পরিবেশ কন্ঠ

সুন্দরবন গ্রিন ডিক্লারেশন ও তরুণদের নেতৃত্বে বন সংরক্ষণের নতুন উদ্যোগ

উপকূল রক্ষার অঙ্গীকারে ‘সুন্দরবন সামিট ২০২৬’: অংশ নিচ্ছেন ৩০০ পরিবেশকর্মী


প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

উপকূল রক্ষার অঙ্গীকারে ‘সুন্দরবন সামিট ২০২৬’: অংশ নিচ্ছেন ৩০০ পরিবেশকর্মী
দেশি-বিদেশি ৩০০ জলবায়ু কর্মীর অংশগ্রহণের ছবি-

সুন্দরবন রক্ষায় তারুণ্যের নতুন অঙ্গীকার: খুলনায় শুরু হলো তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সামিট

“দেশি-বিদেশি ৩০০ জলবায়ু কর্মীর অংশগ্রহণে ঘোষিত হবে ‘সুন্দরবন গ্রিন ডিক্লারেশন ২০২৬’; থাকছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।”

জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন সংরক্ষণের এক দৃঢ় সংকল্প নিয়ে খুলনায় শুরু হয়েছে ‘সুন্দরবন সামিট ২০২৬’। বৃহস্পতিবার সকালে খুলনার জেলখানা ফেরিঘাট থেকে জলযানে সুন্দরবনের গন্তব্যে যাত্রার মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। 

তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই জাতীয় ফ্ল্যাগশিপ সামিটে অংশ নিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৩০০ জনেরও বেশি তরুণ পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মী। কেবল দেশি প্রতিনিধিরাই নন, সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় একাত্ম হতে যোগ দিয়েছেন ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, তিমুর-লেস্তে ও মিয়ানমারসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ১৯ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সি৩ইআর), মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, সাজিদা ফাউন্ডেশন এবং স্বপ্নপুরী কল্যাণ সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে এই বিশাল আয়োজন সম্পন্ন হচ্ছে। 

আয়োজক পক্ষ জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা প্রশমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বন সংরক্ষণের সচেতনতা তৈরি করাই এই সামিটের মূল উদ্দেশ্য। বনের প্রান্তিক জনপদের অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা এখানে প্রাধান্য পাবে। সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। 

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। এছাড়া দেশের বরেণ্য জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম এবং স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সম্মেলনে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। এই আলোচনায় সুন্দরবনের টেকসই উন্নয়নের পথে বিদ্যমান বাধাগুলো চিহ্নিত করা হবে এবং সবুজ উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে। 

সামিটের সমাপনী দিনে অংশগ্রহণকারী এবং বিশেষজ্ঞদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতে তৈরি হবে একটি বিশেষ অঙ্গীকারনামা, যার নাম দেওয়া হয়েছে “সুন্দরবন গ্রিন ডিক্লারেশন ২০২৬”। এটি সুন্দরবন সুরক্ষার একটি দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হবে। তরুণদের হাত ধরে বিশ্বের এই অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার এই নতুন অভিযাত্রা বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে বলে পরিবেশবিদরা প্রত্যাশা করছেন। 

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


উপকূল রক্ষার অঙ্গীকারে ‘সুন্দরবন সামিট ২০২৬’: অংশ নিচ্ছেন ৩০০ পরিবেশকর্মী

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

সুন্দরবন রক্ষায় তারুণ্যের নতুন অঙ্গীকার: খুলনায় শুরু হলো তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সামিট

“দেশি-বিদেশি ৩০০ জলবায়ু কর্মীর অংশগ্রহণে ঘোষিত হবে ‘সুন্দরবন গ্রিন ডিক্লারেশন ২০২৬’; থাকছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।”

জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন সংরক্ষণের এক দৃঢ় সংকল্প নিয়ে খুলনায় শুরু হয়েছে ‘সুন্দরবন সামিট ২০২৬’। বৃহস্পতিবার সকালে খুলনার জেলখানা ফেরিঘাট থেকে জলযানে সুন্দরবনের গন্তব্যে যাত্রার মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। 

তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই জাতীয় ফ্ল্যাগশিপ সামিটে অংশ নিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৩০০ জনেরও বেশি তরুণ পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মী। কেবল দেশি প্রতিনিধিরাই নন, সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় একাত্ম হতে যোগ দিয়েছেন ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, তিমুর-লেস্তে ও মিয়ানমারসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ১৯ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সি৩ইআর), মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, সাজিদা ফাউন্ডেশন এবং স্বপ্নপুরী কল্যাণ সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে এই বিশাল আয়োজন সম্পন্ন হচ্ছে। 

আয়োজক পক্ষ জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা প্রশমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বন সংরক্ষণের সচেতনতা তৈরি করাই এই সামিটের মূল উদ্দেশ্য। বনের প্রান্তিক জনপদের অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা এখানে প্রাধান্য পাবে। সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। 

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। এছাড়া দেশের বরেণ্য জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম এবং স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সম্মেলনে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। এই আলোচনায় সুন্দরবনের টেকসই উন্নয়নের পথে বিদ্যমান বাধাগুলো চিহ্নিত করা হবে এবং সবুজ উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে। 

সামিটের সমাপনী দিনে অংশগ্রহণকারী এবং বিশেষজ্ঞদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতে তৈরি হবে একটি বিশেষ অঙ্গীকারনামা, যার নাম দেওয়া হয়েছে “সুন্দরবন গ্রিন ডিক্লারেশন ২০২৬”। এটি সুন্দরবন সুরক্ষার একটি দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হবে। তরুণদের হাত ধরে বিশ্বের এই অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার এই নতুন অভিযাত্রা বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে বলে পরিবেশবিদরা প্রত্যাশা করছেন। 

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ