শেরপুরে পাহাড়ি নদীর পানি বৃদ্ধি, ঢলের আশঙ্কা
শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (১৩ মে) সকাল থেকে টানা বৃষ্টির কারণে নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার কিছুটা ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল আংশিক প্লাবিত হয়েছে। তবে জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় রাজ্য সীমান্তঘেঁষা উজানে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিভিন্ন নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীর বাঁধের কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি ও উজানের পানি অব্যাহত থাকলে বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ সব নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই ও চেল্লাখালী, ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি এবং শ্রীবরদী উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর পানি বুধবার দিনভর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও পাহাড়ি ঢলের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চেল্লাখালী নদীর বিপৎসীমা ২১.৯৪ মিটার হলেও বর্তমানে পানি প্রবাহিত হচ্ছে ২৩.৫৪ মিটার ওপর দিয়ে। একই নদীর নাকুগাঁও পয়েন্টে বিপৎসীমা ২১.৯০ মিটার হলেও পানি প্রবাহিত হচ্ছে ২১.০৬ মিটার নিচ দিয়ে। অন্যদিকে নালিতাবাড়ী পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৭.১৪ মিটার হলেও পানি রয়েছে ১৬.২৯ মিটার নিচে।
ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি এবং শ্রীবরদী উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া জামালপুর ও শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমা ১৬.৫৬ মিটারের বিপরীতে অনেক নিচে অর্থাৎ ৮.৩২ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত কুমার ধর বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সর্বশেষ চেল্লাখালী নদীর বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। রাতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত এবং বর্ষণ হলে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।আরও পড়ুনআরও পড়ুনচরাঞ্চলে জমি দখল আতঙ্ক, হরিরামপুরে বেপরোয়া ‘হান্নান-সামছুদ্দিন’ বাহিনী
এদিকে জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে বোরো ধানের প্রায় ৬৫ শতাংশ কাটা সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো আবাদি জমিতে ঢলের পানি প্রবেশ করেনি বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।