পরিবেশ কণ্ঠ

হরমুজ প্রণালি সংকটে কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত; কয়েক দিনের মধ্যেই উৎপাদন বন্ধের শঙ্কা

বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইআরএল



বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইআরএল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সংকটে পড়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় শোধনাগারটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইআরএল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শোধনাগারটির কাঁচামালের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। মজুত রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টন ক্রুড অয়েল, যা দিয়ে সর্বোচ্চ সাত থেকে আট দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব। ইতোমধ্যে দৈনিক উৎপাদন প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টন থেকে কমিয়ে ৩ হাজার ৩০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

ইআরএলের উপব্যবস্থাপক (অপারেশনস) মুহাম্মদ মামুনুর রশিদ খান জানান, নতুন করে অপরিশোধিত তেলের চালান না এলে আগামী ৫ এপ্রিলের আশপাশে ক্রুড অয়েল প্ল্যান্ট বন্ধ করে দিতে হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে দ্রুত নতুন চালান আসার সম্ভাবনাও কম।

সাধারণত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে নিয়মিত ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্ধারিত দুটি জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি। একটি জাহাজ সৌদি আরবের রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে ছাড়তে পারেনি, অন্যটি গন্তব্যে পৌঁছেই তেল লোড করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিকল্প হিসেবে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর হয়ে তেল আনার চেষ্টা চলছে। তবে এই রুটে তেল দেশে পৌঁছাতে এক মাসের বেশি সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত এই শোধনাগারটির বার্ষিক পরিশোধন সক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ টন। পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন ক্রুড অয়েল প্রয়োজন হয়। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার একটি অংশ এখান থেকে পূরণ হলেও বাকি বড় অংশ সরাসরি পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের জ্বালানি খাতে। দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না করা গেলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বিষয় : ইআরএল জ্বালানি_সংকট ক্রুড_অয়েল বাংলাদেশ_অর্থনীতি মধ্যপ্রাচ্য

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কণ্ঠ

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬


বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইআরএল

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সংকটে পড়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় শোধনাগারটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইআরএল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শোধনাগারটির কাঁচামালের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। মজুত রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টন ক্রুড অয়েল, যা দিয়ে সর্বোচ্চ সাত থেকে আট দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব। ইতোমধ্যে দৈনিক উৎপাদন প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টন থেকে কমিয়ে ৩ হাজার ৩০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

ইআরএলের উপব্যবস্থাপক (অপারেশনস) মুহাম্মদ মামুনুর রশিদ খান জানান, নতুন করে অপরিশোধিত তেলের চালান না এলে আগামী ৫ এপ্রিলের আশপাশে ক্রুড অয়েল প্ল্যান্ট বন্ধ করে দিতে হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে দ্রুত নতুন চালান আসার সম্ভাবনাও কম।

সাধারণত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে নিয়মিত ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্ধারিত দুটি জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি। একটি জাহাজ সৌদি আরবের রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে ছাড়তে পারেনি, অন্যটি গন্তব্যে পৌঁছেই তেল লোড করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিকল্প হিসেবে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর হয়ে তেল আনার চেষ্টা চলছে। তবে এই রুটে তেল দেশে পৌঁছাতে এক মাসের বেশি সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত এই শোধনাগারটির বার্ষিক পরিশোধন সক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ টন। পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন ক্রুড অয়েল প্রয়োজন হয়। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার একটি অংশ এখান থেকে পূরণ হলেও বাকি বড় অংশ সরাসরি পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের জ্বালানি খাতে। দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না করা গেলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কণ্ঠ

সম্পাদক: ড. মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ