ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মরিয়াম খাতুনের মরদেহ; দায়ের করা মামলায় স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ সদস্যদের আবাসিক ভবন (ন্যাম ভবন) থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের কক্ষের দরজা ভেঙে পুলিশ মরিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মাছুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং মরিয়ামের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং রাত ১০টার দিকে কক্ষের ভেতর থেকে মরিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, উদ্ধারের সময় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বাসায় উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটি দুর্ঘটনা না কি পরিকল্পিত হত্যা, তা নিশ্চিত হতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয় এবং পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার দেখায়। মরিয়ামের মৃত্যুর নেপথ্যে রয়েছে নানা ঘটনাপ্রবাহ। চলতি বছরের জুলাই মাসে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গাজী নজরুল ও মরিয়ামের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে।
তখন গাজী নজরুল দাবি করেছিলেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তিনি মরিয়ামকে বিয়ে করেছেন। এই ভিডিওকাণ্ডকে ঘিরে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ তুলে ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও মরিয়ামের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছিলেন তিনি। ওবায়দুর রহমানও পরবর্তীতে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনেন। ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে রবিবারই নিম্ন আদালতে জামিননামা দাখিল করেছিলেন এমপি নজরুল।
জামিন পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু ও গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, ভিডিওকাণ্ডের পর গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে পুলিশ ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মরিয়াম খাতুনের মরদেহ; দায়ের করা মামলায় স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ সদস্যদের আবাসিক ভবন (ন্যাম ভবন) থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের কক্ষের দরজা ভেঙে পুলিশ মরিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মাছুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং মরিয়ামের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং রাত ১০টার দিকে কক্ষের ভেতর থেকে মরিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, উদ্ধারের সময় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বাসায় উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটি দুর্ঘটনা না কি পরিকল্পিত হত্যা, তা নিশ্চিত হতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয় এবং পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার দেখায়। মরিয়ামের মৃত্যুর নেপথ্যে রয়েছে নানা ঘটনাপ্রবাহ। চলতি বছরের জুলাই মাসে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গাজী নজরুল ও মরিয়ামের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে।
তখন গাজী নজরুল দাবি করেছিলেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তিনি মরিয়ামকে বিয়ে করেছেন। এই ভিডিওকাণ্ডকে ঘিরে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ তুলে ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও মরিয়ামের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছিলেন তিনি। ওবায়দুর রহমানও পরবর্তীতে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনেন। ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে রবিবারই নিম্ন আদালতে জামিননামা দাখিল করেছিলেন এমপি নজরুল।
জামিন পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু ও গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, ভিডিওকাণ্ডের পর গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে পুলিশ ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন