পরিবেশ কন্ঠ

ট্রাম্পের সামনে আর সম্মানজনক পথ নেই


প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ট্রাম্পের সামনে আর সম্মানজনক পথ নেই
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ছবি: এএফপি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত আশানুরূপ সাফল্য পাননি। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের একটি বড় অংশও মনে করছে, সংঘাতের অবসান যখনই হোক না কেন- তাতে অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হবে না।

সম্প্রতি হওয়া বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন জনগণ যুদ্ধ নিয়ে চরম বিরক্ত। ইরানের কাছে থেকে বড় কোনো ছাড় পাওয়ার আশাও তারা করছে না। সংক্ষেপে বলতে গেলে, এই যুদ্ধ থেকে ট্রাম্প সম্মানের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার কোনো ভালো পথ খুঁজে পাবেন- মানুষের মনে এমন আস্থাও খুব একটা নেই।

সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের বেশ কিছু অগ্রগতির লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু যখনই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে শুরু করে, তখনই অনেক কট্টরপন্থী রিপাবলিকানরা নেতিবাচক বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন সতর্ক করে বলেছেন, সম্ভাব্য চুক্তি ইরানকে আরও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।

এখন ইরান যদি তাদের কঠোর অবস্থানে অনড় থাকে তাহলে এমন কোনো চুক্তির সম্ভাবনা নেই, যা ট্রাম্পের সম্মান রক্ষা করবে। আবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ যাতে রিপাবলিকানদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে না দাঁড়ায় সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।

এমন অবস্থায় একাধিক জনমত জরিপ ইঙ্গিত দিচ্ছে, বর্তমানে মার্কিন ভোটারদের একটাই চাওয়া- যুদ্ধ বন্ধ হোক। গত সপ্তাহে প্রকাশিত ফক্স নিউজের একটি জরিপ অনুযায়ী, নিবন্ধিত ভোটারদের মাত্র ৩৯ শতাংশ মনে করেন, লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলুক। বিপরীতে ৬১ শতাংশের মতে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যুদ্ধ শেষ করা উচিত।

একইভাবে, নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের যৌথ জরিপের ফলাফল দেখাচ্ছে, ৫২ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত সামরিক অভিযান বন্ধ করা।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, মোটামুটি সুবিধাজনক শর্তে কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হলেও তার মানে এই নয় যে, আমেরিকানদের ব্যয়ের তুলনায় তা বড় কোনো অর্জন হবে। 

এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুবিধাজনক একটি চুক্তি নিশ্চিত করতে পারেনও, তবু তাঁর সামনে আরেকটি বড় সমস্যা আছে। সেটি হলো- চুক্তির ক্ষেত্রে আমেরিকানরা আর তাঁকে বিশ্বাস করছে না। উদাহরণ হিসেবে সিএনএনের সাম্প্রতিক একটি জরিপের ফলাফলকে সামনে আনা যায়।

জরিপ দেখা গেছে, মাত্র ২০ শতাংশ আমেরিকান ইরানের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ওপর ‘প্রচণ্ড’ আস্থা রাখছেন। বিপরীতে ৫৯ শতাংশ মানুষের ‘খুব একটা’ বা একেবারেই কোনো আস্থা নেই।

ট্রাম্প ইতিমধ্যেই তাঁর কিছু কঠোর দাবি থেকে সরে এসেছেন। যেমন, একসময় তিনি বলেছিলেন ‘ইরান শর্তহীন আত্মসমর্প’ করলেই যুদ্ধ বন্ধ হবে। আবার অন্য সময়ে তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধে তাঁর মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা। এবং হামাস ও হিজবুল্লাহকে ইরানের অর্থ সরবরাহে বাধা দেওয়া। তবে চলমান আলোচনার শর্তগুলো দেখে মনে হচ্ছে, ট্রাম্পের আগের লক্ষ্যগুলো বর্তমানে অনেকটাই শিথিল বা হালকা হয়ে গেছে। 

অনেকে মনে করেন, ট্রাম্প আসলে শুরুতেই দুটি মারাত্মক ভুল করেছেন। প্রথমত, যুদ্ধ শেষ করার পথ নিয়ে তাঁর স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ছিল না। দ্বিতীয়ত, তিনি আমেরিকান জনগণের কাছে এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারেননি। উল্টো, তিনি সফলতার মানদণ্ড এত উঁচুতে বেঁধে দিয়েছিলেন যে, সেগুলো অর্জন করা এখন বেশ কঠিন।

বিষয় : ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬


ট্রাম্পের সামনে আর সম্মানজনক পথ নেই

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

featured Image

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত আশানুরূপ সাফল্য পাননি। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের একটি বড় অংশও মনে করছে, সংঘাতের অবসান যখনই হোক না কেন- তাতে অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হবে না।

সম্প্রতি হওয়া বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন জনগণ যুদ্ধ নিয়ে চরম বিরক্ত। ইরানের কাছে থেকে বড় কোনো ছাড় পাওয়ার আশাও তারা করছে না। সংক্ষেপে বলতে গেলে, এই যুদ্ধ থেকে ট্রাম্প সম্মানের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার কোনো ভালো পথ খুঁজে পাবেন- মানুষের মনে এমন আস্থাও খুব একটা নেই।

সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের বেশ কিছু অগ্রগতির লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু যখনই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে শুরু করে, তখনই অনেক কট্টরপন্থী রিপাবলিকানরা নেতিবাচক বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন সতর্ক করে বলেছেন, সম্ভাব্য চুক্তি ইরানকে আরও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।

এখন ইরান যদি তাদের কঠোর অবস্থানে অনড় থাকে তাহলে এমন কোনো চুক্তির সম্ভাবনা নেই, যা ট্রাম্পের সম্মান রক্ষা করবে। আবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ যাতে রিপাবলিকানদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে না দাঁড়ায় সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।

এমন অবস্থায় একাধিক জনমত জরিপ ইঙ্গিত দিচ্ছে, বর্তমানে মার্কিন ভোটারদের একটাই চাওয়া- যুদ্ধ বন্ধ হোক। গত সপ্তাহে প্রকাশিত ফক্স নিউজের একটি জরিপ অনুযায়ী, নিবন্ধিত ভোটারদের মাত্র ৩৯ শতাংশ মনে করেন, লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলুক। বিপরীতে ৬১ শতাংশের মতে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যুদ্ধ শেষ করা উচিত।

একইভাবে, নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের যৌথ জরিপের ফলাফল দেখাচ্ছে, ৫২ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত সামরিক অভিযান বন্ধ করা।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, মোটামুটি সুবিধাজনক শর্তে কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হলেও তার মানে এই নয় যে, আমেরিকানদের ব্যয়ের তুলনায় তা বড় কোনো অর্জন হবে। 

এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুবিধাজনক একটি চুক্তি নিশ্চিত করতে পারেনও, তবু তাঁর সামনে আরেকটি বড় সমস্যা আছে। সেটি হলো- চুক্তির ক্ষেত্রে আমেরিকানরা আর তাঁকে বিশ্বাস করছে না। উদাহরণ হিসেবে সিএনএনের সাম্প্রতিক একটি জরিপের ফলাফলকে সামনে আনা যায়।

জরিপ দেখা গেছে, মাত্র ২০ শতাংশ আমেরিকান ইরানের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ওপর ‘প্রচণ্ড’ আস্থা রাখছেন। বিপরীতে ৫৯ শতাংশ মানুষের ‘খুব একটা’ বা একেবারেই কোনো আস্থা নেই।

ট্রাম্প ইতিমধ্যেই তাঁর কিছু কঠোর দাবি থেকে সরে এসেছেন। যেমন, একসময় তিনি বলেছিলেন ‘ইরান শর্তহীন আত্মসমর্প’ করলেই যুদ্ধ বন্ধ হবে। আবার অন্য সময়ে তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধে তাঁর মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা। এবং হামাস ও হিজবুল্লাহকে ইরানের অর্থ সরবরাহে বাধা দেওয়া। তবে চলমান আলোচনার শর্তগুলো দেখে মনে হচ্ছে, ট্রাম্পের আগের লক্ষ্যগুলো বর্তমানে অনেকটাই শিথিল বা হালকা হয়ে গেছে। 

অনেকে মনে করেন, ট্রাম্প আসলে শুরুতেই দুটি মারাত্মক ভুল করেছেন। প্রথমত, যুদ্ধ শেষ করার পথ নিয়ে তাঁর স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ছিল না। দ্বিতীয়ত, তিনি আমেরিকান জনগণের কাছে এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারেননি। উল্টো, তিনি সফলতার মানদণ্ড এত উঁচুতে বেঁধে দিয়েছিলেন যে, সেগুলো অর্জন করা এখন বেশ কঠিন।


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ