মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি মাসেই; শূন্য পদ পূরণে চলছে তোড়জোড়।
বাংলাদেশের জনপ্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে আবারও বড় ধরনের রদবদলের জোর প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ হিসেবে পরিচিত মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ চলতি মাসেই শেষ হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সচিবের পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগস্ট মাসজুড়েই প্রশাসনের এই উচ্চপর্যায়ে নতুন মুখ আসার প্রক্রিয়ায় কর্মচাঞ্চল্য থাকবে।
বর্তমানে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে শূন্য পদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। চাকরির স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত ৩০ জুলাই গৃহায়ণ ও গণপূর্তসচিব মো. নজরুল ইসলামের পদটি শূন্য হয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের পদটিও বর্তমানে খালি রয়েছে। এছাড়া নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের পদটি শূন্য পড়ে আছে। আগামী অক্টোবর মাসে অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারেরও অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।
প্রশাসনের এই পরিবর্তন কেবল নতুন নিয়োগেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বর্তমান ধারা নিয়েও ভেতরে-বাইরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কর্মরত ৭৯ জন সচিবের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশ বা ২৩ জনই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত। এই হার নিয়ে প্রশাসনের নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ সালাহউদ্দিন এম আমিনুজ্জামানের মতে, বিশেষায়িত জ্ঞানসম্পন্ন মেধাবীদের প্রয়োজনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে, তবে এর সংখ্যা অত্যধিক হলে নিয়মিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির পথ সংকুচিত হয় এবং প্রশাসনে এক ধরনের হতাশা তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই প্রশাসনে বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযান ও পরিবর্তন শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিগত সরকারের আমলের অনেক প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে এবং অনেককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ১০ জন সচিব কোনো দাপ্তরিক দায়িত্ব ছাড়াই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। প্রশাসনের এই স্থবিরতা কাটাতে এবং গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নতুন নিয়োগ ও রদবদল অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব সরকারের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ হওয়ায় এই পদে কে আসছেন, তা নিয়ে সচিবালয়ের করিডোরে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। একই সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের পদটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান থেকেই প্রশাসনের বদলি ও পদোন্নতির সিদ্ধান্তগুলো নিয়ন্ত্রিত হয়। সরকার কি আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পথে হাঁটবে, নাকি নিয়মিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পদায়ন করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। প্রশাসনের এই সামগ্রিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমের কার্যকারিতা ও গতি।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি মাসেই; শূন্য পদ পূরণে চলছে তোড়জোড়।
বাংলাদেশের জনপ্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে আবারও বড় ধরনের রদবদলের জোর প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ হিসেবে পরিচিত মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ চলতি মাসেই শেষ হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সচিবের পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগস্ট মাসজুড়েই প্রশাসনের এই উচ্চপর্যায়ে নতুন মুখ আসার প্রক্রিয়ায় কর্মচাঞ্চল্য থাকবে।
বর্তমানে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে শূন্য পদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। চাকরির স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত ৩০ জুলাই গৃহায়ণ ও গণপূর্তসচিব মো. নজরুল ইসলামের পদটি শূন্য হয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের পদটিও বর্তমানে খালি রয়েছে। এছাড়া নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের পদটি শূন্য পড়ে আছে। আগামী অক্টোবর মাসে অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারেরও অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।
প্রশাসনের এই পরিবর্তন কেবল নতুন নিয়োগেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বর্তমান ধারা নিয়েও ভেতরে-বাইরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কর্মরত ৭৯ জন সচিবের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশ বা ২৩ জনই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত। এই হার নিয়ে প্রশাসনের নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ সালাহউদ্দিন এম আমিনুজ্জামানের মতে, বিশেষায়িত জ্ঞানসম্পন্ন মেধাবীদের প্রয়োজনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে, তবে এর সংখ্যা অত্যধিক হলে নিয়মিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির পথ সংকুচিত হয় এবং প্রশাসনে এক ধরনের হতাশা তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই প্রশাসনে বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযান ও পরিবর্তন শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিগত সরকারের আমলের অনেক প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে এবং অনেককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ১০ জন সচিব কোনো দাপ্তরিক দায়িত্ব ছাড়াই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। প্রশাসনের এই স্থবিরতা কাটাতে এবং গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নতুন নিয়োগ ও রদবদল অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব সরকারের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ হওয়ায় এই পদে কে আসছেন, তা নিয়ে সচিবালয়ের করিডোরে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। একই সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের পদটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান থেকেই প্রশাসনের বদলি ও পদোন্নতির সিদ্ধান্তগুলো নিয়ন্ত্রিত হয়। সরকার কি আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পথে হাঁটবে, নাকি নিয়মিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পদায়ন করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। প্রশাসনের এই সামগ্রিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমের কার্যকারিতা ও গতি।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন