পরিবেশ কন্ঠ

সোনিয়া সেহরাওয়াত: শিক্ষার্থীদের কটাক্ষ করে বিতর্কে আরএএফ কর্মকর্তা


প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সোনিয়া সেহরাওয়াত: শিক্ষার্থীদের কটাক্ষ করে বিতর্কে আরএএফ কর্মকর্তা
ভারতের ‘র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের’ কর্মকর্তা সোনিয়া সেহরাওয়াত। ছবি-এনডিটিভি

নিট প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের বিরোধিতা ও সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্যের দায়ে সমালোচনার মুখে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের এই কর্মকর্তা।

ভারতের কেন্দ্রীয় বিশেষায়িত বাহিনী র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট সোনিয়া সেহরাওয়াত এখন দেশটির সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। হরিয়ানার বাসিন্দা সোনিয়া পেশায় একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হলেও ভার্চুয়াল জগতে তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। ইনস্টাগ্রামে তার ৬ লাখেরও বেশি অনুসারী রয়েছে। তবে এই বিপুল জনপ্রিয়তাই এখন তার ক্যারিয়ারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ভারতের ‘জাতীয় যোগ্যতা ও প্রবেশিকা পরীক্ষা’ বা নিট (NEET)-এর প্রশ্নফাঁস নিয়ে চলমান বিতর্ক থেকে। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কটাক্ষ করে বিপাকে পড়েছেন তিনি। গত সোমবার শিক্ষার্থীরা দিল্লির লোকসভা ভবনের দিকে পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছিল সিআরপিএফের বিশেষ শাখা আরএএফ-কে। সোনিয়া সেহরাওয়াত সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্ব পালনের সময়ই তিনি তার ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একটি মৃত তেলাপোকার ছবি পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, ‘নিজেদের সংশোধন করতে পারে না, অথচ দেশ ঠিক করতে এসেছে!’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দল ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’কে উদ্দেশ্য করে করা এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে সোনিয়া দ্রুত পোস্টটি সরিয়ে ফেলেন। তবে ততক্ষণে বিতর্কের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে শান্তিকামী শিক্ষার্থীদের ‘তেলাপোকা’ ভাবা এবং পুলিশের বলপ্রয়োগকে সমর্থন করা অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মানসিকতার পরিচয়। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, শিক্ষার্থীদের মনোবল এভাবে দমন করা যাবে না।

ভারতের সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী, দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনো কর্মকর্তা জাতিগত গালিগালাজ বা কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে পারেন না। এছাড়া ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় সামাজিক মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু আচরণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সোনিয়ার প্রোফাইল ছবি এবং বিভিন্ন গ্ল্যামারাস ভিডিও বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে বলে মনে করছেন উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দ্য প্রিন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

বিতর্কের মুখে সোনিয়া সেহরাওয়াত অবশ্য নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন। এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আড়ালে কিছু সমাজবিরোধী ও উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি ঢুকে পড়েছিল। তারাই পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও কাঁচের বোতল নিক্ষেপ করেছে। নখের আঁচড়ের দাগ দেখিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিক্ষোভকারীদের হামলায় তিনি আহত হয়েছেন এবং তার হাতও ভেঙেছে। সোনিয়ার দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের নয় বরং বিশৃঙ্খলাকারীদের উদ্দেশ্য করেই ওই পোস্ট দিয়েছিলেন। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা বিতর্ক চলছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬


সোনিয়া সেহরাওয়াত: শিক্ষার্থীদের কটাক্ষ করে বিতর্কে আরএএফ কর্মকর্তা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬

featured Image


নিট প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের বিরোধিতা ও সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্যের দায়ে সমালোচনার মুখে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের এই কর্মকর্তা।

ভারতের কেন্দ্রীয় বিশেষায়িত বাহিনী র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট সোনিয়া সেহরাওয়াত এখন দেশটির সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। হরিয়ানার বাসিন্দা সোনিয়া পেশায় একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হলেও ভার্চুয়াল জগতে তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। ইনস্টাগ্রামে তার ৬ লাখেরও বেশি অনুসারী রয়েছে। তবে এই বিপুল জনপ্রিয়তাই এখন তার ক্যারিয়ারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ভারতের ‘জাতীয় যোগ্যতা ও প্রবেশিকা পরীক্ষা’ বা নিট (NEET)-এর প্রশ্নফাঁস নিয়ে চলমান বিতর্ক থেকে। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কটাক্ষ করে বিপাকে পড়েছেন তিনি। গত সোমবার শিক্ষার্থীরা দিল্লির লোকসভা ভবনের দিকে পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছিল সিআরপিএফের বিশেষ শাখা আরএএফ-কে। সোনিয়া সেহরাওয়াত সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্ব পালনের সময়ই তিনি তার ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একটি মৃত তেলাপোকার ছবি পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, ‘নিজেদের সংশোধন করতে পারে না, অথচ দেশ ঠিক করতে এসেছে!’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দল ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’কে উদ্দেশ্য করে করা এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে সোনিয়া দ্রুত পোস্টটি সরিয়ে ফেলেন। তবে ততক্ষণে বিতর্কের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে শান্তিকামী শিক্ষার্থীদের ‘তেলাপোকা’ ভাবা এবং পুলিশের বলপ্রয়োগকে সমর্থন করা অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মানসিকতার পরিচয়। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, শিক্ষার্থীদের মনোবল এভাবে দমন করা যাবে না।

ভারতের সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী, দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনো কর্মকর্তা জাতিগত গালিগালাজ বা কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে পারেন না। এছাড়া ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় সামাজিক মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু আচরণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সোনিয়ার প্রোফাইল ছবি এবং বিভিন্ন গ্ল্যামারাস ভিডিও বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে বলে মনে করছেন উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দ্য প্রিন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

বিতর্কের মুখে সোনিয়া সেহরাওয়াত অবশ্য নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন। এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আড়ালে কিছু সমাজবিরোধী ও উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি ঢুকে পড়েছিল। তারাই পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও কাঁচের বোতল নিক্ষেপ করেছে। নখের আঁচড়ের দাগ দেখিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিক্ষোভকারীদের হামলায় তিনি আহত হয়েছেন এবং তার হাতও ভেঙেছে। সোনিয়ার দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের নয় বরং বিশৃঙ্খলাকারীদের উদ্দেশ্য করেই ওই পোস্ট দিয়েছিলেন। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা বিতর্ক চলছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ