পরিবেশ কন্ঠ

ছাদভিত্তিক সোলারে ইউনিটপ্রতি ১০.৫০ টাকা দামের প্রস্তাব


প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ছাদভিত্তিক সোলারে ইউনিটপ্রতি ১০.৫০ টাকা দামের প্রস্তাব
সংগৃহীত

আগামী ছয় মাসে ৩ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ; বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে বিশেষ প্রণোদনার প্রস্তাব।

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের আভাস দিয়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ক্রয়ে আকর্ষণীয় মূল্য নির্ধারণের পরিকল্পনা করেছে সরকার। নতুন এই প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ভবনের ছাদে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০.৫০ টাকা দরে কিনে নেবে বিদ্যুৎ বিভাগ। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আমদানিকৃত ব্যয়বহুল জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে এ উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ছাদভিত্তিক উৎস থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের এক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সাধারণ গ্রাহক ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে এই প্রতিযোগিতামূলক দামের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ইউনিটপ্রতি পাইকারি দামের চেয়ে এই দর কিছুটা বেশি হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় বিতরণ কোম্পানিগুলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে ভর্তুকি দাবি করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) জানিয়েছে, বর্তমানে ৩৩ কেভি ভোল্টেজে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১০.০৯ টাকা। সরকার ১০.৫০ টাকা নির্ধারণ করলে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৪০ পয়সা ঘাটতি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই ঘাটতি পূরণে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হলে গ্রাহকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি নেট মিটারিং পদ্ধতিও দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা পাবে।

এতদিন ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা শুধুমাত্র পাইকারি দরে মূল্য পেতেন, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য খুব একটা লাভজনক ছিল না। বর্তমানে সারাদেশে মাত্র ৪ হাজার ৯৭০ জন গ্রাহক নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় রয়েছেন, যাদের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ৩৪১ মেগাওয়াট। নতুন এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ভবনের মালিকরা নিজে অথবা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিনিয়োগ করে ঘরে বসেই আয়ের সুযোগ পাবেন। এছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ খাতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি পাওয়ার প্লান্টে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে বর্তমানে যেখানে গড়ে ১৩ টাকার মতো খরচ হচ্ছে, সেখানে ১০.৫০ টাকায় সৌরবিদ্যুৎ পাওয়া সরকারের জন্য আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী হবে। এটি দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা ভবনের ছাদগুলোকে একটি করে ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরিণত করার সুযোগ করে দেবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট খাতের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এই মডেলটিকে ইন্টারনেট বা ক্যাবল অপারেটরদের সেবার মতো তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন। প্রস্তাবিত এই নীতি বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানির বিপ্লব ঘটবে বাংলাদেশে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


ছাদভিত্তিক সোলারে ইউনিটপ্রতি ১০.৫০ টাকা দামের প্রস্তাব

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

আগামী ছয় মাসে ৩ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ; বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে বিশেষ প্রণোদনার প্রস্তাব।

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের আভাস দিয়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ক্রয়ে আকর্ষণীয় মূল্য নির্ধারণের পরিকল্পনা করেছে সরকার। নতুন এই প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ভবনের ছাদে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০.৫০ টাকা দরে কিনে নেবে বিদ্যুৎ বিভাগ। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আমদানিকৃত ব্যয়বহুল জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে এ উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ছাদভিত্তিক উৎস থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের এক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সাধারণ গ্রাহক ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে এই প্রতিযোগিতামূলক দামের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ইউনিটপ্রতি পাইকারি দামের চেয়ে এই দর কিছুটা বেশি হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় বিতরণ কোম্পানিগুলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে ভর্তুকি দাবি করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) জানিয়েছে, বর্তমানে ৩৩ কেভি ভোল্টেজে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১০.০৯ টাকা। সরকার ১০.৫০ টাকা নির্ধারণ করলে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৪০ পয়সা ঘাটতি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই ঘাটতি পূরণে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হলে গ্রাহকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি নেট মিটারিং পদ্ধতিও দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা পাবে।

এতদিন ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা শুধুমাত্র পাইকারি দরে মূল্য পেতেন, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য খুব একটা লাভজনক ছিল না। বর্তমানে সারাদেশে মাত্র ৪ হাজার ৯৭০ জন গ্রাহক নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় রয়েছেন, যাদের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ৩৪১ মেগাওয়াট। নতুন এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ভবনের মালিকরা নিজে অথবা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিনিয়োগ করে ঘরে বসেই আয়ের সুযোগ পাবেন। এছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ খাতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি পাওয়ার প্লান্টে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে বর্তমানে যেখানে গড়ে ১৩ টাকার মতো খরচ হচ্ছে, সেখানে ১০.৫০ টাকায় সৌরবিদ্যুৎ পাওয়া সরকারের জন্য আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী হবে। এটি দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা ভবনের ছাদগুলোকে একটি করে ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরিণত করার সুযোগ করে দেবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট খাতের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এই মডেলটিকে ইন্টারনেট বা ক্যাবল অপারেটরদের সেবার মতো তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন। প্রস্তাবিত এই নীতি বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানির বিপ্লব ঘটবে বাংলাদেশে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ