দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষ তালিকায় ঢাকার নাম থাকলেও, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান এক নতুন ও ভয়াবহ চিত্র উন্মোচন করেছে। রাজধানী ঢাকাকে ছাপিয়ে দেশের আরও সাতটি শহর এখন দূষণের চরম সীমায় পৌঁছেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক বায়ুমান পরীক্ষা কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রসারিত হওয়ায় এই নিস্তব্ধ ঘাতকের প্রকৃত রূপ সামনে আসতে শুরু করেছে।
গত ২ এপ্রিল থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত সাত দিনের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, সাভার, ময়মনসিংহ, বগুড়া, টঙ্গী এবং রাজশাহী প্রায় প্রতিদিনই বায়ুমানের দিক থেকে ঢাকাকে ছাড়িয়ে গেছে। তথ্যমতে, ঢাকার গড় একিউআই স্কোর ১৫৩.৭১ হলেও বগুড়ার স্কোর ১৭৪.৬, যা বর্তমানে দেশজুড়ে উদ্বেগের প্রধান কারণ। বায়ুমান সূচক ১৫০ অতিক্রম করলে তা 'অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে বিবেচিত হয়, যা এই শহরগুলোর জন্য এখন প্রাত্যহিক বাস্তবতা।
বায়ুমান বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের দূষণের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ আসে আন্তঃসীমান্ত উৎস থেকে। বিশেষ করে ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসা দূষিত বায়ু এবং উত্তর ভারতের খড় পোড়ানো ধোঁয়া বাংলাদেশের উত্তর ও সীমান্ত অঞ্চলের আকাশকে বিষিয়ে তুলছে। অন্যদিকে, তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে যশোর ও সাতক্ষীরার মতো দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলো।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক পরিকল্পনা নয়, বরং দেশব্যাপী বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত দূষণ রোধ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যথায় জনস্বাস্থ্য এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষ তালিকায় ঢাকার নাম থাকলেও, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান এক নতুন ও ভয়াবহ চিত্র উন্মোচন করেছে। রাজধানী ঢাকাকে ছাপিয়ে দেশের আরও সাতটি শহর এখন দূষণের চরম সীমায় পৌঁছেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক বায়ুমান পরীক্ষা কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রসারিত হওয়ায় এই নিস্তব্ধ ঘাতকের প্রকৃত রূপ সামনে আসতে শুরু করেছে।
গত ২ এপ্রিল থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত সাত দিনের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, সাভার, ময়মনসিংহ, বগুড়া, টঙ্গী এবং রাজশাহী প্রায় প্রতিদিনই বায়ুমানের দিক থেকে ঢাকাকে ছাড়িয়ে গেছে। তথ্যমতে, ঢাকার গড় একিউআই স্কোর ১৫৩.৭১ হলেও বগুড়ার স্কোর ১৭৪.৬, যা বর্তমানে দেশজুড়ে উদ্বেগের প্রধান কারণ। বায়ুমান সূচক ১৫০ অতিক্রম করলে তা 'অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে বিবেচিত হয়, যা এই শহরগুলোর জন্য এখন প্রাত্যহিক বাস্তবতা।
বায়ুমান বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের দূষণের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ আসে আন্তঃসীমান্ত উৎস থেকে। বিশেষ করে ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসা দূষিত বায়ু এবং উত্তর ভারতের খড় পোড়ানো ধোঁয়া বাংলাদেশের উত্তর ও সীমান্ত অঞ্চলের আকাশকে বিষিয়ে তুলছে। অন্যদিকে, তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে যশোর ও সাতক্ষীরার মতো দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলো।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক পরিকল্পনা নয়, বরং দেশব্যাপী বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত দূষণ রোধ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যথায় জনস্বাস্থ্য এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন