পরিবেশ কন্ঠ

আওয়ামী লীগকে রাজপথে মোকাবিলার ঘোষণা দিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি


প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

আওয়ামী লীগকে রাজপথে মোকাবিলার ঘোষণা দিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম

আয়নাঘর ও গণহত্যার অপরাধে অনুশোচনাহীন শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনায় কড়া বার্তা হাফিজ উদ্দিন আহমদের।

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক আবেগঘন পরিবেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। বুধবার (৫ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। পলাতক আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা ও দলটির কর্মীদের আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার প্রচারণার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘তারা বলছে ডিসেম্বর মাসে দেশে আসবে। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছি, তারা আসুক। ইনশাল্লাহ রাজপথেই তাদের সাথে দেখা হবে।’

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসনের কঠোর সমালোচনা করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতে সংঘটিত হত্যা, গুম, মানি লন্ডারিং এবং বিতর্কিত ‘আয়নাঘর’ নিয়ে দলটির মধ্যে কোনো নূন্যতম অনুশোচনা নেই। তাদের কর্মকাণ্ডে লজ্জিত হওয়ার বদলে তারা পুনরায় বিশৃঙ্খলা তৈরির পরিকল্পনা করছে। হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার সংগ্রামী জীবনের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমি ২৭ বছর বয়সে দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছি, এখন ৮২ বছর বয়সেও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরেকটি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত আছি।’ তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, কোনো অপশক্তিই ছাত্র-জনতার অর্জিত এই বিজয়কে নসাৎ করতে পারবে না।

জুলাই অভ্যুত্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সরকারের সবচেয়ে বড় ও পবিত্র দায়িত্ব হলো শহীদ পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা। যারা দৃষ্টিশক্তি বা অঙ্গ হারিয়েছেন, তাদের সুস্থ করে তুলতে রাষ্ট্র সম্ভাব্য সবটুকু করবে। গণতন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ যেমন গণতন্ত্রের জন্য ছিল, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের বিপ্লবও ছিল একই উদ্দেশ্যে। নির্বাচনকে গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেই দেশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।

তবে অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ায় তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি সংবলিত ডকুমেন্টারিতে অসংগতি থাকায় আগতদের একাংশ হট্টগোল শুরু করলে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হন। তিনি বলেন, আবু সাঈদ এই বিপ্লবের প্রতীক, তার ছবি ছাড়া কোনো ডকুমেন্টারি পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। ত্রুটি স্বীকার করে মন্ত্রী ক্ষমা চাওয়ার পরেও বিশৃঙ্খলা বজায় রাখা কাম্য নয়। বিদেশিদের উপস্থিতিতে এই ধরনের আচরণ জাতীয় মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশের সংকটময় মুহূর্তে বিভাজন ভুলে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য তিনি সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


আওয়ামী লীগকে রাজপথে মোকাবিলার ঘোষণা দিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

আয়নাঘর ও গণহত্যার অপরাধে অনুশোচনাহীন শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনায় কড়া বার্তা হাফিজ উদ্দিন আহমদের।

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক আবেগঘন পরিবেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। বুধবার (৫ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। পলাতক আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা ও দলটির কর্মীদের আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার প্রচারণার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘তারা বলছে ডিসেম্বর মাসে দেশে আসবে। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছি, তারা আসুক। ইনশাল্লাহ রাজপথেই তাদের সাথে দেখা হবে।’

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসনের কঠোর সমালোচনা করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতে সংঘটিত হত্যা, গুম, মানি লন্ডারিং এবং বিতর্কিত ‘আয়নাঘর’ নিয়ে দলটির মধ্যে কোনো নূন্যতম অনুশোচনা নেই। তাদের কর্মকাণ্ডে লজ্জিত হওয়ার বদলে তারা পুনরায় বিশৃঙ্খলা তৈরির পরিকল্পনা করছে। হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার সংগ্রামী জীবনের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমি ২৭ বছর বয়সে দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছি, এখন ৮২ বছর বয়সেও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরেকটি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত আছি।’ তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, কোনো অপশক্তিই ছাত্র-জনতার অর্জিত এই বিজয়কে নসাৎ করতে পারবে না।

জুলাই অভ্যুত্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সরকারের সবচেয়ে বড় ও পবিত্র দায়িত্ব হলো শহীদ পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা। যারা দৃষ্টিশক্তি বা অঙ্গ হারিয়েছেন, তাদের সুস্থ করে তুলতে রাষ্ট্র সম্ভাব্য সবটুকু করবে। গণতন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ যেমন গণতন্ত্রের জন্য ছিল, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের বিপ্লবও ছিল একই উদ্দেশ্যে। নির্বাচনকে গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেই দেশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।

তবে অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ায় তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি সংবলিত ডকুমেন্টারিতে অসংগতি থাকায় আগতদের একাংশ হট্টগোল শুরু করলে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হন। তিনি বলেন, আবু সাঈদ এই বিপ্লবের প্রতীক, তার ছবি ছাড়া কোনো ডকুমেন্টারি পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। ত্রুটি স্বীকার করে মন্ত্রী ক্ষমা চাওয়ার পরেও বিশৃঙ্খলা বজায় রাখা কাম্য নয়। বিদেশিদের উপস্থিতিতে এই ধরনের আচরণ জাতীয় মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশের সংকটময় মুহূর্তে বিভাজন ভুলে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য তিনি সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ