পরিবেশ কন্ঠ

টেংরাগিরি বনাঞ্চলে বন দস্যুদের তাণ্ডব: চার দিনে ৯০০ গাছ নিধন


প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

টেংরাগিরি বনাঞ্চলে বন দস্যুদের তাণ্ডব: চার দিনে ৯০০ গাছ নিধন
তালতলীর নলবুনিয়া থেকে কেটে নেওয়ার পর পড়ে থাকা গাছের গোড়া , টেংরাগিরি বনাঞ্চলে পড়ে থাকা গাছের গোড়া।

বরগুনার সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে নির্বিচারে গাছ কেটে পাচার, বন বিভাগের নীরবতা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ

প্রকৃতির আপন খেয়ালে বেড়ে ওঠা বরগুনার ঐতিহ্যবাহী টেংরাগিরি ও নলবুনিয়া বনাঞ্চল আজ অস্তিত্ব সংকটে। বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ আর ঘূর্ণিঝড়ের হাত থেকে উপকূলীয় জনপদকে রক্ষা করা এই সবুজ বেষ্টনী এখন বন দস্যুদের লোলুপ দৃষ্টির শিকারে পরিণত হয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দুর্বৃত্তরা প্রায় ৯০০টি মূল্যবান গাছ কেটে সাবার করে দিয়েছে। 

সংরক্ষিত বনের ভেতরে এমন ধ্বংসযজ্ঞে স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ ছাড়া এত বড় অপরাধ সংঘটিত হওয়া অসম্ভব। প্রতিবাদ করলে উল্টো গাছ চুরির মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকির মুখে সাধারণ মানুষ এখন মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। সোনাকাটা ইউনিয়নের সংরক্ষিত এই বনভূমির আয়তন প্রায় ১৩ হাজার ৬৪৪ একর, যা এক সময় সুন্দরবনের অংশ ছিল। 

বর্তমানে এই বনের গেওয়া, সুন্দরী, কেওড়া, বাইন ও রেইনট্রিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ প্রকাশ্যে নিধন করা হচ্ছে। বন দস্যুরা রাতের অন্ধকারে গাছ কেটে বনের ভেতরে স্তূপ করে রাখে এবং সুযোগ বুঝে পাচার করে। এমনকি চুরির চিহ্ন মুছে ফেলতে তারা গাছের শেকড় পর্যন্ত উপড়ে ফেলছে, যা বনের বাস্তুসংস্থানকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। 

পরিবেশবাদীরা বলছেন, এই বনাঞ্চলটি প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। এভাবে বন নিধন অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। ইতিমধ্যে বনের বন্যপ্রাণী ও পাখপাখালিও শিকারিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। যদিও বন বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে, তবুও তালতলী উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতায় অবশেষে একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতীশ সরকার জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং এই প্রাকৃতিক সম্পদ টিকিয়ে রাখতে দস্যুদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। 

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বিষয় : বন বিভাগ বন নিধন টেংরাগিরি বন গাছ চুরি বন অপরাধ পরিবেশ সুরক্ষা

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


টেংরাগিরি বনাঞ্চলে বন দস্যুদের তাণ্ডব: চার দিনে ৯০০ গাছ নিধন

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বরগুনার সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে নির্বিচারে গাছ কেটে পাচার, বন বিভাগের নীরবতা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ

প্রকৃতির আপন খেয়ালে বেড়ে ওঠা বরগুনার ঐতিহ্যবাহী টেংরাগিরি ও নলবুনিয়া বনাঞ্চল আজ অস্তিত্ব সংকটে। বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ আর ঘূর্ণিঝড়ের হাত থেকে উপকূলীয় জনপদকে রক্ষা করা এই সবুজ বেষ্টনী এখন বন দস্যুদের লোলুপ দৃষ্টির শিকারে পরিণত হয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দুর্বৃত্তরা প্রায় ৯০০টি মূল্যবান গাছ কেটে সাবার করে দিয়েছে। 

সংরক্ষিত বনের ভেতরে এমন ধ্বংসযজ্ঞে স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ ছাড়া এত বড় অপরাধ সংঘটিত হওয়া অসম্ভব। প্রতিবাদ করলে উল্টো গাছ চুরির মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকির মুখে সাধারণ মানুষ এখন মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। সোনাকাটা ইউনিয়নের সংরক্ষিত এই বনভূমির আয়তন প্রায় ১৩ হাজার ৬৪৪ একর, যা এক সময় সুন্দরবনের অংশ ছিল। 

বর্তমানে এই বনের গেওয়া, সুন্দরী, কেওড়া, বাইন ও রেইনট্রিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ প্রকাশ্যে নিধন করা হচ্ছে। বন দস্যুরা রাতের অন্ধকারে গাছ কেটে বনের ভেতরে স্তূপ করে রাখে এবং সুযোগ বুঝে পাচার করে। এমনকি চুরির চিহ্ন মুছে ফেলতে তারা গাছের শেকড় পর্যন্ত উপড়ে ফেলছে, যা বনের বাস্তুসংস্থানকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। 

পরিবেশবাদীরা বলছেন, এই বনাঞ্চলটি প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। এভাবে বন নিধন অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। ইতিমধ্যে বনের বন্যপ্রাণী ও পাখপাখালিও শিকারিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। যদিও বন বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে, তবুও তালতলী উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতায় অবশেষে একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতীশ সরকার জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং এই প্রাকৃতিক সম্পদ টিকিয়ে রাখতে দস্যুদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। 

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ