উত্তরা র্যাব-১ সদর দপ্তরে টিএফআই সেলের ২৯টি কক্ষে তল্লাশি; আগামী শনিবার ডিজিএফআই কার্যালয় পরিদর্শনের ঘোষণা।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত আলোচিত ‘গোপন বন্দিশালা’ বা কথিত ‘আয়নাঘর’ নিয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতিরা ঢাকার উত্তরায় র্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল পরিদর্শন করেছেন। এই পরিদর্শনের মাধ্যমে গুম ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন এক মাইলফলক তৈরি হলো।
ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে এই বিচারিক দলে ছিলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। পরিদর্শনকালে প্রসিকিউশন টিমের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম, আসামিপক্ষের আইনজীবী তাবারক হোসেন, তদন্ত কর্মকর্তা এবং মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটনসহ বিবাদমান উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে প্রধান কৌঁসুলি গণমাধ্যমকে জানান যে, দেশের প্রচলিত আইনের ৫৩৯-বি ধারা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিধি অনুযায়ী কোনো ঘটনার নিরপেক্ষ বিচারের স্বার্থে বিচারকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের বিধান রয়েছে। তিনি টিএফআই সেলকে একটি ‘নির্মম টর্চার সেল’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, সেখানে ছোট-বড় মোট ২৯টি কক্ষ পাওয়া গেছে।
যার মধ্যে নিচের একটি কক্ষ ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ, যেখানে একজন স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে লম্বা হয়ে শোয়ারও কোনো সুযোগ নেই। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তিনি আরও দাবি করেন, এই প্রকোষ্ঠগুলোতে দিনের পর দিন, এমনকি বছরের পর বছর রাজনৈতিক বন্দিদের হাত ও চোখ বেঁধে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন চালানো হতো। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ ও ব্যারিস্টার আরমানের মতো ব্যক্তিদের এই সেলে বন্দি রাখার আলামত পাওয়া গেছে। প্রধান কৌঁসুলি অভিযোগ করেন যে, অনেক ক্ষেত্রে আলামত নষ্ট করতে নতুন করে দেয়াল তৈরি করা হয়েছিল। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
আইনজীবী তাবারক হোসেন দাবি করেন, টিএফআই কোনো নির্দিষ্ট ভবন নয় বরং এটি একটি টাস্কফোর্স। তিনি আদালতকে বলেন যে, সেখানে বন্দিদের রাখা হলেও তা আইনি প্রক্রিয়া মেনেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে প্রসিকিউশন এই যুক্তি খণ্ডন করে বলেছে, ইলিয়াস আলীসহ আড়াই শতাধিক গুম হওয়া মানুষের হদিস এখনো মেলেনি। আগামী শনিবার ঢাকা সেনানিবাসের ডিজিএফআই কার্যালয়ে থাকা আরেকটি সম্ভাব্য বন্দিশালা পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাইব্যুনালের। এই তদন্ত কার্যক্রমটি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
উত্তরা র্যাব-১ সদর দপ্তরে টিএফআই সেলের ২৯টি কক্ষে তল্লাশি; আগামী শনিবার ডিজিএফআই কার্যালয় পরিদর্শনের ঘোষণা।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত আলোচিত ‘গোপন বন্দিশালা’ বা কথিত ‘আয়নাঘর’ নিয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতিরা ঢাকার উত্তরায় র্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল পরিদর্শন করেছেন। এই পরিদর্শনের মাধ্যমে গুম ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন এক মাইলফলক তৈরি হলো।
ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে এই বিচারিক দলে ছিলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। পরিদর্শনকালে প্রসিকিউশন টিমের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম, আসামিপক্ষের আইনজীবী তাবারক হোসেন, তদন্ত কর্মকর্তা এবং মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটনসহ বিবাদমান উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে প্রধান কৌঁসুলি গণমাধ্যমকে জানান যে, দেশের প্রচলিত আইনের ৫৩৯-বি ধারা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিধি অনুযায়ী কোনো ঘটনার নিরপেক্ষ বিচারের স্বার্থে বিচারকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের বিধান রয়েছে। তিনি টিএফআই সেলকে একটি ‘নির্মম টর্চার সেল’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, সেখানে ছোট-বড় মোট ২৯টি কক্ষ পাওয়া গেছে।
যার মধ্যে নিচের একটি কক্ষ ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ, যেখানে একজন স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে লম্বা হয়ে শোয়ারও কোনো সুযোগ নেই। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তিনি আরও দাবি করেন, এই প্রকোষ্ঠগুলোতে দিনের পর দিন, এমনকি বছরের পর বছর রাজনৈতিক বন্দিদের হাত ও চোখ বেঁধে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন চালানো হতো। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ ও ব্যারিস্টার আরমানের মতো ব্যক্তিদের এই সেলে বন্দি রাখার আলামত পাওয়া গেছে। প্রধান কৌঁসুলি অভিযোগ করেন যে, অনেক ক্ষেত্রে আলামত নষ্ট করতে নতুন করে দেয়াল তৈরি করা হয়েছিল। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
আইনজীবী তাবারক হোসেন দাবি করেন, টিএফআই কোনো নির্দিষ্ট ভবন নয় বরং এটি একটি টাস্কফোর্স। তিনি আদালতকে বলেন যে, সেখানে বন্দিদের রাখা হলেও তা আইনি প্রক্রিয়া মেনেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে প্রসিকিউশন এই যুক্তি খণ্ডন করে বলেছে, ইলিয়াস আলীসহ আড়াই শতাধিক গুম হওয়া মানুষের হদিস এখনো মেলেনি। আগামী শনিবার ঢাকা সেনানিবাসের ডিজিএফআই কার্যালয়ে থাকা আরেকটি সম্ভাব্য বন্দিশালা পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাইব্যুনালের। এই তদন্ত কার্যক্রমটি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন