পরিবেশ কন্ঠ

সুড়ঙ্গে আটকা ৯০০ শ্রমিক

নেপালে বন্যায় ৯১৯ জনের মৃত্যু: নিখোঁজ ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ


প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

নেপালে বন্যায় ৯১৯ জনের মৃত্যু: নিখোঁজ ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ
সংগৃহীত

প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গেছে হিমালয়ের কোলঘেঁষা দেশ নেপাল। গত সপ্তাহের প্রলয়ঙ্করী বন্যার ক্ষত আরও গভীর হচ্ছে সময় বাড়ার সাথে সাথে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নেপাল ও প্রতিবেশী চীনের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বন্যায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১৯ জনে। উদ্ধারকাজে গতি এলেও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, যা বর্তমানে ৪ হাজার ৭৯৩ জনে গিয়ে ঠেকেছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নিখোঁজের তালিকায় যোগ হয়েছে আরও প্রায় দেড় হাজার মানুষের নাম, যা দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

নেপাল কর্তৃপক্ষের জন্য এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের বিভিন্ন নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের জীবন রক্ষা করা। জানা গেছে, বিভিন্ন প্রকল্পের সুড়ঙ্গ বা টানেলে বর্তমানে অন্তত ৯০০-এর বেশি শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন। প্রবল বর্ষণ আর পাহাড়ী ধসের কারণে সুড়ঙ্গের মুখগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভেতরে অক্সিজেন ও আলোর তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে। উদ্ধারকারী দলগুলো প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেই আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে তাদের বের করে আনতে, তবে অবিরাম বৃষ্টি ও কর্দমাক্ত মাটির কারণে উদ্ধারকাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে, চীন সীমান্ত সংলগ্ন জিরং বন্দরে নতুন করে বিপর্যয়ের মেঘ জমছে। বেইজিংয়ের আবহাওয়া দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, সেখানে অন্তত ৮টি পয়েন্টকে 'উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগ পয়েন্ট' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ের ঢলে কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়া বাঁধ বা বেরিয়ার লেকগুলোর পানির উচ্চতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। যেকোনো মুহূর্তে এই বাঁধগুলো ভেঙে গেলে ভাটি অঞ্চলে নতুন করে ভয়াবহ প্লাবনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপাল ও চীন—উভয় দেশের সীমান্ত কর্তৃপক্ষ এখন উচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই ভয়াবহ মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। পার্বত্য অঞ্চলের রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় অনেক দুর্গম এলাকায় এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি ত্রাণ বা জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক প্রাণ চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকর্মীরা। হিমালয়ের এই শান্ত জনপদে এখন স্বজন হারানোদের হাহাকার আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ছায়া। আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে। সব মিলিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে নেপালের বন্যাকবলিত মানুষ।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


নেপালে বন্যায় ৯১৯ জনের মৃত্যু: নিখোঁজ ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গেছে হিমালয়ের কোলঘেঁষা দেশ নেপাল। গত সপ্তাহের প্রলয়ঙ্করী বন্যার ক্ষত আরও গভীর হচ্ছে সময় বাড়ার সাথে সাথে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নেপাল ও প্রতিবেশী চীনের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বন্যায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১৯ জনে। উদ্ধারকাজে গতি এলেও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, যা বর্তমানে ৪ হাজার ৭৯৩ জনে গিয়ে ঠেকেছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নিখোঁজের তালিকায় যোগ হয়েছে আরও প্রায় দেড় হাজার মানুষের নাম, যা দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

নেপাল কর্তৃপক্ষের জন্য এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের বিভিন্ন নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের জীবন রক্ষা করা। জানা গেছে, বিভিন্ন প্রকল্পের সুড়ঙ্গ বা টানেলে বর্তমানে অন্তত ৯০০-এর বেশি শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন। প্রবল বর্ষণ আর পাহাড়ী ধসের কারণে সুড়ঙ্গের মুখগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভেতরে অক্সিজেন ও আলোর তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে। উদ্ধারকারী দলগুলো প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেই আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে তাদের বের করে আনতে, তবে অবিরাম বৃষ্টি ও কর্দমাক্ত মাটির কারণে উদ্ধারকাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে, চীন সীমান্ত সংলগ্ন জিরং বন্দরে নতুন করে বিপর্যয়ের মেঘ জমছে। বেইজিংয়ের আবহাওয়া দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, সেখানে অন্তত ৮টি পয়েন্টকে 'উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগ পয়েন্ট' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ের ঢলে কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়া বাঁধ বা বেরিয়ার লেকগুলোর পানির উচ্চতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। যেকোনো মুহূর্তে এই বাঁধগুলো ভেঙে গেলে ভাটি অঞ্চলে নতুন করে ভয়াবহ প্লাবনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপাল ও চীন—উভয় দেশের সীমান্ত কর্তৃপক্ষ এখন উচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই ভয়াবহ মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। পার্বত্য অঞ্চলের রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় অনেক দুর্গম এলাকায় এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি ত্রাণ বা জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক প্রাণ চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকর্মীরা। হিমালয়ের এই শান্ত জনপদে এখন স্বজন হারানোদের হাহাকার আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ছায়া। আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে। সব মিলিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে নেপালের বন্যাকবলিত মানুষ।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ