২০১৩ সালের ৫ মে দিবাগত রাতে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের ওপর চালানো সেই বিশেষ অভিযানের স্মৃতি আজও জাতির মনে অমলিন। দীর্ঘ ১৩ বছর পর সেই রক্তাক্ত ঘটনার তদন্তে এক নতুন মোড় এসেছে।
শাপলা চত্বরে সংঘটিত ‘হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে করা মামলার একটি খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম। রবিবার (১৭ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্ত সংস্থা তাদের কাছে একটি খসড়া প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে এটি কোনো চূড়ান্ত নথি নয়। প্রসিকিউশন বর্তমানে এই প্রতিবেদনের প্রতিটি দিক অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করছে। তদন্তের এই পর্যায়ে কোনো গোপনীয় তথ্য প্রকাশ না করার স্বার্থে তিনি প্রতিবেদনের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, খসড়াটি যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পরই কেবল চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোবে প্রসিকিউশন।
এদিকে মামলার সার্বিক অগ্রগতি এবং বিচারিক কার্যক্রমের গতিধারা সম্পর্কে সরাসরি খোঁজ নিতে এদিন প্রসিকিউশনের আইনজীবী দলের সাথে মতবিনিময়ে অংশ নেন হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ পর্যায়ের একদল নেতা। হেফাজত নেতাদের সাথে এই বৈঠক প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, উনারা মূলত মামলার বর্তমান অবস্থা এবং অগ্রগতি সম্পর্কে জানতেই আমাদের কাছে এসেছেন। আমরা তাদের সাথে মতবিনিময় করেছি। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন যখন আমাদের হাতে আসবে, তখনই আমরা পূর্ণাঙ্গ আইনি কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষম হব।
বর্তমানে পর্যালোচনার কাজ চলছে এবং শিগগিরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, শাপলা চত্বরের সেই অভিযানকে কেন্দ্র করে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নানামুখী বিতর্ক ও অভিযোগ থাকলেও বর্তমান সরকার ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর বিচার প্রক্রিয়া নতুন করে প্রাণ পেয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন। ট্রাইব্যুনালের এই কার্যক্রম দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় একটি মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
২০১৩ সালের ৫ মে দিবাগত রাতে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের ওপর চালানো সেই বিশেষ অভিযানের স্মৃতি আজও জাতির মনে অমলিন। দীর্ঘ ১৩ বছর পর সেই রক্তাক্ত ঘটনার তদন্তে এক নতুন মোড় এসেছে।
শাপলা চত্বরে সংঘটিত ‘হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে করা মামলার একটি খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম। রবিবার (১৭ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্ত সংস্থা তাদের কাছে একটি খসড়া প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে এটি কোনো চূড়ান্ত নথি নয়। প্রসিকিউশন বর্তমানে এই প্রতিবেদনের প্রতিটি দিক অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করছে। তদন্তের এই পর্যায়ে কোনো গোপনীয় তথ্য প্রকাশ না করার স্বার্থে তিনি প্রতিবেদনের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, খসড়াটি যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পরই কেবল চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোবে প্রসিকিউশন।
এদিকে মামলার সার্বিক অগ্রগতি এবং বিচারিক কার্যক্রমের গতিধারা সম্পর্কে সরাসরি খোঁজ নিতে এদিন প্রসিকিউশনের আইনজীবী দলের সাথে মতবিনিময়ে অংশ নেন হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ পর্যায়ের একদল নেতা। হেফাজত নেতাদের সাথে এই বৈঠক প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, উনারা মূলত মামলার বর্তমান অবস্থা এবং অগ্রগতি সম্পর্কে জানতেই আমাদের কাছে এসেছেন। আমরা তাদের সাথে মতবিনিময় করেছি। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন যখন আমাদের হাতে আসবে, তখনই আমরা পূর্ণাঙ্গ আইনি কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষম হব।
বর্তমানে পর্যালোচনার কাজ চলছে এবং শিগগিরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, শাপলা চত্বরের সেই অভিযানকে কেন্দ্র করে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নানামুখী বিতর্ক ও অভিযোগ থাকলেও বর্তমান সরকার ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর বিচার প্রক্রিয়া নতুন করে প্রাণ পেয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন। ট্রাইব্যুনালের এই কার্যক্রম দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় একটি মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন