চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান দমনের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। তার পক্ষে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আইন সংস্থা ‘কিংসলি ন্যাপলি’ এই চিঠি প্রেরণ করে।
গত ৩০ মার্চ ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠিতে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার সম্পন্ন করা এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায্য বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। এতে বিচার প্রক্রিয়াকে ‘অন্যায্য ও অবৈধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, বিচার প্রক্রিয়ায় একাধিক গুরুতর ত্রুটি ছিল, যার মধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ঘাটতি, প্রসিকিউশনের পক্ষপাতিত্ব, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অভাব এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ না করেই সাজা প্রদান—এসব বিষয় উল্লেখযোগ্য। এসব কারণে পুরো বিচার প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
শেখ হাসিনার আইনজীবী দল আরও অভিযোগ করে, তাকে অভিযোগ ও প্রমাণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগও দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি বিচার চলাকালে রাজনৈতিক প্রভাব ও বৈরী পরিবেশের কথাও তুলে ধরা হয়।
চিঠিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং ন্যায্যতার ঘাটতির কথা জানিয়েছে।
এছাড়া ট্রাইব্যুনালের গঠনপ্রক্রিয়া, বিচারক নিয়োগ, প্রসিকিউশনের ভূমিকা এবং বিচার চলাকালে আচরণ নিয়েও সমালোচনা করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার অভাব ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল জুলাই আন্দোলন দমনে সহিংসতার ঘটনায় উসকানি, নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্টতা।
চিঠিতে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় অবিলম্বে বাতিল, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে বিচার পরিচালনা, আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তার অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৪ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।
পরি-কণ্ঠ/মুয়াজ
বিষয় : শেখহাসিনা মৃত্যুদণ্ড

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান দমনের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। তার পক্ষে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আইন সংস্থা ‘কিংসলি ন্যাপলি’ এই চিঠি প্রেরণ করে।
গত ৩০ মার্চ ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠিতে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার সম্পন্ন করা এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায্য বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। এতে বিচার প্রক্রিয়াকে ‘অন্যায্য ও অবৈধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, বিচার প্রক্রিয়ায় একাধিক গুরুতর ত্রুটি ছিল, যার মধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ঘাটতি, প্রসিকিউশনের পক্ষপাতিত্ব, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অভাব এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ না করেই সাজা প্রদান—এসব বিষয় উল্লেখযোগ্য। এসব কারণে পুরো বিচার প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
শেখ হাসিনার আইনজীবী দল আরও অভিযোগ করে, তাকে অভিযোগ ও প্রমাণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগও দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি বিচার চলাকালে রাজনৈতিক প্রভাব ও বৈরী পরিবেশের কথাও তুলে ধরা হয়।
চিঠিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং ন্যায্যতার ঘাটতির কথা জানিয়েছে।
এছাড়া ট্রাইব্যুনালের গঠনপ্রক্রিয়া, বিচারক নিয়োগ, প্রসিকিউশনের ভূমিকা এবং বিচার চলাকালে আচরণ নিয়েও সমালোচনা করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার অভাব ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল জুলাই আন্দোলন দমনে সহিংসতার ঘটনায় উসকানি, নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্টতা।
চিঠিতে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় অবিলম্বে বাতিল, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে বিচার পরিচালনা, আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তার অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৪ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।
পরি-কণ্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন