পরিবেশ কন্ঠ

সোনারগাঁয়ে নদীতে ডুবে তিন স্কুলশিক্ষার্থী নিখোঁজ


প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সোনারগাঁয়ে নদীতে ডুবে তিন স্কুলশিক্ষার্থী নিখোঁজ
পরিবেশ কন্ঠ

স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে আর ফেরা হলো না তিন কিশোরের, উদ্ধার অভিযানে ডুবুরি দল

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসলে নেমে তিন স্কুলশিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীর তীব্র স্রোতে তলিয়ে যায় তারা। নিখোঁজ হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুজন যমজ ভাই। নিখোঁজ কিশোররা হলো—মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিস এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুকের দুই ছেলে আরিফিন (১৫) ও আশিকিন (১৫) এবং একই এলাকার আব্দুল আলিনের ছেলে আবির (১৪)। তারা সবাই স্থানীয় মোগরাপাড়া এইচ জি জি এস স্মৃতি সরকারি বিদ্যায়তনের শিক্ষার্থী। 

জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় তারা। তবে ক্লাসে না গিয়ে চার বন্ধু মিলে ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, নদীতে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই স্রোতের টানে তারা তলিয়ে যেতে শুরু করে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা অপর এক বন্ধু কোনোমতে রক্ষা পেলেও বাকি তিনজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তাদের কোনো খোঁজ না মেলায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। 

খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিনের নেতৃত্বে ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঢাকা থেকে আসা বিশেষ ডুবুরি দল উদ্ধারকার্য পরিচালনা করছে। তবে নদীর গভীরতা ও পানির ঘোলাটে অবস্থার কারণে উদ্ধার তৎপরতায় বেগ পেতে হচ্ছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে। বৈদ্যের বাজার নৌ ফাঁড়ির পুলিশ এবং সোনারগাঁ থানা পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। 

ওসি মহাম্মদ আব্দুল বারিক জানিয়েছেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শোকার্ত স্বজনরা নদীর পাড়ে ভিড় করে আছেন প্রিয় সন্তানদের অপেক্ষায়। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি সচেতন মহলের মনে আবারও প্রশ্ন তুলছে, বর্ষা মৌসুমে অভিভাবকরা কতটা সজাগ থাকছেন তাদের সন্তানদের চলাফেরার বিষয়ে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বজনদের আর্তনাদে মেঘনার পাড় ভারী হয়ে আছে। 

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সোনারগাঁয়ে নদীতে ডুবে তিন স্কুলশিক্ষার্থী নিখোঁজ

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে আর ফেরা হলো না তিন কিশোরের, উদ্ধার অভিযানে ডুবুরি দল

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসলে নেমে তিন স্কুলশিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীর তীব্র স্রোতে তলিয়ে যায় তারা। নিখোঁজ হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুজন যমজ ভাই। নিখোঁজ কিশোররা হলো—মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিস এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুকের দুই ছেলে আরিফিন (১৫) ও আশিকিন (১৫) এবং একই এলাকার আব্দুল আলিনের ছেলে আবির (১৪)। তারা সবাই স্থানীয় মোগরাপাড়া এইচ জি জি এস স্মৃতি সরকারি বিদ্যায়তনের শিক্ষার্থী। 

জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় তারা। তবে ক্লাসে না গিয়ে চার বন্ধু মিলে ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, নদীতে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই স্রোতের টানে তারা তলিয়ে যেতে শুরু করে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা অপর এক বন্ধু কোনোমতে রক্ষা পেলেও বাকি তিনজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তাদের কোনো খোঁজ না মেলায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। 

খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিনের নেতৃত্বে ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঢাকা থেকে আসা বিশেষ ডুবুরি দল উদ্ধারকার্য পরিচালনা করছে। তবে নদীর গভীরতা ও পানির ঘোলাটে অবস্থার কারণে উদ্ধার তৎপরতায় বেগ পেতে হচ্ছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে। বৈদ্যের বাজার নৌ ফাঁড়ির পুলিশ এবং সোনারগাঁ থানা পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। 

ওসি মহাম্মদ আব্দুল বারিক জানিয়েছেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শোকার্ত স্বজনরা নদীর পাড়ে ভিড় করে আছেন প্রিয় সন্তানদের অপেক্ষায়। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি সচেতন মহলের মনে আবারও প্রশ্ন তুলছে, বর্ষা মৌসুমে অভিভাবকরা কতটা সজাগ থাকছেন তাদের সন্তানদের চলাফেরার বিষয়ে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বজনদের আর্তনাদে মেঘনার পাড় ভারী হয়ে আছে। 

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ