পরিবেশ কন্ঠ

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহ


প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহ
সংগৃহীত

ডেঙ্গুর ভয়াবহ দাপট: একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড, প্রাণ হারালেন আরও ৪ জন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১,১৬৩ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন; মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৭।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমান্বয়ে অবনতি ঘটছে। গত কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় এডিস মশাবাহিত এই রোগটি এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে সোমবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ১৬৩ জন রোগী, যা চলতি বছরের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে জমে থাকা বৃষ্টির পানি এডিস মশার প্রজননের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে। ফলে শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলেই মশার বিস্তার আগের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৯৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৮৪৬ জনে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার প্রধান সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এখন উপচে পড়ছে।

কেন পরিস্থিতির এমন অবনতি হলো, তা নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নানা বিশ্লেষণ চলছে। তারা মনে করছেন, জনসচেতনতার অভাব এবং মশক নিধন কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি এ ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছে। সাধারণ মানুষ যদি নিজ নিজ আঙিনা এবং বাড়ির ছাদ পরিষ্কার রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, সামান্য জ্বর বা শরীর ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হওয়ার কারণেই পরিস্থিতির জটিলতা বাড়ছে এবং প্রাণহানি ঘটছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে কয়েক হাজার রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের ঝুঁকি বেশি থাকায় তাদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই হতে পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের প্রধান পথ। এই ভয়াবহ সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ তাদের জনবল ও চিকিৎসা সক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ডেঙ্গুর ভয়াবহ দাপট: একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড, প্রাণ হারালেন আরও ৪ জন


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১,১৬৩ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন; মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৭।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমান্বয়ে অবনতি ঘটছে। গত কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় এডিস মশাবাহিত এই রোগটি এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে সোমবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ১৬৩ জন রোগী, যা চলতি বছরের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে জমে থাকা বৃষ্টির পানি এডিস মশার প্রজননের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে। ফলে শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলেই মশার বিস্তার আগের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৯৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৮৪৬ জনে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার প্রধান সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এখন উপচে পড়ছে।

কেন পরিস্থিতির এমন অবনতি হলো, তা নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নানা বিশ্লেষণ চলছে। তারা মনে করছেন, জনসচেতনতার অভাব এবং মশক নিধন কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি এ ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছে। সাধারণ মানুষ যদি নিজ নিজ আঙিনা এবং বাড়ির ছাদ পরিষ্কার রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, সামান্য জ্বর বা শরীর ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হওয়ার কারণেই পরিস্থিতির জটিলতা বাড়ছে এবং প্রাণহানি ঘটছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে কয়েক হাজার রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের ঝুঁকি বেশি থাকায় তাদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই হতে পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের প্রধান পথ। এই ভয়াবহ সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ তাদের জনবল ও চিকিৎসা সক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ