পরিবেশ কণ্ঠ

দখল-দূষণে ৫ বছর জেল, বিচারিক ক্ষমতা পাচ্ছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন

জেলায় জেলায় নদী রক্ষা আদালত গঠনের উদ্যোগ



জেলায় জেলায় নদী রক্ষা আদালত গঠনের উদ্যোগ

দেশের নদী, খাল ও সমুদ্র উপকূল দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে বড় ধরনের আইনি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন–কে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় ‘নদী রক্ষা আদালত’ গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ শিরোনামে একটি খসড়া আইন সম্প্রতি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৬ এপ্রিলের মধ্যে এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন, ২০১৩ অনুযায়ী কমিশন শুধু সুপারিশ করতে পারে। তবে নতুন আইনে কমিশনকে Code of Civil Procedure, 1908–এর অধীনে দেওয়ানি আদালতের মতো ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে কমিশন সরাসরি নির্দেশনা দিতে পারবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তা মানতে বাধ্য থাকবে।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নদী, খাল বা সমুদ্র উপকূল দখল, ভরাট বা দূষণ করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড অথবা ১৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলা, নদীর পানি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং অনুমতি ছাড়া বালু-পাথর উত্তোলনের ক্ষেত্রেও একই শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত আইনে দেশের সব নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ও ‘আইনি ব্যক্তি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নদী, খাল ও উপকূলকে ‘পাবলিক ট্রাস্ট প্রপার্টি’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং কমিশনকে এসবের আইনগত অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

নতুন আইনের আওতায় প্রতিটি জেলায় নদী রক্ষা আদালত স্থাপন করা হবে। কমিশনকে তল্লাশি, জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও দেওয়া হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা বন্ধ, সম্পদ জব্দ এবং নিলামের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতদিন বিভিন্ন আইনে শাস্তির বিধান থাকলেও সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ না থাকায় নদী দখল ও দূষণ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। নতুন আইন কার্যকর হলে এ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

 হ্যাশট্যাগ/টপিক

#নদী_রক্ষা #নদী_দখল #পরিবেশ_আইন #জাতীয়_নদী_রক্ষা_কমিশন #বাংলাদেশ #নদী_আদালত #দূষণ_রোধ

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬


জেলায় জেলায় নদী রক্ষা আদালত গঠনের উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬

featured Image

দেশের নদী, খাল ও সমুদ্র উপকূল দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে বড় ধরনের আইনি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন–কে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় ‘নদী রক্ষা আদালত’ গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ শিরোনামে একটি খসড়া আইন সম্প্রতি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৬ এপ্রিলের মধ্যে এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন, ২০১৩ অনুযায়ী কমিশন শুধু সুপারিশ করতে পারে। তবে নতুন আইনে কমিশনকে Code of Civil Procedure, 1908–এর অধীনে দেওয়ানি আদালতের মতো ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে কমিশন সরাসরি নির্দেশনা দিতে পারবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তা মানতে বাধ্য থাকবে।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নদী, খাল বা সমুদ্র উপকূল দখল, ভরাট বা দূষণ করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড অথবা ১৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলা, নদীর পানি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং অনুমতি ছাড়া বালু-পাথর উত্তোলনের ক্ষেত্রেও একই শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত আইনে দেশের সব নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ও ‘আইনি ব্যক্তি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নদী, খাল ও উপকূলকে ‘পাবলিক ট্রাস্ট প্রপার্টি’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং কমিশনকে এসবের আইনগত অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

নতুন আইনের আওতায় প্রতিটি জেলায় নদী রক্ষা আদালত স্থাপন করা হবে। কমিশনকে তল্লাশি, জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও দেওয়া হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা বন্ধ, সম্পদ জব্দ এবং নিলামের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতদিন বিভিন্ন আইনে শাস্তির বিধান থাকলেও সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ না থাকায় নদী দখল ও দূষণ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। নতুন আইন কার্যকর হলে এ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

 হ্যাশট্যাগ/টপিক

#নদী_রক্ষা #নদী_দখল #পরিবেশ_আইন #জাতীয়_নদী_রক্ষা_কমিশন #বাংলাদেশ #নদী_আদালত #দূষণ_রোধ

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কণ্ঠ

সম্পাদক: ড. মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ