পরিবেশ কন্ঠ

আর্কাইভ দেখুন

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সংসদ ভবনে দোয়া মাহফিল

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সংসদ ভবনে দোয়া মাহফিল

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে দেশ ও জাতির শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উদ্যোগে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বাদ জোহর জাতীয় সংসদ ভবন মসজিদে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।  পরে দোয়া ও মোনাজাতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত আরোগ্য ও বিভিন্ন সময়ে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী ব্যক্তিবর্গের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। এ সময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, চিফ হুইপ, হুইপবৃন্দ ও সংসদ সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু প্রার্থনার পাশাপাশি দেশের সার্বিক শান্তি, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।  একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের সফলতা এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় মহান আল্লাহ তায়ালার রহমত প্রার্থনা করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় মসজিদের সিনিয়র ইমাম মো. আবু রায়হান পবিত্র দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্যগণ, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরি-কন্ঠ /মুয়াজ


প্রথম ধাপে ১০৫০ ইউপিতে ভোট: ইসি সচিব

প্রথম ধাপে ১০৫০ ইউপিতে ভোট: ইসি সচিব

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। রবিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।  আখতার আহমেদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০টিতে ভোট হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়নগুলোকে আগে রাখা হচ্ছে, এর কিছু বেশি ইউনিয়ন নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি বলেন, ছয় বছর বয়স থেকে এনআইডিতে তথ্য নিবন্ধনের কথা ভাবা হচ্ছে। আলোচনা করছি প্রাথমিক শিক্ষায় ঢোকার সময় যেই তথ্য দেওয়া হয় সেই তথ্য নিয়ে আমরা ডেটাবেইজ করবো। ইসি সচিব বলেন, ইভিএম আমরা ব্যবহার করবো না। এগুলো ডিজপোজাল করতে ফাইনাল স্টক টেকিং শুরু করেছি। কি পদ্ধতিতে ডিজপোজ করবো সে বিষয়ে সুপারিশ পাওয়ার পর বলতে পারবো।


সোনারগাঁয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসককে মারধরের চেষ্টা, আনসারের হাতে আটক ১

সোনারগাঁয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসককে মারধরের চেষ্টা, আনসারের হাতে আটক ১

হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে এক চিকিৎসককে মারধরের চেষ্টা করেছেন এক ব্যক্তি। এ সময় তাঁর উত্তেজিত আচরণ ও হামলার চেষ্টায় হাসপাতালজুড়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে রক্ষা পান চিকিৎসক। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের ১০১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। আক্রান্ত চিকিৎসক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মুস্তাফিজুর রহমান।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশ করে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে চিকিৎসকের টেবিলে থাপ্পড় মারেন এবং তাঁকে মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে যান। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সেখানে দায়িত্ব পালনরত আনসার প্লাটুন কমান্ডার (এপিসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও আনসার সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন দ্রুত এগিয়ে আসেন। তাঁদের সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে ওই ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়।আটক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন (৪০) সোনারগাঁ উপজেলার ষোলপাড়া গ্রামের মোসলেম বেপারীর ছেলে।ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে আটক ব্যক্তিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে একজন চিকিৎসককে যদি হামলার মুখে পড়তে হয়, তাহলে সাধারণ রোগী ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।পরি-কন্ঠ/ মুয়াজ


প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, নাকি জনগণের প্রভু?

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, নাকি জনগণের প্রভু?

বাংলাদেশের সরকারি আমলারা রাষ্ট্রীয় পরিভাষায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী এবং জনগণের সেবক। অথচ বাস্তব চিত্র যেন সম্পূর্ণ বিপরীত। তাদের অনেকের আচরণ ও কর্মকাণ্ডে এমন একটি মানসিকতার প্রকাশ ঘটে, যেন তারাই রাষ্ট্রের মালিক, আর সাধারণ জনগণ তাদের অনুগ্রহপ্রার্থী। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের একটি অংশই যেন ভুলে গেছেন যে, রাষ্ট্র তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় এবং জনগণ তাদের অধীনস্থ প্রজা নয়।বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। গণতন্ত্রের মূল দর্শন হচ্ছে - রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিনির্ধারণ করবেন এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা সেই নীতি ও আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। অর্থাৎ জনপ্রতিনিধিরা জনগণের কাছে রাজনৈতিকভাবে দায়বদ্ধ থাকবেন এবং সরকারি কর্মচারীরা আইন, বিধিবিধান ও সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনে দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই স্বাভাবিক ব্যবস্থার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই এক ধরনের অস্বাভাবিক ভারসাম্যহীনতা বিরাজ করছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আড়ালে ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্ব।জনপ্রতিনিধি আছেন, কিন্তু ক্ষমতা কোথায়?বাংলাদেশের সংবিধানের ১১ ও ৫৯ অনুচ্ছেদে গণতন্ত্র, প্রশাসনের সব পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কার্যকর অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থার সাংবিধানিক ভিত্তি স্বীকৃত হয়েছে। অথচ বাস্তবে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতা ও কার্যকর কর্তৃত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান রয়েছেন, জেলা পরিষদেও নির্বাচিত নেতৃত্বের ব্যবস্থা রয়েছে। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় রয়েছেন নির্বাচিত মেয়র এবং ইউনিয়ন পরিষদে রয়েছেন নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। কিন্তু তাদের অনেকেরই বাস্তব ক্ষমতা, প্রশাসনিক কর্তৃত্ব এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত সীমিত।বিশেষ করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের অবস্থার দিকে তাকালে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। তারা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে অথবা আইন নির্ধারিত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধি। অথচ তাদের অধীনস্থ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে সরকারি কর্মকর্তাদের কর্তৃত্ব অনেক ক্ষেত্রেই বেশি দৃশ্যমান। ফলে জনপ্রতিনিধিরা অনেক সময় নামমাত্র পদে অধিষ্ঠিত থাকলেও বাস্তবে তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সক্ষমতা থাকে না বললেই চলে।এ যেন এক অদ্ভুত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা - জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি আছেন, কিন্তু তার হাতে কার্যকর ক্ষমতা নেই; অন্যদিকে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত নন, এমন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হাতেই রয়েছে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা।সাংসদ, মন্ত্রী ও আমলাতন্ত্রের ক্ষমতার সমীকরণএই সমস্যার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যকার ক্ষমতার সম্পর্ক।সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিনিধি। তাদের দায়িত্ব আইন প্রণয়ন, রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তারকে তারা নিজেদের রাজনৈতিক কর্তৃত্বের অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন।অন্যদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরাও নিজ নিজ এলাকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। ফলে তাদের সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব নিয়ে বিরোধ বা প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।এখানেই আমলাতন্ত্রের জন্য একটি বিশেষ সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। একজন সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তার সম্পর্ক অনেক সময় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। কিন্তু একজন নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান বা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সম্পর্ক আইন দ্বারা নির্ধারিত দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকার কথা।ফলে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিংবা জেলা প্রশাসক (ডিসি) নির্বাচিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ গুরুত্ব দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। জনপ্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত, মতামত কিংবা সুপারিশ উপেক্ষিত হওয়ার অভিযোগও ওঠে।অবশ্য সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীরও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে হুকুম দেওয়ার সীমাহীন ক্ষমতা নেই। তাদের প্রত্যেকের ক্ষমতা সংবিধান ও আইন দ্বারা নির্ধারিত। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতার নৈকট্য এবং প্রশাসনিক আনুগত্যের সমীকরণ অনেক সময় আইনসম্মত ক্ষমতার সীমারেখাকেও অস্পষ্ট করে তোলে।ফলে জনপ্রতিনিধিত্বের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এবং প্রশাসন জনগণের পরিবর্তে ক্ষমতাবান মহলের প্রতি অধিক মনোযোগী হয়ে ওঠার সুযোগ পায়।আমলাতন্ত্রের ক্ষমতা বৃদ্ধির ঐতিহাসিক পটভূমিবাংলাদেশের আমলাতন্ত্রের অস্বাভাবিক ক্ষমতা ও প্রভাব বৃদ্ধির পেছনে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।স্বাধীনতার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক অভ্যুত্থান এবং অগণতান্ত্রিক শাসনামলে রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে সামরিক শাসকরা নিজেদের শাসনকে স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য করার প্রয়োজনে প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।সামরিক শাসনামলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব ও নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে তাদের ক্ষমতা, পদমর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হয়। এর ফলে একটি শক্তিশালী আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, যার প্রভাব পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর আমলেও পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি।এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন দেখা দেয় - যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় সামরিক শাসনের সময় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শাসন পরিচালিত হয়েছে, সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও জনপ্রতিনিধিত্বমূলক প্রশাসন গড়ে তোলা কতটা সহজ?দুর্ভাগ্যজনকভাবে, নির্বাচিত সরকারগুলোও অনেক সময় প্রশাসনিক কাঠামোর মৌলিক সংস্কার না করে বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপরই নির্ভর করেছে। ফলে সরকার পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু প্রশাসনিক ক্ষমতার সংস্কৃতি ও মানসিকতার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটেনি।জনগণের সেবার পরিবর্তে ক্ষমতার প্রদর্শনআমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্বের সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সাধারণ জনগণের ওপর।একজন নাগরিককে একটি সাধারণ নাগরিক সনদ, জমির নামজারি, জন্মনিবন্ধন, সরকারি ভাতা কিংবা অন্য কোনো সেবা পেতে গিয়ে কখনো কখনো একাধিক দপ্তরে ঘুরতে হয়। ফাইলের পর ফাইল আটকে থাকে, সিদ্ধান্ত পেতে অযথা বিলম্ব হয়, আর কোথাও কোথাও ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।অথচ একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছে নাগরিক কোনো করুণাপ্রার্থী নন। তিনি রাষ্ট্রের মালিক জনগণেরই একজন সদস্য। সরকারি কর্মকর্তা তার কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া তো দূরের কথা, তাকে যথাযথ সেবা প্রদান করতে আইনত ও নৈতিকভাবে বাধ্য।একজন ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক থেকে শুরু করে একজন ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক কিংবা সাধারণ চাকরিজীবী - সবারই প্রশাসনের কাছে সমান মর্যাদা ও সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।কিন্তু প্রশাসনের কোনো কোনো স্তরে এমন আচরণ দেখা যায়, যেন সরকারি দপ্তরে জনগণের প্রবেশাধিকার একটি বিশেষ অনুগ্রহ এবং কর্মকর্তার সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে জনগণের প্রকৃত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।জবাবদিহিতা ছাড়া ক্ষমতা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনকএকটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতার সঙ্গে জবাবদিহিতা অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে জবাবদিহি করেন। কিন্তু প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার ব্যবস্থাও সমানভাবে কার্যকর হওয়া প্রয়োজন।সরকারি কর্মকর্তারা কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মচারী নন, কোনো মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত কর্মচারীও নন। তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। তাদের আনুগত্য থাকতে হবে সংবিধান, প্রচলিত আইন, বিধিবিধান এবং জনগণের প্রতি অর্পিত দায়িত্বের প্রতি।একজন কর্মকর্তা যদি ক্ষমতাবান ব্যক্তির অন্যায় নির্দেশ মানতে বাধ্য হন, কিন্তু সাধারণ নাগরিকের ন্যায্য আবেদন উপেক্ষা করেন, তাহলে সেটি আর জনমুখী প্রশাসন থাকে না। সেটি হয়ে ওঠে ক্ষমতাকেন্দ্রিক প্রশাসন।একইভাবে জনপ্রতিনিধিদেরও প্রশাসনের ওপর বেআইনি হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকা উচিত নয়। কারণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অর্থ একজনের স্বেচ্ছাচারিতার পরিবর্তে আরেকজনের স্বেচ্ছাচারিতা প্রতিষ্ঠা করা নয়; বরং প্রত্যেকের ক্ষমতাকে আইন ও জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা।সমাধান কোথায়?বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমলাতন্ত্র ও জনপ্রতিনিধিত্বের মধ্যে ক্ষমতার সাংবিধানিক ও আইনগত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য।প্রথমত, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইন অনুযায়ী কার্যকর ক্ষমতা, পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব দিতে হবে।দ্বিতীয়ত, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আইনসম্মত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদেরও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপর বেআইনি নির্দেশ বা ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বন্ধ করতে হবে।তৃতীয়ত, সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও যোগ্যতাভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।চতুর্থত, সরকারি দপ্তরে ঘুষ, দুর্নীতি, হয়রানি ও দায়িত্বে অবহেলার বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযোগ ও প্রতিকারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নাগরিক যেন সহজেই জানতে পারেন, তার আবেদন কোথায় আটকে আছে এবং কোন কর্মকর্তা তার জন্য দায়ী।পঞ্চমত, সরকারি কর্মকর্তাদের মনে এই বোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে যে, তাদের পদমর্যাদা জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রদর্শনের জন্য নয়; বরং জনগণের সেবা করার দায়িত্ব পালনের জন্য।বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো - আমরা গণতন্ত্র চাই, কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে পারিনি। আমরা জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করি, কিন্তু তাদের কার্যকর দায়িত্ব ও ক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারি না। আমরা সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের সেবক বলি, কিন্তু তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বারবার ব্যর্থ হই।মনে রাখতে হবে, একজন জেলা প্রশাসক কিংবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাই হোন না কেন, তারা রাষ্ট্রের মালিক নন। একইভাবে একজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও আইনের ঊর্ধ্বে নন।রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিনির্ধারণ করবেন, আর প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা আইন অনুযায়ী সেই রাষ্ট্র পরিচালনায় সহায়তা করবেন - এটাই হওয়া উচিত একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের স্বাভাবিক ব্যবস্থা।আমলারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, জনগণের সেবক:  কোনোভাবেই জনগণের প্রভু ননবাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকার পরিবর্তন করলেই চলবে না; পরিবর্তন করতে হবে ক্ষমতার সংস্কৃতি, প্রশাসনিক মানসিকতা এবং জবাবদিহিতার কাঠামো। অন্যথায় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হলেও জনগণের ওপর আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্বের অবসান ঘটবে না।গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন একজন সাধারণ নাগরিক রাষ্ট্রীয় দপ্তরে গিয়ে নিজেকে প্রজা নয়, রাষ্ট্রের একজন সম্মানিত মালিক হিসেবে অনুভব করবেন।লেখক: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট, জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটি এবং ওয়ার্ল্ড পীস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস সোসাইটির চেয়ারম্যান।


গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে ফিরোজ আলমের প্রার্থী ঘোষণা

গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে ফিরোজ আলমের প্রার্থী ঘোষণা

গজারিয়ায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ফুটবল বিতরণ

গজারিয়ায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ফুটবল বিতরণ

২০২৭ থেকে সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ও জানুয়ারিতে এসএসসি: শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা

২০২৭ থেকে সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ও জানুয়ারিতে এসএসসি: শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা

গজারিয়া পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

গজারিয়া পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

রামিসার কান্না কি শুধু আরেকটি শিরোনাম হয়েই থাকবে?

রামিসার কান্না কি শুধু আরেকটি শিরোনাম হয়েই থাকবে?

বাংলাদেশে আবাসন শিল্পের অবদান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বাংলাদেশে আবাসন শিল্পের অবদান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে রংপুর বিভাগে একযোগে বৃক্ষরোপণ

সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে রংপুর বিভাগে একযোগে বৃক্ষরোপণ

টাঙ্গাইলে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুনের অভিযোগ, ময়নাতদন্ত চলছে

টাঙ্গাইলে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুনের অভিযোগ, ময়নাতদন্ত চলছে

২৫মে বিশ্ব থাইরয়েড দিবস- সচেতনতার বার্তা নিয়ে পালিত হলো বিশ্ব থাইরয়েড দিবস-২০২৬

২৫মে বিশ্ব থাইরয়েড দিবস- সচেতনতার বার্তা নিয়ে পালিত হলো বিশ্ব থাইরয়েড দিবস-২০২৬

 মাগুরার মহম্মদপুরের দুই গ্রামে শত শত মানুষের হাহাকার

মাগুরার মহম্মদপুরের দুই গ্রামে শত শত মানুষের হাহাকার