পরিবেশ কন্ঠ

সোনারগাঁয়ে জাদুঘর রক্ষায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন



সোনারগাঁয়ে জাদুঘর রক্ষায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন
পরিবেশ কন্ঠ

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের (সোনারগাঁও জাদুঘর) ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়ির যথাযথ সংরক্ষণ, প্রতিষ্ঠানটির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সোনারগাঁয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে সোনারগাঁও জাদুঘর-এর সামনে সুবর্ণগ্রাম সংস্কৃতি অঙ্গন ও সুজন–সুশাসনের জন্য নাগরিক যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে লেখক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সুবর্ণগ্রাম সংস্কৃতি অঙ্গনের সভাপতি কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েসের সভাপতিত্বে এবং সুজন- সুশাসনের জন্য নাগরিক, সোনারগাঁ শাখার সাধারণ সম্পাদক লেখক ও সাংবাদিক মিজানুর রহমান মামুনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন চিত্রশিল্পী, লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি,  সুজন- সুশাসনের জন্য নাগরিক নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, কবি ও সংগঠক রহমান মুজিব, সাংবাদিক গাজী মোবারক, সোনারগাঁও সাহিত্য নিকেতনের সভাপতি আসমা আখতারী, সাংবাদিক ও লেখক হাসান মাহমুদ রিপন, লেখক ও সংগঠক রোকেয়া আক্তার বেবী, লেখক ও সাংবাদিক এরশাদ হুসাইন অন্য, চিত্রশিল্পী জাহাঙ্গীর আলম ইমন, শাহাদাৎ হোসেন শিপন চৌধুরী, খাদিজা আক্তার, ঊর্মি আক্তার  ও রাসেল আহমেদ প্রমুখ।

মানববন্ধনে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, বড় সরদার বাড়ি শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি সোনারগাঁয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এমন স্থাপনায় বাণিজ্যিক শুটিংয়ের অনুমতি দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, মাত্র ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে ঐতিহাসিক স্থাপনা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকলে এর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিচালকের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বা হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়। এজন্য স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু অপসারণ নয়, আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সুবর্ণগ্রাম সংস্কৃতি অঙ্গনের সভাপতি কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস বলেন, সোনারগাঁও বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো বড় সরদার বাড়ি জাতীয় প্রত্নসম্পদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। অথচ কোক স্টুডিও বাংলা সিজন-৪-এর শুটিংয়ের জন্য স্থাপনাটি ছয় লাখ টাকায় ভাড়া দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, চার দিন ধরে চলা শুটিংয়ে ভারী লাইটিং, জেনারেটর ও বিভিন্ন শুটিং সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। স্থাপনার দেয়ালে গজাল ও রড ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। শুটিং শেষে বাড়িটির বিভিন্ন স্থানে দেয়াল ও স্থাপনার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দৃশ্যমান ক্ষতির পাশাপাশি স্থাপনাটির কাঠামোগত কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তার দাবি, শুটিংয়ের আগে স্থাপত্য বিশেষজ্ঞরা ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্টদের স্থাপনাটির ভেতরে শুটিং না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপরও শুটিং হয়ে থাকলে অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং নির্ধারিত শর্তগুলো তদন্তের আওতায় আনা উচিত। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালকের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগও স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধনে অন্যান্য বক্তারা বলেন, সোনারগাঁয়ের বড় সরদার বাড়ি দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। তাই এর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তার সত্যতা যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে সম্প্রতি ঐতিহাসিক স্থাপনাটিতে কোক স্টুডিও বাংলার শুটিংয়ের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের দাবি জানান তারা। বক্তারা বড় সরদার বাড়ির ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যায়ন, কোক স্টুডিও বাংলার শুটিংয়ের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া তদন্ত এবং বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


সোনারগাঁয়ে জাদুঘর রক্ষায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের (সোনারগাঁও জাদুঘর) ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়ির যথাযথ সংরক্ষণ, প্রতিষ্ঠানটির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সোনারগাঁয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে সোনারগাঁও জাদুঘর-এর সামনে সুবর্ণগ্রাম সংস্কৃতি অঙ্গন ও সুজন–সুশাসনের জন্য নাগরিক যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে লেখক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সুবর্ণগ্রাম সংস্কৃতি অঙ্গনের সভাপতি কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েসের সভাপতিত্বে এবং সুজন- সুশাসনের জন্য নাগরিক, সোনারগাঁ শাখার সাধারণ সম্পাদক লেখক ও সাংবাদিক মিজানুর রহমান মামুনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন চিত্রশিল্পী, লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি,  সুজন- সুশাসনের জন্য নাগরিক নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, কবি ও সংগঠক রহমান মুজিব, সাংবাদিক গাজী মোবারক, সোনারগাঁও সাহিত্য নিকেতনের সভাপতি আসমা আখতারী, সাংবাদিক ও লেখক হাসান মাহমুদ রিপন, লেখক ও সংগঠক রোকেয়া আক্তার বেবী, লেখক ও সাংবাদিক এরশাদ হুসাইন অন্য, চিত্রশিল্পী জাহাঙ্গীর আলম ইমন, শাহাদাৎ হোসেন শিপন চৌধুরী, খাদিজা আক্তার, ঊর্মি আক্তার  ও রাসেল আহমেদ প্রমুখ।

মানববন্ধনে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, বড় সরদার বাড়ি শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি সোনারগাঁয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এমন স্থাপনায় বাণিজ্যিক শুটিংয়ের অনুমতি দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, মাত্র ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে ঐতিহাসিক স্থাপনা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকলে এর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিচালকের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বা হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়। এজন্য স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু অপসারণ নয়, আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সুবর্ণগ্রাম সংস্কৃতি অঙ্গনের সভাপতি কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস বলেন, সোনারগাঁও বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো বড় সরদার বাড়ি জাতীয় প্রত্নসম্পদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। অথচ কোক স্টুডিও বাংলা সিজন-৪-এর শুটিংয়ের জন্য স্থাপনাটি ছয় লাখ টাকায় ভাড়া দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, চার দিন ধরে চলা শুটিংয়ে ভারী লাইটিং, জেনারেটর ও বিভিন্ন শুটিং সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। স্থাপনার দেয়ালে গজাল ও রড ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। শুটিং শেষে বাড়িটির বিভিন্ন স্থানে দেয়াল ও স্থাপনার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দৃশ্যমান ক্ষতির পাশাপাশি স্থাপনাটির কাঠামোগত কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তার দাবি, শুটিংয়ের আগে স্থাপত্য বিশেষজ্ঞরা ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্টদের স্থাপনাটির ভেতরে শুটিং না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপরও শুটিং হয়ে থাকলে অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং নির্ধারিত শর্তগুলো তদন্তের আওতায় আনা উচিত। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালকের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগও স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধনে অন্যান্য বক্তারা বলেন, সোনারগাঁয়ের বড় সরদার বাড়ি দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। তাই এর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তার সত্যতা যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে সম্প্রতি ঐতিহাসিক স্থাপনাটিতে কোক স্টুডিও বাংলার শুটিংয়ের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের দাবি জানান তারা। বক্তারা বড় সরদার বাড়ির ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যায়ন, কোক স্টুডিও বাংলার শুটিংয়ের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া তদন্ত এবং বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ