্বাগতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা প্রদান’ বা ইন্টিগ্রেট প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১ কোটি ২৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। জার্মান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জিআইজেড)-এর অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগবে ১ বছর ৯ মাস। এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য ছিল খুলনা, সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জের মতো শহরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্বাস্তু হওয়া মানুষদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। কিন্তু বাজেটের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। মোট বাজেটের মাত্র ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ পৌঁছাবে প্রকৃত অভাবী মানুষের হাতে। বাকি ৮৭ শতাংশ অর্থই ব্যয় হবে কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনা খরচ, অফিস ভাড়া এবং বিলাসিতায়।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মাত্র ৩০০ জন দরিদ্র মানুষের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে ৪৭৩ জন দেশি-বিদেশি পরামর্শক। এই বিপুল সংখ্যক পরামর্শকের পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৬২ লাখ টাকারও বেশি, যা মোট ব্যয়ের ৪৮ শতাংশ। এছাড়া সরকারের কৃচ্ছ্রসাধনের কঠোর নির্দেশনা এবং বৈদেশিক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এই প্রকল্পে কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের সাধ মেটাতে ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের জন্য আরও রাখা হয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এমনকি অফিস ভাড়া ও আইটি সামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রেও আকাশচুম্বী দাম ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের ব্যয় কাঠামো নিয়ে পিইসি সভায় সমাজসেবা অধিদপ্তরকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। কেন মাত্র ৩০০ মানুষের সহায়তায় এত বিশাল সংখ্যক পরামর্শক প্রয়োজন এবং কেন সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দোহাই দিয়ে এমন প্রকল্প কেবল সরকারি ও বিদেশি অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। সমাজসেবা অধিদপ্তর এই দায় দাতা সংস্থার ওপর চাপালেও, জনগণের ট্যাক্সের টাকা ও দেশের উন্নয়ন স্বার্থে এমন ব্যয়ের অস্বাভাবিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


দরিদ্রের নামে ৮ কোটি, আমলা-পরামর্শকদের পকেটে ৫৩ কোটি

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ঘরবাড়ি হারানো নিঃস্ব মানুষের ভাগ্য বদলের নামে এক অভিনব প্রকল্প প্রস্তাব করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। ‘ইন্টিগ্রেট’ শীর্ষক এই প্রকল্পে ৩০০ জন অসহায় মানুষের সহায়তায় অনুদান হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই সামান্য অর্থ বিতরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পরামর্শক নিয়োগ, বিদেশ ভ্রমণ এবং প্রশাসনিক বিলাসিতার পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩ কোটি ১৮ লাখ টাকারও বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তুহারা মানুষের সহায়তার আড়ালে এই প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থই সুকৌশলে আমলা ও পরামর্শকদের পকেটে ভরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা যায়, ‘অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নগর একীভূতকরণ সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ এবং স্বাগতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা প্রদান’ বা ইন্টিগ্রেট প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১ কোটি ২৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। জার্মান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জিআইজেড)-এর অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগবে ১ বছর ৯ মাস। এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য ছিল খুলনা, সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জের মতো শহরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্বাস্তু হওয়া মানুষদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। কিন্তু বাজেটের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। মোট বাজেটের মাত্র ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ পৌঁছাবে প্রকৃত অভাবী মানুষের হাতে। বাকি ৮৭ শতাংশ অর্থই ব্যয় হবে কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনা খরচ, অফিস ভাড়া এবং বিলাসিতায়।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মাত্র ৩০০ জন দরিদ্র মানুষের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে ৪৭৩ জন দেশি-বিদেশি পরামর্শক। এই বিপুল সংখ্যক পরামর্শকের পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৬২ লাখ টাকারও বেশি, যা মোট ব্যয়ের ৪৮ শতাংশ। এছাড়া সরকারের কৃচ্ছ্রসাধনের কঠোর নির্দেশনা এবং বৈদেশিক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এই প্রকল্পে কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের সাধ মেটাতে ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের জন্য আরও রাখা হয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এমনকি অফিস ভাড়া ও আইটি সামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রেও আকাশচুম্বী দাম ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের ব্যয় কাঠামো নিয়ে পিইসি সভায় সমাজসেবা অধিদপ্তরকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। কেন মাত্র ৩০০ মানুষের সহায়তায় এত বিশাল সংখ্যক পরামর্শক প্রয়োজন এবং কেন সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দোহাই দিয়ে এমন প্রকল্প কেবল সরকারি ও বিদেশি অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। সমাজসেবা অধিদপ্তর এই দায় দাতা সংস্থার ওপর চাপালেও, জনগণের ট্যাক্সের টাকা ও দেশের উন্নয়ন স্বার্থে এমন ব্যয়ের অস্বাভাবিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ