পরিবেশ কণ্ঠ

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় কেনাকাটায় ফিরছে স্বস্তি; দোকান বন্ধের সময়সীমা নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা

বৈশাখী বাজারে উৎসবের আমেজ, তবে রয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ



বৈশাখী বাজারে উৎসবের আমেজ, তবে রয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ
সংগৃহীত

টানা দুই বছরের স্থবিরতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে বাংলা নববর্ষের কেনাকাটায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে দেশের পোশাক, জুতা এবং মিষ্টির বাজারে গত বছরের তুলনায় আশাব্যঞ্জক বিক্রি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঈদুল ফিতরের ঠিক পরপরই বৈশাখ আসায় বাজারে উৎসবের দ্বিগুণ আমেজ বিরাজ করছে, যা খুচরা ব্যবসায়ীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর তথ্যমতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ক্রেতাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসায় বিপণিবিতানগুলোতে পায়ের ধুলো বাড়ছে। রঙ বাংলাদেশ, কে ক্র্যাফট এবং অঞ্জনস-এর মতো জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউসগুলো জানিয়েছে, গত দুই মৌসুমের তুলনায় এবার বিক্রির হার বেশ সন্তোষজনক। তবে অনেক ব্যবসায়ীর মতে, ঈদের খুব কাছাকাছি সময়ে পহেলা বৈশাখ পড়ায় প্রস্তুতির সময় কিছুটা কম ছিল। তবুও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বৈশাখী পোশাকের চাহিদাকে চাঙ্গা রেখেছে।

মিষ্টি এবং বেকারি পণ্যের বাজারেও বইছে সুবাতাস। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের 'মিঠাই' চেইন শপ জানিয়েছে, কর্পোরেট অর্ডার গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে প্রিমিয়াম সুইটসের মতো কিছু প্রতিষ্ঠানের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে সাধারণ ক্রেতাদের কেনাকাটার সামর্থ্যে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। অন্যদিকে, জুতার বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের মতে, ঈদের বড় কেনাকাটা শেষ করে ক্রেতারা বৈশাখের জন্য নতুন করে জুতা কেনার ক্ষেত্রে কিছুটা মিতব্যয়ী আচরণ করছেন।

বাজারের এই ইতিবাচক ধারার মাঝেও ব্যবসায়ীদের বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাত ৭টায় দোকান বন্ধের সরকারি নির্দেশনা। জ্বালানি সাশ্রয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেনাকাটার সময়টি হারাচ্ছেন বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। অনেক প্রতিষ্ঠানের মতে, সময়সীমা বৃদ্ধি করা গেলে বিক্রি আরও ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারত। পরিবহন সংকট এবং দোকান দ্রুত বন্ধের কারণে কাঙ্ক্ষিত বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা কাটছে না। তবুও বৈশাখের এই নতুন সূর্য উদয়ের সাথে সাথে দেশের অর্থনীতি নতুন গতি পাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কণ্ঠ

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬


বৈশাখী বাজারে উৎসবের আমেজ, তবে রয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

টানা দুই বছরের স্থবিরতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে বাংলা নববর্ষের কেনাকাটায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে দেশের পোশাক, জুতা এবং মিষ্টির বাজারে গত বছরের তুলনায় আশাব্যঞ্জক বিক্রি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঈদুল ফিতরের ঠিক পরপরই বৈশাখ আসায় বাজারে উৎসবের দ্বিগুণ আমেজ বিরাজ করছে, যা খুচরা ব্যবসায়ীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর তথ্যমতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ক্রেতাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসায় বিপণিবিতানগুলোতে পায়ের ধুলো বাড়ছে। রঙ বাংলাদেশ, কে ক্র্যাফট এবং অঞ্জনস-এর মতো জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউসগুলো জানিয়েছে, গত দুই মৌসুমের তুলনায় এবার বিক্রির হার বেশ সন্তোষজনক। তবে অনেক ব্যবসায়ীর মতে, ঈদের খুব কাছাকাছি সময়ে পহেলা বৈশাখ পড়ায় প্রস্তুতির সময় কিছুটা কম ছিল। তবুও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বৈশাখী পোশাকের চাহিদাকে চাঙ্গা রেখেছে।

মিষ্টি এবং বেকারি পণ্যের বাজারেও বইছে সুবাতাস। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের 'মিঠাই' চেইন শপ জানিয়েছে, কর্পোরেট অর্ডার গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে প্রিমিয়াম সুইটসের মতো কিছু প্রতিষ্ঠানের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে সাধারণ ক্রেতাদের কেনাকাটার সামর্থ্যে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। অন্যদিকে, জুতার বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের মতে, ঈদের বড় কেনাকাটা শেষ করে ক্রেতারা বৈশাখের জন্য নতুন করে জুতা কেনার ক্ষেত্রে কিছুটা মিতব্যয়ী আচরণ করছেন।

বাজারের এই ইতিবাচক ধারার মাঝেও ব্যবসায়ীদের বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাত ৭টায় দোকান বন্ধের সরকারি নির্দেশনা। জ্বালানি সাশ্রয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেনাকাটার সময়টি হারাচ্ছেন বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। অনেক প্রতিষ্ঠানের মতে, সময়সীমা বৃদ্ধি করা গেলে বিক্রি আরও ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারত। পরিবহন সংকট এবং দোকান দ্রুত বন্ধের কারণে কাঙ্ক্ষিত বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা কাটছে না। তবুও বৈশাখের এই নতুন সূর্য উদয়ের সাথে সাথে দেশের অর্থনীতি নতুন গতি পাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কণ্ঠ

সম্পাদক: ড. মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ