পরিবেশ কণ্ঠ

কম দামে পাঞ্জাবি ও আকর্ষণীয় অফার ঘিরে বিশৃঙ্খলা, আদালতের নির্দেশে দোকান পুনরায় খোলা

মব নাকি ‘অফার’—মগবাজারে নবীন ফ্যাশন বিতর্কে রহস্য ঘনীভূত



মব নাকি ‘অফার’—মগবাজারে নবীন ফ্যাশন বিতর্কে রহস্য ঘনীভূত

রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারে অবস্থিত ‘নবীন ফ্যাশন’ নামের একটি পোশাকের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। প্রতিষ্ঠানটির মালিক এনামুল হাসান নবীন অভিযোগ করেছেন, ‘মব’ সৃষ্টি করে তার দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে দোকান মালিক সমিতির দাবি, অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলার কারণে সাময়িকভাবে দোকানটি বন্ধ করা হয়েছিল।

জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে নবীন ফ্যাশন পাঞ্জাবিতে আকর্ষণীয় অফার ঘোষণা করে। ৯৯০ টাকার দুটি পাঞ্জাবি কিনলে চারটি ফ্রি এবং মোটরসাইকেল চালকদের জন্য ইঞ্জিন অয়েল দেওয়ার ঘোষণায় বিপুল সংখ্যক ক্রেতা ও বাইকার ভিড় জমায়। এতে মার্কেটের সামনে যানজট ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দোকানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় নিরাপত্তা রক্ষী ও পুলিশ সদস্যদেরও হিমশিম খেতে দেখা যায়।

নবীন ফ্যাশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দোকান মালিক সমিতির কিছু নেতা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দলবদ্ধভাবে এসে দোকানটি বন্ধ করে দেন এবং পুলিশের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করা হয়।

অন্যদিকে দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন বলেন, অতিরিক্ত ভিড় ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে দোকানটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নজরে নিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান দোকানটি খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি গোলাম মর্তুজা ও এক পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ঘটনার পর ২৪ মার্চ রাতে নবীন ফ্যাশনের মালিক এনামুল হাসান নবীন চীন চলে যান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন।

বর্তমানে দোকানটি খোলা থাকলেও ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বিষয় : নবীন_ফ্যাশন মগবাজার ঢাকা DMP

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কণ্ঠ

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬


মব নাকি ‘অফার’—মগবাজারে নবীন ফ্যাশন বিতর্কে রহস্য ঘনীভূত

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারে অবস্থিত ‘নবীন ফ্যাশন’ নামের একটি পোশাকের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। প্রতিষ্ঠানটির মালিক এনামুল হাসান নবীন অভিযোগ করেছেন, ‘মব’ সৃষ্টি করে তার দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে দোকান মালিক সমিতির দাবি, অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলার কারণে সাময়িকভাবে দোকানটি বন্ধ করা হয়েছিল।

জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে নবীন ফ্যাশন পাঞ্জাবিতে আকর্ষণীয় অফার ঘোষণা করে। ৯৯০ টাকার দুটি পাঞ্জাবি কিনলে চারটি ফ্রি এবং মোটরসাইকেল চালকদের জন্য ইঞ্জিন অয়েল দেওয়ার ঘোষণায় বিপুল সংখ্যক ক্রেতা ও বাইকার ভিড় জমায়। এতে মার্কেটের সামনে যানজট ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দোকানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় নিরাপত্তা রক্ষী ও পুলিশ সদস্যদেরও হিমশিম খেতে দেখা যায়।

নবীন ফ্যাশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দোকান মালিক সমিতির কিছু নেতা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দলবদ্ধভাবে এসে দোকানটি বন্ধ করে দেন এবং পুলিশের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করা হয়।

অন্যদিকে দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন বলেন, অতিরিক্ত ভিড় ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে দোকানটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নজরে নিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান দোকানটি খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি গোলাম মর্তুজা ও এক পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ঘটনার পর ২৪ মার্চ রাতে নবীন ফ্যাশনের মালিক এনামুল হাসান নবীন চীন চলে যান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন।

বর্তমানে দোকানটি খোলা থাকলেও ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কণ্ঠ

সম্পাদক: ড. মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ