পরিবেশ কন্ঠ

নেইমার আর ফিরছেন না ব্রাজিল দলে, আনচেলত্তির নতুন পরিকল্পনা


প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

নেইমার আর ফিরছেন না ব্রাজিল দলে, আনচেলত্তির নতুন পরিকল্পনা
সংগৃহীত

জাতীয় দলে আর ফিরছেন না নেইমার, তরুণদের ওপর ভরসা রেখে ২০৩০ বিশ্বকাপের মহাপরিকল্পনা সেলেসাও কোচের।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের আকাশে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে যে ধ্রুবতারাটি আলো ছড়িয়েছে, সেই নেইমার জুনিয়র অধ্যায়ের অবশেষে আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। কাতার বিশ্বকাপের বিদায়লগ্নে যে আক্ষেপ আর অনিশ্চয়তা দানা বেঁধেছিল, তারই চূড়ান্ত সিলমোহর দিলেন সেলেসাওদের বর্তমান কান্ডারি কার্লো আনচেলত্তি। 

ব্রাজিলীয় ফুটবলের এই ক্রান্তিলগ্নে আনচেলত্তির এই ঘোষণা ফুটবল বিশ্বের জন্য এক বিশাল ধাক্কা হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক নতুন ও শক্তিশালী ব্রাজিল গড়ার মহাপরিকল্পনা। সম্প্রতি ‘সিএনএন এস্পোর্তেস’-কে দেওয়া এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে কার্লো আনচেলত্তি নিশ্চিত করেছেন যে, নেইমার আর জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরতে আগ্রহী নন। আনচেলত্তি বলেন, ‘নেইমারের ফুটবলীয় মান প্রশ্নাতীত। তার মতো একজন অনন্য প্রতিভাকে বিশ্বকাপে পাওয়া যে কোনো দলের জন্যই আশীর্বাদ। কিন্তু নেইমার নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে আর জাতীয় দলের হয়ে খেলবে না। 

তার এই সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানাতে হবে। কারণ, তার মতো প্রতিভার বিকল্প খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব কাজ।’ নেইমারের প্রস্থানের পর এখন আনচেলত্তির মূল লক্ষ্য ব্রাজিল দলকে নতুন করে ঢেলে সাজানো। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তিনি একটি শক্তিশালী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে চান। আনচেলত্তির মতে, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে এখন আধুনিক ফুটবলে দলগত সংহতি বা ‘টিমওয়ার্ক’ অনেক বেশি জরুরি। 

তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র একজনের পায়ের জাদুর ওপর নির্ভর করে বড় টুর্নামেন্ট জেতা বর্তমান সময়ে কঠিন। এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় আনচেলত্তি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তরুণ প্রজন্মের ওপর। বিশেষ করে ২০০৪ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রতিভাবান ফুটবলারদের তিনি জাতীয় দলের মূল কাঠামোতে নিয়ে আসতে চান। কোচের ভাষায়, ‘এখন আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে। 

যারা আমাদের ভবিষ্যৎ হবে, তাদের দিকে এখনই নজর দেওয়ার সময় এসেছে। যদিও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা ৩৬-৩৭ বছর বয়সেও দুর্দান্ত খেলতে পারেন, কিন্তু আমাদের বর্তমান অগ্রাধিকার হলো তরুণদের সুযোগ করে দেওয়া এবং তাদের আন্তর্জাতিক স্তরের জন্য তৈরি করা।’ ব্রাজিলের চিরায়ত ফুটবল সংস্কৃতিতে ব্যক্তিগত ড্রিবলিং বা কৌশল প্রদর্শনী সবসময়ই প্রাধান্য পেয়ে এসেছে। 

তবে আনচেলত্তি এই ধারায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে চান। তিনি চান এমন এক দল গঠন করতে, যেখানে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য থাকবে দলীয় শৃঙ্খলার পরিপূরক হিসেবে। নেইমার পরবর্তী যুগে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কোন পথে হাঁটবে, তা নিয়ে অনেক আলোচনা থাকলেও আনচেলত্তির এই দূরদর্শী পরিকল্পনা সমর্থকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করছে। সাম্বার দেশে এখন নতুন ভোরের প্রতীক্ষা, যেখানে একক কোনো নায়ক নয়, বরং এগারোজন যোদ্ধার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ফিরবে হেক্সা জয়ের স্বপ্ন। 

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বিষয় : নেইমার কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিল ফুটবল ল্যাটিন ফুটবল

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নেইমার আর ফিরছেন না ব্রাজিল দলে, আনচেলত্তির নতুন পরিকল্পনা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জাতীয় দলে আর ফিরছেন না নেইমার, তরুণদের ওপর ভরসা রেখে ২০৩০ বিশ্বকাপের মহাপরিকল্পনা সেলেসাও কোচের।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের আকাশে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে যে ধ্রুবতারাটি আলো ছড়িয়েছে, সেই নেইমার জুনিয়র অধ্যায়ের অবশেষে আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। কাতার বিশ্বকাপের বিদায়লগ্নে যে আক্ষেপ আর অনিশ্চয়তা দানা বেঁধেছিল, তারই চূড়ান্ত সিলমোহর দিলেন সেলেসাওদের বর্তমান কান্ডারি কার্লো আনচেলত্তি। 

ব্রাজিলীয় ফুটবলের এই ক্রান্তিলগ্নে আনচেলত্তির এই ঘোষণা ফুটবল বিশ্বের জন্য এক বিশাল ধাক্কা হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক নতুন ও শক্তিশালী ব্রাজিল গড়ার মহাপরিকল্পনা। সম্প্রতি ‘সিএনএন এস্পোর্তেস’-কে দেওয়া এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে কার্লো আনচেলত্তি নিশ্চিত করেছেন যে, নেইমার আর জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরতে আগ্রহী নন। আনচেলত্তি বলেন, ‘নেইমারের ফুটবলীয় মান প্রশ্নাতীত। তার মতো একজন অনন্য প্রতিভাকে বিশ্বকাপে পাওয়া যে কোনো দলের জন্যই আশীর্বাদ। কিন্তু নেইমার নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে আর জাতীয় দলের হয়ে খেলবে না। 

তার এই সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানাতে হবে। কারণ, তার মতো প্রতিভার বিকল্প খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব কাজ।’ নেইমারের প্রস্থানের পর এখন আনচেলত্তির মূল লক্ষ্য ব্রাজিল দলকে নতুন করে ঢেলে সাজানো। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তিনি একটি শক্তিশালী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে চান। আনচেলত্তির মতে, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে এখন আধুনিক ফুটবলে দলগত সংহতি বা ‘টিমওয়ার্ক’ অনেক বেশি জরুরি। 

তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র একজনের পায়ের জাদুর ওপর নির্ভর করে বড় টুর্নামেন্ট জেতা বর্তমান সময়ে কঠিন। এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় আনচেলত্তি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তরুণ প্রজন্মের ওপর। বিশেষ করে ২০০৪ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রতিভাবান ফুটবলারদের তিনি জাতীয় দলের মূল কাঠামোতে নিয়ে আসতে চান। কোচের ভাষায়, ‘এখন আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে। 

যারা আমাদের ভবিষ্যৎ হবে, তাদের দিকে এখনই নজর দেওয়ার সময় এসেছে। যদিও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা ৩৬-৩৭ বছর বয়সেও দুর্দান্ত খেলতে পারেন, কিন্তু আমাদের বর্তমান অগ্রাধিকার হলো তরুণদের সুযোগ করে দেওয়া এবং তাদের আন্তর্জাতিক স্তরের জন্য তৈরি করা।’ ব্রাজিলের চিরায়ত ফুটবল সংস্কৃতিতে ব্যক্তিগত ড্রিবলিং বা কৌশল প্রদর্শনী সবসময়ই প্রাধান্য পেয়ে এসেছে। 

তবে আনচেলত্তি এই ধারায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে চান। তিনি চান এমন এক দল গঠন করতে, যেখানে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য থাকবে দলীয় শৃঙ্খলার পরিপূরক হিসেবে। নেইমার পরবর্তী যুগে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কোন পথে হাঁটবে, তা নিয়ে অনেক আলোচনা থাকলেও আনচেলত্তির এই দূরদর্শী পরিকল্পনা সমর্থকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করছে। সাম্বার দেশে এখন নতুন ভোরের প্রতীক্ষা, যেখানে একক কোনো নায়ক নয়, বরং এগারোজন যোদ্ধার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ফিরবে হেক্সা জয়ের স্বপ্ন। 

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ