পরিবেশ কন্ঠ

মিটার ছাড়াই বিদ্যুৎ বিল! ‘ভুতুড়ে’ কাণ্ডে হতবাক গ্রাহক


অনলাইন ডেস্ক :
অনলাইন ডেস্ক :
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

মিটার ছাড়াই বিদ্যুৎ বিল! ‘ভুতুড়ে’ কাণ্ডে হতবাক গ্রাহক
সংগৃহীত

জামালপুরের মাদারগঞ্জে নতুন সংযোগ ও মিটার স্থাপনের আগেই গ্রাহকের নামে ৬৯২ টাকার বিল ইস্যু করায় চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর মাস শেষে বিল পরিশোধ করা সাধারণ নিয়ম হলেও জামালপুরের মাদারগঞ্জে ঘটেছে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। বাড়িতে মিটার স্থাপন কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগ—কোনোটিরই দেখা মেলেনি, অথচ গ্রাহকের হাতে পৌঁছে গেছে কয়েকশ টাকার বিদ্যুৎ বিল। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এমন ‘ভুতুড়ে’ বিলের কবলে পড়ে চরম বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক শ্রী নিমাই চন্দ্র সরকার।

ঘটনাটি ঘটেছে মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘরিয়া বাজার এলাকায়। ভুক্তভোগী নিমাই চন্দ্র সরকার জানান, তার বাড়িতে বর্তমানে দুটি আবাসিক ও দুটি বাণিজ্যিক মিটার সচল রয়েছে। নতুন আরেকটি মিটারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তিনি যথাযথ নিয়ম মেনে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু আবেদনের পর মিটার স্থাপন কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগের কোনো কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই তার নামে ৬৯২ টাকার একটি বিল ইস্যু করা হয়েছে। 

সরেজমিনে গত শুক্রবার তেঘরিয়া বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নিমাই চন্দ্র সরকারের বাড়িতে মোট চারটি মিটার ঝোলানো রয়েছে। নতুন মিটারের জন্য তিনি কেবল একটি ওয়্যারিং বোর্ড বা ফ্রেম তৈরি করে রেখেছেন। সেখানে কোনো মিটার নেই, এমনকি কোনো তারের সংযোগও দেওয়া হয়নি। অথচ আগস্ট মাসের বিদ্যুৎ বিলের কাগজ অনুযায়ী, এই সংযোগহীন মিটারের বিপরীতেই তাকে ৬৯২ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও চরম বিস্ময় ও হাস্যাস্পদ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যেখানে মিটারের অস্তিত্বই নেই, সেখানে বিলিং সফটওয়্যারে ব্যবহারের হিসাব কীভাবে যুক্ত হলো? তারা বলছেন, এটি বিদ্যুৎ বিভাগের চরম গাফিলতি এবং সাধারণ গ্রাহকদের হয়রানি করার একটি বড় প্রমাণ। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে তেঘরিয়া অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ মোখলেছুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অদ্ভুত এক দাবি করেন। তিনি বলেন, গ্রাহকের সাথে কথা বলেই এই বিল তৈরি করা হয়েছে। তবে সংযোগ ছাড়া বিল করা সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নের মুখে তিনি পরবর্তীতে একে ‘ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেন। এদিকে মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওএন্ডএম) আবু সালেহ মো. নাঈম এই অসংগতির জন্য সফটওয়্যার পরিবর্তনকে দায়ী করেন। তবে সংযোগহীন গ্রাহকের নামে বিল কেন জেনারেট হলো, তার কোনো যুতসই ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি।

মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিনও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি। তিনি কেবল জানান, মিটার ছাড়া বিল আসার বিষয়টি তার জানা নেই এবং সংশ্লিষ্ট ইনচার্জদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এমন দায়সারা জবাবে গ্রাহক মহলে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মিটার ছাড়াই বিদ্যুৎ বিল! ‘ভুতুড়ে’ কাণ্ডে হতবাক গ্রাহক

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জামালপুরের মাদারগঞ্জে নতুন সংযোগ ও মিটার স্থাপনের আগেই গ্রাহকের নামে ৬৯২ টাকার বিল ইস্যু করায় চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর মাস শেষে বিল পরিশোধ করা সাধারণ নিয়ম হলেও জামালপুরের মাদারগঞ্জে ঘটেছে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। বাড়িতে মিটার স্থাপন কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগ—কোনোটিরই দেখা মেলেনি, অথচ গ্রাহকের হাতে পৌঁছে গেছে কয়েকশ টাকার বিদ্যুৎ বিল। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এমন ‘ভুতুড়ে’ বিলের কবলে পড়ে চরম বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক শ্রী নিমাই চন্দ্র সরকার।

ঘটনাটি ঘটেছে মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘরিয়া বাজার এলাকায়। ভুক্তভোগী নিমাই চন্দ্র সরকার জানান, তার বাড়িতে বর্তমানে দুটি আবাসিক ও দুটি বাণিজ্যিক মিটার সচল রয়েছে। নতুন আরেকটি মিটারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তিনি যথাযথ নিয়ম মেনে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু আবেদনের পর মিটার স্থাপন কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগের কোনো কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই তার নামে ৬৯২ টাকার একটি বিল ইস্যু করা হয়েছে। 

সরেজমিনে গত শুক্রবার তেঘরিয়া বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নিমাই চন্দ্র সরকারের বাড়িতে মোট চারটি মিটার ঝোলানো রয়েছে। নতুন মিটারের জন্য তিনি কেবল একটি ওয়্যারিং বোর্ড বা ফ্রেম তৈরি করে রেখেছেন। সেখানে কোনো মিটার নেই, এমনকি কোনো তারের সংযোগও দেওয়া হয়নি। অথচ আগস্ট মাসের বিদ্যুৎ বিলের কাগজ অনুযায়ী, এই সংযোগহীন মিটারের বিপরীতেই তাকে ৬৯২ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও চরম বিস্ময় ও হাস্যাস্পদ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যেখানে মিটারের অস্তিত্বই নেই, সেখানে বিলিং সফটওয়্যারে ব্যবহারের হিসাব কীভাবে যুক্ত হলো? তারা বলছেন, এটি বিদ্যুৎ বিভাগের চরম গাফিলতি এবং সাধারণ গ্রাহকদের হয়রানি করার একটি বড় প্রমাণ। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে তেঘরিয়া অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ মোখলেছুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অদ্ভুত এক দাবি করেন। তিনি বলেন, গ্রাহকের সাথে কথা বলেই এই বিল তৈরি করা হয়েছে। তবে সংযোগ ছাড়া বিল করা সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নের মুখে তিনি পরবর্তীতে একে ‘ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেন। এদিকে মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওএন্ডএম) আবু সালেহ মো. নাঈম এই অসংগতির জন্য সফটওয়্যার পরিবর্তনকে দায়ী করেন। তবে সংযোগহীন গ্রাহকের নামে বিল কেন জেনারেট হলো, তার কোনো যুতসই ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি।

মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিনও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি। তিনি কেবল জানান, মিটার ছাড়া বিল আসার বিষয়টি তার জানা নেই এবং সংশ্লিষ্ট ইনচার্জদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এমন দায়সারা জবাবে গ্রাহক মহলে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ