দুই ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ, ৪০ কিমি যানজট
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় দুই ঘণ্টার অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে রাত নয়টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে যানজট দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিদ্যালয় ছুটির পর রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মিনি কাভার্ডভ্যান বাঁশবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে চাপা দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে স্থানীয় লোকজনও তাদের সঙ্গে যোগ দেন।
বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে বাঁশ ও গাছ ফেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী উভয় লেনেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনায় জড়িত চালকের গ্রেপ্তার, মহাসড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং আহত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
রাত নয়টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে যানজটে আটকে থাকা শ্যামলী পরিবহনের যাত্রী আবু তৈয়্যাব বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাস্তায় আটকে আছি। কখন গাড়ি ছাড়বে, তা কেউ বলতে পারছে না।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এ হক বলেন, মহাসড়ক অবরোধের কারণে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। পরে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এরপর তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।