হালদায় মা মাছের ‘নমুনা’ ডিম: উৎসবে ফেরার অপেক্ষায় কয়েক শ ডিম সংগ্রহকারী
দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মৎস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত হালদা নদীতে অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চলেছে। চট্টগ্রামের রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এই প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রে প্রজনন মৌসুমের প্রথম দফায় ‘নমুনা’ ডিম ছেড়েছে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালবাউশ প্রজাতির মা মাছ। বৃহস্পতিবার সকাল ও দুপুরে নদীর পৃথক কয়েকটি স্থানে এই নমুনা ডিমের দেখা মেলায় কয়েক শ ডিম সংগ্রহকারীর মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে।স্থানীয় সূত্র ও মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে ভাটায় এবং দুপুরে জোয়ারের সময় রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের আজিমের ঘাট, নাপিতের ঘাট এবং হাটহাজারী অংশের গড়দোয়ারা ইউনিয়নের নয়াহাট এলাকায় মা মাছেরা ডিম ছাড়তে শুরু করে। সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে নেমে পড়েন বংশপরম্পরায় ডিম সংগ্রহ করে আসা জেলেরা। কেউ ১০০ গ্রাম, কেউ ২০০ গ্রাম আবার কেউ এক থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত নমুনা ডিম সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন।মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মা মাছ যখন পূর্ণমাত্রায় ডিম ছাড়ার প্রস্তুতি নেয়, তার আগে তারা আবহাওয়া ও পানির পরিবেশ পরখ করতে অল্প পরিমাণে ডিম ছাড়ে, যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘নমুনা ডিম’ বলা হয়। হালদা গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মনজুরুল কিবরিয়া জানান, বজ্রপাত কিংবা পাহাড়ি ঢলের চাপে মা মাছেরা কিছু ডিম ছেড়ে দেয়। এটি মূলত আসন্ন পূর্ণ প্রজনন উৎসবের একটি আগাম সংকেত। সাধারণত এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত এই প্রজনন মৌসুম স্থায়ী হয়, যেখানে মেঘের গর্জনসহ বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের পানি মা মাছের ডিম ছাড়ার জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।বর্তমানে নদীর দুই পাড়ে প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ ডিম সংগ্রহকারী তাদের নৌকা ও সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত রয়েছেন। গত কয়েক বছরে ডিমের পরিমাণ কিছুটা কমলেও এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফল প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাউজান উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ তফজ্জল হোসেন জানান, প্রশাসনের একটি চৌকস টিম নদীতে অবস্থান করছে সংগ্রহকারীদের সহযোগিতা করার জন্য। জোয়ার-ভাটায় মা মাছেরা যেকোনো সময় পূর্ণ মাত্রায় ডিম ছেড়ে দিতে পারে। সব মিলিয়ে এখন প্রকৃতির করুণার অপেক্ষায় কয়েক হাজার মানুষ।ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০ সালে হালদা থেকে রেকর্ড ২৫ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল। গত বছর এই পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার কেজি। জেলেদের বিশ্বাস, আসন্ন অমাবস্যা বা পূর্ণিমার জোয়ারে যদি ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল নামে, তবে হালদায় আবারও রূপালি ফসলের জোয়ার আসবে। নদীর তীরে অবস্থিত সরকারি হ্যাচারি ও মাটির কুয়াগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে রেণু ফোটানোর জন্য।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ