ঢাকা, ৪ জুন ২০২৬: তীব্র গরম আর লোডশেডিং—সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। একদিকে দেশের অর্থনৈতিক ও শিল্পায়নের চাকা সচল রাখতে বিদ্যুতের চাহিদা আকাশচুম্বী, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে আসা। এই দুই সংকটের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দেশ এখন এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ঘাটতি বা পাওয়ার ডেফিসিটের কারণে গ্রামীণ জনপদ তো বটেই, বড় বড় কলকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।
এই জ্বালানি সংকট থেকে স্থায়ী মুক্তির এবং পরিবেশ রক্ষার একমাত্র টেকসই পথ হতে পারে ‘সবুজ শক্তি’ বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি (Renewable Energy)। কিন্তু প্রশ্ন হলো, জীবাশ্ম জ্বালানি বা কয়লা-গ্যাস নির্ভর বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিড়ে বাংলাদেশ কি পারবে শতভাগ গ্রিন এনার্জির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে?
(সৌরবিদ্যুত) Solar Energy১. জীবাশ্ম জ্বালানির সীমাবদ্ধতা এবং বর্তমান সংকট
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের প্রায় সিংহভাগই তেল, গ্যাস এবং আমদানিকৃত কয়লার ওপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য এই জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuels) সবচেয়ে বেশি দায়ী হলেও, দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে এগুলোকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ডলার সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে জ্বালানি আমদানি করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদনের অবকাঠামো থাকার পরও কাঁচামালের অভাবে অনেক কেন্দ্র চালু রাখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি আমাদের পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে যে, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সময় এখনই।
২. বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের অফুরন্ত সম্ভাবনা ও বাস্তব চিত্র
আমাদের দেশে নবায়নযোগ্য শক্তির সবচেয়ে বড় এবং নির্ভরযোগ্য উৎস হলো সূর্যলোক বা সৌরশক্তি (Solar Energy)। ইতিমধ্যে সরকারের ‘ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ’ (Rooftop Solar) এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ‘সোলার হোম সিস্টেম’ বেশ সাড়া ফেলেছে।
তবে গ্রিড-সংযুক্ত বা বড় আকারের সোলার পার্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জমির অভাব। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় সোলার প্যানেল বসানোর জন্য বিশাল খালি অকৃষি জমি পাওয়া বেশ কঠিন। তাসত্ত্বেও নদীমাতৃক এই দেশে চরাঞ্চল, পরিত্যক্ত ল্যান্ডফিল এবং পুকুর বা জলাশয়ের ওপর ‘ভাসমান সোলার প্যানেল’ (Floating Solar) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সমস্যার দারুণ সমাধান করা সম্ভব।
৩. বায়ুবিদ্যুৎ (Wind Energy): অবহেলিত এক সম্ভাবনা
বাংলাদেশের প্রায় ৭২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চল রয়েছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে বায়ুবিদ্যুৎ বা উইন্ড এনার্জির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। কক্সবাজার, কুয়াকাটা বা সোনাগাজীর মতো উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ইতিমধ্যে ছোট আকারে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প সফলভাবে কাজ করছে। যদি অফশোর (সমুদ্রের গভীরে) উইন্ড টারবাইন স্থাপনে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করা যায়, তবে জাতীয় গ্রিডে বড় অঙ্কের পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব, যা শীত-গ্রীষ্ম সব ঋতুতেই নিরবচ্ছিন্ন শক্তি জোগাবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রধান ৩টি সুবিধা:
৪. বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ (Waste-to-Energy): পরিবেশ রক্ষা ও জ্বালানি
ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার টন বর্জ্য বা ময়লা তৈরি হয়, যা পরিবেশ, চারপাশ এবং বায়ুর গুণমান মারাত্মকভাবে নষ্ট করছে। এই বর্জ্যকে যদি সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ‘বায়োগ্যাস’ বা ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ’ উৎপাদন প্রকল্পে রূপান্তর করা যায়, তবে দুটি সমস্যার সমাধান একসাথে হবে। একদিকে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সহজ ও পরিবেশবান্ধব হবে, অন্যদিকে উৎপাদিত গ্যাস বা বিদ্যুৎ স্থানীয় গ্রিডের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে।
৫. নীতিনির্ধারণী চ্যালেঞ্জ ও আমাদের ভবিষ্যৎ
সরকার আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি বড় অংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, গ্রিড লাইনের আধুনিকায়ন না হওয়া এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণের সহজলভ্যতার অভাব বড় বাধা। আমাদের দীর্ঘমেয়াদী ‘ডেল্টা প্ল্যান’ বা বদ্বীপ পরিকল্পনার সাথে এই সবুজ শক্তি রূপান্তরকে (Green Energy Transition) অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যুক্ত করতে হবে।
সংকট উত্তরণে করণীয়: ৫টি বাস্তবমুখী পদক্ষেপ
গ্রিন ইনসেন্টিভ বা কর মওকুফ: সোলার প্যানেল, ইনভার্টার বা বায়ুবিদ্যুতের যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ও কর সম্পূর্ণ মওকুফ করা উচিত, যাতে সাধারণ মানুষ ও শিল্পমালিকরা নিজ উদ্যোগে এটি ব্যবহারে উৎসাহিত হন।
স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি: আমাদের প্রচলিত জাতীয় গ্রিডকে ‘স্মার্ট গ্রিড’-এ রূপান্তর করতে হবে, যা সৌর বা বায়ুবিদ্যুতের মতো পরিবর্তনশীল শক্তিকে সহজে গ্রহণ ও বন্টন করতে পারে।
কৃষিতে সোলার সেচ পাম্প: দেশের লাখ লাখ ডিজেলচালিত সেচ পাম্পকে সোলার পাম্পে রূপান্তর করলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার জ্বালানি তেল সাশ্রয় হবে এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে।
আঞ্চলিক সহযোগিতা: নেপাল ও ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে পরিবেশবান্ধব জলবিদ্যুৎ (Hydro-power) আমদানির প্রক্রিয়া আরও জোরদার করতে হবে।
উপসংহার
বিদ্যুৎ সংকট দূর করে দেশের শিল্পায়নকে সচল রাখতে এবং একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে প্রকৃতিকে বাঁচাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। মেগা প্রজেক্টের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি আকারের গ্রিন এনার্জি প্রজেক্টে সরকারি-বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগ (PPP) বাড়াতে হবে। তবেই পরিবেশ রক্ষা করে বাংলাদেশ একটি টেকসই এবং স্বনির্ভর জ্বালানি খাত গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬
ঢাকা, ৪ জুন ২০২৬: তীব্র গরম আর লোডশেডিং—সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। একদিকে দেশের অর্থনৈতিক ও শিল্পায়নের চাকা সচল রাখতে বিদ্যুতের চাহিদা আকাশচুম্বী, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে আসা। এই দুই সংকটের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দেশ এখন এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ঘাটতি বা পাওয়ার ডেফিসিটের কারণে গ্রামীণ জনপদ তো বটেই, বড় বড় কলকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।
এই জ্বালানি সংকট থেকে স্থায়ী মুক্তির এবং পরিবেশ রক্ষার একমাত্র টেকসই পথ হতে পারে ‘সবুজ শক্তি’ বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি (Renewable Energy)। কিন্তু প্রশ্ন হলো, জীবাশ্ম জ্বালানি বা কয়লা-গ্যাস নির্ভর বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিড়ে বাংলাদেশ কি পারবে শতভাগ গ্রিন এনার্জির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে?
(সৌরবিদ্যুত) Solar Energy১. জীবাশ্ম জ্বালানির সীমাবদ্ধতা এবং বর্তমান সংকট
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের প্রায় সিংহভাগই তেল, গ্যাস এবং আমদানিকৃত কয়লার ওপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য এই জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuels) সবচেয়ে বেশি দায়ী হলেও, দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে এগুলোকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ডলার সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে জ্বালানি আমদানি করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদনের অবকাঠামো থাকার পরও কাঁচামালের অভাবে অনেক কেন্দ্র চালু রাখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি আমাদের পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে যে, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সময় এখনই।
২. বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের অফুরন্ত সম্ভাবনা ও বাস্তব চিত্র
আমাদের দেশে নবায়নযোগ্য শক্তির সবচেয়ে বড় এবং নির্ভরযোগ্য উৎস হলো সূর্যলোক বা সৌরশক্তি (Solar Energy)। ইতিমধ্যে সরকারের ‘ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ’ (Rooftop Solar) এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ‘সোলার হোম সিস্টেম’ বেশ সাড়া ফেলেছে।
তবে গ্রিড-সংযুক্ত বা বড় আকারের সোলার পার্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জমির অভাব। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় সোলার প্যানেল বসানোর জন্য বিশাল খালি অকৃষি জমি পাওয়া বেশ কঠিন। তাসত্ত্বেও নদীমাতৃক এই দেশে চরাঞ্চল, পরিত্যক্ত ল্যান্ডফিল এবং পুকুর বা জলাশয়ের ওপর ‘ভাসমান সোলার প্যানেল’ (Floating Solar) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সমস্যার দারুণ সমাধান করা সম্ভব।
৩. বায়ুবিদ্যুৎ (Wind Energy): অবহেলিত এক সম্ভাবনা
বাংলাদেশের প্রায় ৭২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চল রয়েছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে বায়ুবিদ্যুৎ বা উইন্ড এনার্জির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। কক্সবাজার, কুয়াকাটা বা সোনাগাজীর মতো উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ইতিমধ্যে ছোট আকারে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প সফলভাবে কাজ করছে। যদি অফশোর (সমুদ্রের গভীরে) উইন্ড টারবাইন স্থাপনে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করা যায়, তবে জাতীয় গ্রিডে বড় অঙ্কের পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব, যা শীত-গ্রীষ্ম সব ঋতুতেই নিরবচ্ছিন্ন শক্তি জোগাবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রধান ৩টি সুবিধা:
৪. বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ (Waste-to-Energy): পরিবেশ রক্ষা ও জ্বালানি
ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার টন বর্জ্য বা ময়লা তৈরি হয়, যা পরিবেশ, চারপাশ এবং বায়ুর গুণমান মারাত্মকভাবে নষ্ট করছে। এই বর্জ্যকে যদি সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ‘বায়োগ্যাস’ বা ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ’ উৎপাদন প্রকল্পে রূপান্তর করা যায়, তবে দুটি সমস্যার সমাধান একসাথে হবে। একদিকে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সহজ ও পরিবেশবান্ধব হবে, অন্যদিকে উৎপাদিত গ্যাস বা বিদ্যুৎ স্থানীয় গ্রিডের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে।
৫. নীতিনির্ধারণী চ্যালেঞ্জ ও আমাদের ভবিষ্যৎ
সরকার আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি বড় অংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, গ্রিড লাইনের আধুনিকায়ন না হওয়া এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণের সহজলভ্যতার অভাব বড় বাধা। আমাদের দীর্ঘমেয়াদী ‘ডেল্টা প্ল্যান’ বা বদ্বীপ পরিকল্পনার সাথে এই সবুজ শক্তি রূপান্তরকে (Green Energy Transition) অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যুক্ত করতে হবে।
সংকট উত্তরণে করণীয়: ৫টি বাস্তবমুখী পদক্ষেপ
গ্রিন ইনসেন্টিভ বা কর মওকুফ: সোলার প্যানেল, ইনভার্টার বা বায়ুবিদ্যুতের যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ও কর সম্পূর্ণ মওকুফ করা উচিত, যাতে সাধারণ মানুষ ও শিল্পমালিকরা নিজ উদ্যোগে এটি ব্যবহারে উৎসাহিত হন।
স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি: আমাদের প্রচলিত জাতীয় গ্রিডকে ‘স্মার্ট গ্রিড’-এ রূপান্তর করতে হবে, যা সৌর বা বায়ুবিদ্যুতের মতো পরিবর্তনশীল শক্তিকে সহজে গ্রহণ ও বন্টন করতে পারে।
কৃষিতে সোলার সেচ পাম্প: দেশের লাখ লাখ ডিজেলচালিত সেচ পাম্পকে সোলার পাম্পে রূপান্তর করলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার জ্বালানি তেল সাশ্রয় হবে এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে।
আঞ্চলিক সহযোগিতা: নেপাল ও ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে পরিবেশবান্ধব জলবিদ্যুৎ (Hydro-power) আমদানির প্রক্রিয়া আরও জোরদার করতে হবে।
উপসংহার
বিদ্যুৎ সংকট দূর করে দেশের শিল্পায়নকে সচল রাখতে এবং একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে প্রকৃতিকে বাঁচাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। মেগা প্রজেক্টের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি আকারের গ্রিন এনার্জি প্রজেক্টে সরকারি-বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগ (PPP) বাড়াতে হবে। তবেই পরিবেশ রক্ষা করে বাংলাদেশ একটি টেকসই এবং স্বনির্ভর জ্বালানি খাত গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

আপনার মতামত লিখুন