পরিবেশ কন্ঠ

ফজরের পর যেসব দোয়া ও আমল করবেন


প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ফজরের পর যেসব দোয়া ও আমল করবেন
ছবি: সংগৃহীত

রাতের নিস্তব্ধতা পেরিয়ে যখন পূর্ব আকাশে আলোর আভা ফুটতে শুরু করে, তখনই মুমিনের দিন শুরু হয় আল্লাহর স্মরণে। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের প্রথমটি ফজর—যে নামাজ ঘুমের আরাম ছেড়ে বান্দাকে রবের দরবারে হাজির হওয়ার আহ্বান জানায়। ফজরের নামাজ শুধু দিনের প্রথম ইবাদত নয়; এর রয়েছে বিশেষ মর্যাদা ও অসংখ্য ফজিলত। জামাতের সঙ্গে ফজর আদায় করা মুমিনের জন্য যেমন সৌভাগ্যের, তেমনি এ নামাজের মাধ্যমে সে আল্লাহর নিরাপত্তা ও বিশেষ রহমতের অধিকারী হয়।

প্রিয় নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করল, সে আল্লাহর নিরাপত্তা লাভ করল।’ (সহিহ্ মুসলিম: ১৩৮০)। শুধু তা-ই নয়, যারা ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করেন, ফেরেশতারা আল্লাহর দরবারে তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দেন।

ফজরের নামাজের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়টি বিশেষ বরকত ও সওয়াবের সময়। এই সময়টুকু ইবাদত-বন্দেগি, জিকির ও কুরআন তিলাওয়াতে কাটাতে পারলে দিনটি যেমন ভালো কাটে, তেমনি রিজিকেও বরকত হয়। পাঠকদের সুবিধার্থে ফজরের পর আমলযোগ্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া ও জিকির নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

১. আয়াতুল কুরসি পাঠের মহিমা

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অন্তরায় থাকবে না।’ (শুআবুল ইমান: ২৩৯৫)। 

প্রতিদিন মাত্র এক মিনিট সময় ব্যয় করে আমলটি করলে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জান্নাতের মহা পুরস্কার লাভ করা সম্ভব। এছাড়া সকালে এটি পাঠ করলে বিকাল পর্যন্ত এবং বিকালে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত জিন ও শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকা যায়।

২. সাইয়িদুল ইস্তিগফার: ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া

জান্নাতি হওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো সাইয়িদুল ইস্তিগফার। হাদিসে এসেছে, কেউ যদি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকালে এটি পড়ে এবং ওই দিন মারা যায় অথবা রাতে পড়ে এবং ওই রাতে মারা যায়, তবে সে জান্নাতি হবে। (সহিহ্ বুখারি: ৬৩০৬)।

৩. জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টির দোয়া

জাহান্নাম থেকে মুক্তি: ফজর ও মাগরিবের পর সাতবার—‘আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার’ (হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন) পাঠ করলে ওই দিন বা রাতে মৃত্যু হলে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭৯)

আল্লাহর সন্তুষ্টি: যে ব্যক্তি সকালে তিনবার ‘রাদিতু বিল্লাহি রাব্বাওঁ ওয়াবিল ইসলামি দিনাওঁ ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিইয়া’ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সন্তুষ্ট করবেন। (জামে তিরমিজি: ৩৩৮৯)

৪. রোগব্যাধি থেকে রক্ষার দোয়া

নবীজি (সা.) সব ধরনের দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন—শ্বেত, উন্মাদনা ও কুষ্ঠ থেকে বাঁচতে এই দোয়া পড়তেন: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুজামি, ওয়া মিন সাইয়িইল আসকাম।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৫৫৪)।

৫. সুরা ইয়াসিন ও জিকির-তসবিহ

সকালে সুরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এ ছাড়া ফজরের পর নিচের জিকিরগুলো করার বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে:

১০০ বার: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি আস্তাগফিরুল্লাহ।

১০ বার: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।

৩৩ বার করে: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার।

৬. রিজিকে বরকত ও কবুলযোগ্য আমলের দোয়া

দিনের শুরুতে উপকারী জ্ঞান ও হালাল রিজিকের জন্য এই দোয়া পড়া যেতে পারে: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইল্মান নাফিয়া, ওয়া রিজকান তাইয়িবা, ওয়া আমালান মুতাকাব্বালা।’ এ ছাড়া সাতবার ‘হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়াহুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম’ পাঠ করলে দুনিয়া ও আখিরাতের সব চিন্তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হন।

ফজরের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময় আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার সুবর্ণ সুযোগ। কুরআন তিলাওয়াত ও জিকিরের মাধ্যমে এই সময় অতিবাহিত করলে দিনটি বরকতময় হয় এবং পারলৌকিক মুক্তি নিশ্চিত হয়।

বিষয় : নামাজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


ফজরের পর যেসব দোয়া ও আমল করবেন

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাতের নিস্তব্ধতা পেরিয়ে যখন পূর্ব আকাশে আলোর আভা ফুটতে শুরু করে, তখনই মুমিনের দিন শুরু হয় আল্লাহর স্মরণে। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের প্রথমটি ফজর—যে নামাজ ঘুমের আরাম ছেড়ে বান্দাকে রবের দরবারে হাজির হওয়ার আহ্বান জানায়। ফজরের নামাজ শুধু দিনের প্রথম ইবাদত নয়; এর রয়েছে বিশেষ মর্যাদা ও অসংখ্য ফজিলত। জামাতের সঙ্গে ফজর আদায় করা মুমিনের জন্য যেমন সৌভাগ্যের, তেমনি এ নামাজের মাধ্যমে সে আল্লাহর নিরাপত্তা ও বিশেষ রহমতের অধিকারী হয়।

প্রিয় নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করল, সে আল্লাহর নিরাপত্তা লাভ করল।’ (সহিহ্ মুসলিম: ১৩৮০)। শুধু তা-ই নয়, যারা ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করেন, ফেরেশতারা আল্লাহর দরবারে তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দেন।

ফজরের নামাজের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়টি বিশেষ বরকত ও সওয়াবের সময়। এই সময়টুকু ইবাদত-বন্দেগি, জিকির ও কুরআন তিলাওয়াতে কাটাতে পারলে দিনটি যেমন ভালো কাটে, তেমনি রিজিকেও বরকত হয়। পাঠকদের সুবিধার্থে ফজরের পর আমলযোগ্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া ও জিকির নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

১. আয়াতুল কুরসি পাঠের মহিমা

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অন্তরায় থাকবে না।’ (শুআবুল ইমান: ২৩৯৫)। 

প্রতিদিন মাত্র এক মিনিট সময় ব্যয় করে আমলটি করলে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জান্নাতের মহা পুরস্কার লাভ করা সম্ভব। এছাড়া সকালে এটি পাঠ করলে বিকাল পর্যন্ত এবং বিকালে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত জিন ও শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকা যায়।

২. সাইয়িদুল ইস্তিগফার: ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া

জান্নাতি হওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো সাইয়িদুল ইস্তিগফার। হাদিসে এসেছে, কেউ যদি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকালে এটি পড়ে এবং ওই দিন মারা যায় অথবা রাতে পড়ে এবং ওই রাতে মারা যায়, তবে সে জান্নাতি হবে। (সহিহ্ বুখারি: ৬৩০৬)।

৩. জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টির দোয়া

জাহান্নাম থেকে মুক্তি: ফজর ও মাগরিবের পর সাতবার—‘আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার’ (হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন) পাঠ করলে ওই দিন বা রাতে মৃত্যু হলে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭৯)

আল্লাহর সন্তুষ্টি: যে ব্যক্তি সকালে তিনবার ‘রাদিতু বিল্লাহি রাব্বাওঁ ওয়াবিল ইসলামি দিনাওঁ ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিইয়া’ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সন্তুষ্ট করবেন। (জামে তিরমিজি: ৩৩৮৯)

৪. রোগব্যাধি থেকে রক্ষার দোয়া

নবীজি (সা.) সব ধরনের দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন—শ্বেত, উন্মাদনা ও কুষ্ঠ থেকে বাঁচতে এই দোয়া পড়তেন: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুজামি, ওয়া মিন সাইয়িইল আসকাম।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৫৫৪)।

৫. সুরা ইয়াসিন ও জিকির-তসবিহ

সকালে সুরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এ ছাড়া ফজরের পর নিচের জিকিরগুলো করার বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে:

১০০ বার: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি আস্তাগফিরুল্লাহ।

১০ বার: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।

৩৩ বার করে: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার।

৬. রিজিকে বরকত ও কবুলযোগ্য আমলের দোয়া

দিনের শুরুতে উপকারী জ্ঞান ও হালাল রিজিকের জন্য এই দোয়া পড়া যেতে পারে: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইল্মান নাফিয়া, ওয়া রিজকান তাইয়িবা, ওয়া আমালান মুতাকাব্বালা।’ এ ছাড়া সাতবার ‘হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়াহুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম’ পাঠ করলে দুনিয়া ও আখিরাতের সব চিন্তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হন।

ফজরের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময় আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার সুবর্ণ সুযোগ। কুরআন তিলাওয়াত ও জিকিরের মাধ্যমে এই সময় অতিবাহিত করলে দিনটি বরকতময় হয় এবং পারলৌকিক মুক্তি নিশ্চিত হয়।


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ