পরিবেশ কন্ঠ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি

সৌরবিদ্যুৎ বিক্রি করে আয় করুন: প্রতি ইউনিট ১০.৫০ টাকা

পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎসাহিত করতে বিশেষ উদ্যোগ সরকারের; ২০২৭ সালের মধ্যে সোলার প্যানেল স্থাপনকারীরা পাবেন এই আর্থিক সুবিধা।দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। এখন থেকে সাধারণ মানুষ তাদের বাসাবাড়ির ছাদে উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন। মঙ্গলবার এক সরকারি নির্দেশনায় এই বিদ্যুতের বিক্রয়মূল্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ গ্রাহকরা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি উপার্জনের একটি নতুন পথ খুঁজে পাবেন। দীর্ঘ বিচার-বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন দরপত্রের মূল্য পর্যালোচনার পর এই মূল্যমান চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ টাকা। এই ব্যয়ের সাথে ২০ শতাংশ লভ্যাংশ এবং ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে চূড়ান্ত মূল্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। মূলত সাধারণ মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহী করে তুলতেই এই আকর্ষণীয় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এই নতুন নীতিমালার আওতায় যারা নিজেদের ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপন করবেন, তারা নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে পাঠাতে পারবেন। তবে এই আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ সালের মধ্যে যারা সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করবেন, কেবলমাত্র তারাই এই নির্ধারিত দরে বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ পাবেন। বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এটি একদিকে যেমন কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপের ভারও লাঘব করবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই সময়ে এমন টেকসই সমাধান দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। সাধারণ নাগরিকদের এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে জ্বালানি খাতে এক ধরনের গণবিপ্লব ঘটাতে চায় সরকার। উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও এখন সাধারণ মানুষের বাড়ির ছাদ হয়ে উঠবে একেকটি ছোট বিদ্যুৎ কেন্দ্র। পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

সৌরবিদ্যুৎ বিক্রি করে আয় করুন: প্রতি ইউনিট ১০.৫০ টাকা