পরিবেশ কন্ঠ

১২০ দিনের মধ্যে বিচারের নির্দেশ

গুমের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান: মন্ত্রিসভায় ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন পাশ


প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

গুমের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান: মন্ত্রিসভায় ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন পাশ
সংগৃহীত

অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড ও এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান; ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত ও বিচার শেষ করার বাধ্যবাধকতা।

বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। গুমের মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে কঠোর সাজার বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। আইনের এই কঠোর অবস্থান গুমের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত এই আইনে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য এবং জামিন-অযোগ্য গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আইনের মূল দিকগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যদি গুমের শিকার কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হয় কিংবা তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তবে অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা হবে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এছাড়া, যদি কোনো ভুক্তভোগী টানা পাঁচ বছর নিখোঁজ থাকেন এবং তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রেও একই শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সাধারণ গুমের অপরাধের ক্ষেত্রে সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বড় অঙ্কের অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অপরাধীকে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা রাখা হয়েছে আদালতের হাতে।

দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে এই আইনে কঠোর সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। গুম সংক্রান্ত যেকোনো মামলার তদন্ত সর্বোচ্চ ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং বিচারকার্যও একই সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। এটি ভুক্তভোগী পরিবারের দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে মুক্তির একটি সুনির্দিষ্ট প্রয়াস। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তদন্তের অগ্রগতি ভুক্তভোগীর পরিবারকে জানানোর অধিকারও এই আইনে স্বীকৃত।

আইনটিতে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারে আদালতের মাধ্যমে বিশেষ তল্লাশি পরোয়ানা জারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি আদালতের উপস্থিতিতে না থাকেন, তবে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকছে। এছাড়া ডিজিটাল সাক্ষ্যকে এই আইনে গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করা হয়েছে, যা অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। সাক্ষী, অভিযোগকারী ও তথ্য প্রদানকারীদের নিরাপত্তার জন্য কঠোর গোপনীয়তা রক্ষার বিধানও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইনটি শুধুমাত্র শাস্তি প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধানের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের পাশাপাশি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিশেষ তহবিল গঠনের বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি এবং পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের জন্য 'গুম সনদ' প্রদানের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের আগে আইনটির খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ কর্তৃক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়েছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


গুমের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান: মন্ত্রিসভায় ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন পাশ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড ও এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান; ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত ও বিচার শেষ করার বাধ্যবাধকতা।

বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। গুমের মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে কঠোর সাজার বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। আইনের এই কঠোর অবস্থান গুমের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত এই আইনে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য এবং জামিন-অযোগ্য গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আইনের মূল দিকগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যদি গুমের শিকার কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হয় কিংবা তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তবে অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা হবে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এছাড়া, যদি কোনো ভুক্তভোগী টানা পাঁচ বছর নিখোঁজ থাকেন এবং তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রেও একই শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সাধারণ গুমের অপরাধের ক্ষেত্রে সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বড় অঙ্কের অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অপরাধীকে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা রাখা হয়েছে আদালতের হাতে।

দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে এই আইনে কঠোর সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। গুম সংক্রান্ত যেকোনো মামলার তদন্ত সর্বোচ্চ ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং বিচারকার্যও একই সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। এটি ভুক্তভোগী পরিবারের দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে মুক্তির একটি সুনির্দিষ্ট প্রয়াস। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তদন্তের অগ্রগতি ভুক্তভোগীর পরিবারকে জানানোর অধিকারও এই আইনে স্বীকৃত।

আইনটিতে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারে আদালতের মাধ্যমে বিশেষ তল্লাশি পরোয়ানা জারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি আদালতের উপস্থিতিতে না থাকেন, তবে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকছে। এছাড়া ডিজিটাল সাক্ষ্যকে এই আইনে গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করা হয়েছে, যা অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। সাক্ষী, অভিযোগকারী ও তথ্য প্রদানকারীদের নিরাপত্তার জন্য কঠোর গোপনীয়তা রক্ষার বিধানও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইনটি শুধুমাত্র শাস্তি প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধানের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের পাশাপাশি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিশেষ তহবিল গঠনের বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি এবং পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের জন্য 'গুম সনদ' প্রদানের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের আগে আইনটির খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ কর্তৃক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়েছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ