পরিবেশ কন্ঠ

আর্কাইভ দেখুন

পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থের অপচয় হয়েছে: সেতুমন্ত্রী

পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থের অপচয় হয়েছে: সেতুমন্ত্রী

পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থের অপচয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আজ সোমবার (১১ মে) দুপুরে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে ‘পদ্মা সেতু জাদুঘর’ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সেতু বিভাগের বৃক্ষরোপণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘যমুনা সেতু আমরা করেছিলাম এবং পদ্মা সেতুর উদ্যোগও আমরা নিয়েছিলাম। ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত এই পদ্মা সেতু নির্মাণের ফিজিবিলিটি স্টাডি হয়েছিল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়। সেই ফিজিবিলিটি অনুসারে এই মাওয়াতেই অ্যালায়েন্টমেন্ট নির্দিষ্ট করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। পরে তৎকালীন সরকার তা বাস্তবায়ন করেছে। পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থের অপচয় হয়েছে, দুর্নীতি হয়েছে। অর্থের ব্যয় কমানো যেত, আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে করা যেত। সেটাই জনগণের দাবি ছিল। তা করা যায়নি। যারা করতে পারেনি, দায় তাদের। যারা অর্থের অপচয় করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি রাখে এবং সেটি চলমান আছে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করার জন্য আমাদের অঙ্গীকার রয়েছে নির্বাচনী ইশতেহারে। সে ব্যাপারেও আমরা অগ্রসর হচ্ছি। দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে আমরা অগ্রসর হচ্ছি, বরিশাল-ভোলা সেতুর ক্ষেত্রেও আমরা অগ্রসর হচ্ছি। আপনারা আস্থা রাখুন, নিশ্চয়ই এ সরকার পর্যায়ক্রমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এগুলো বাস্তবায়ন করবে।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে আমরা জানতাম, কিন্তু এখন পর্যন্ত অবকাঠামো খাত অবহেলিত ও জরাজীর্ণ আছে। মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে, অচল হয়ে পড়ে আছে, এটা খুবই দুর্ভাগ্য। এই খাতে উন্নয়নের নামে অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে, অপচয় হয়েছে, দুর্নীতি হয়েছে।’ সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ, শরীয়তপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম নাসির উদ্দীন, জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগম প্রমুখ।


ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৮৯

ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৮৯

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাত মাস বয়সি এক কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে।  সোমবার (১১ মে) সকালে তার মৃত্যু হয়।  হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ৮ মে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুটিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটির বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায়। এ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গে মোট ২৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নতুন করে আরও ২৪ শিশু ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৫ শিশু। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৮৯ শিশু। গত ১৭ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট এক হাজার ২৪৪ শিশু ভর্তি হয়েছে।  এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এক হাজার ১২৭ শিশু।


চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন: ঢাকা-ময়মনসিংহ ট্রেন চলাচল বন্ধ

চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন: ঢাকা-ময়মনসিংহ ট্রেন চলাচল বন্ধ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ট্রেনে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আজ সোমবার (১১ মে) বেলা সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার আউলিয়ানগর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এর পর পরই ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, ``ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মোহনগঞ্জগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলন্ত অবস্থায় এর ইঞ্জিনের নিচ থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। এটা দেখে চালক ট্রেনটি থামিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনেন। এ ঘটনায় সাময়িক ভাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে দ্রুতই ট্রেনটি নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।'


সিনেমাপ্রেমীদের নজর এখন ফ্রান্সে

সিনেমাপ্রেমীদের নজর এখন ফ্রান্সে

ফ্রান্সের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় শহর কান-এ মঙ্গলবার (১২ মে) থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসব। এ আয়োজন চলবে ২৩ মে পর্যন্ত ।  উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় শহরের বিখ্যাত পালে দে ফেস্টিভাল প্রাঙ্গণে। এর মধ্য দিয়েই লাল গালিচার আয়োজন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ।  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের দায়িত্বে থাকছেন ফরাসি অভিনেত্রী আই হাইদারা। প্রধান প্রতিযোগিতা বিভাগের জুরি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন দক্ষিণ কোরিয়ার খ্যাতিমান পরিচালক পার্ক চান-উক। এবারের আসরে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে মোট ২২টি চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে। ইউরোপ, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের নির্মাতাদের এসব চলচ্চিত্র মর্যাদাপূর্ণ সোনালি পাম পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। উৎসব চলাকালে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, প্রিমিয়ার, সংবাদ সম্মেলন এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বাজারের কার্যক্রম একযোগে চলবে। সাধারণত এ উৎসবে ১০০টিরও বেশি দেশের চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ থাকে।  এবার বিশেষ সম্মানসূচক ‘সোনালি পাম’ দেওয়া হবে নিউজিল্যান্ডের পরিচালক পিটার জ্যাকসন এবং মার্কিন সংগীত ও চলচ্চিত্রশিল্পী বারবারা স্ট্রাইস্যান্ডকে। প্রতিযোগিতা বিভাগে আলোচনায় রয়েছে স্প্যানিশ পরিচালক পেদ্রো আলমোদোভারের নতুন চলচ্চিত্র ‘বিটার ক্রিসমাস’। এবারের আসরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য ঘোষণা করা হয়নি। তবে নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের অংশগ্রহণ, বিশ্ব সিনেমার বৈচিত্র্য এবং নারী-পুরুষ চলচ্চিত্রকারদের সমান প্রতিনিধিত্ব বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।আরও পড়ুনআরও পড়ুনগার দ্যু নর্দ: ফ্রান্সের বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ উৎসবের সমাপনী দিন ২৩ মে সেরা চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন বিভাগের পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।  এর মধ্য দিয়েই শেষ হবে এবারের আসর।  তবে পুরো উৎসবজুড়ে কান শহর থাকবে বিশ্ব সিনেমার কেন্দ্রবিন্দুতে।


কেন বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে চাইছেন শুভেন্দু

কেন বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে চাইছেন শুভেন্দু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ আর বাংলাদেশের সীমান্তের যে অঞ্চলে কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেখানে বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যটির নতুন মন্ত্রীসভা।  মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এটা না করা গেলে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা পরিবর্তন ও সুরক্ষা প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শপথ নেওয়ার পরে সোমবারই বসেছিল নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠক। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে থাকা আন্তর্জাতিক সীমান্তের যেসব অংশে এখনও কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেই বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফের কাছে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করে দেওয়া হবে ৪৫ দিনের মধ্যে। মন্ত্রীসভার বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী বলেন, আমাদের দেশের সুরক্ষার প্রশ্ন। পশ্চিমবঙ্গের সুরক্ষার প্রশ্ন এবং যে ভাবে জনবিন্যাস বদলে গেছে, আজ প্রথম দিনেই আমরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর ও বিএসএফকে সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য জমি ট্রান্সফার প্রক্রিয়ার অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে জানিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২,২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। তিনি জানান, এর মধ্যে ১,৬৫৩ কিলোমিটার সীমান্ত কাঁটাতার দেওয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে ৫৬৩ কিলোমিটার সীমান্ত কাঁটাতার দেওয়া বাকি রয়েছে। আরও পড়ুনআরও পড়ুনমন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত নিলেন শুভেন্দু ওই ভাষণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার কাজ করছে। নির্বাচনী প্রচারকালে অমিত শাহ-র দফতর থেকে এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছিল যে, পশ্চিমবঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষিত করতে ৬০০ একর জমির প্রয়োজন, তা বিএসএফকে দিচ্ছে না মমতা ব্যানার্জী, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই সেই জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই তুলছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একই অভিযোগ তোলেন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগের ক্ষেত্রে বলে আসছিল যে, সীমান্ত আমাদের বিষয় নয়, কেন্দ্র সরকারের বিষয়। নির্বাচনের আগে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরে বাদ গিয়েছিল প্রায় ৯১ লাখ নাম। কঙ্গনা রানাওয়াত-সহ বহু বিজেপি সংসদ সদস্য দাবি করেছিলেন এই বাদ যাওয়া সবাই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।


তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ৫ হাজারি ক্লাবে মুমিনুল

তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ৫ হাজারি ক্লাবে মুমিনুল

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার মুমিনুল হক। চাপের মুখে প্রতিপক্ষের বোলারদের সামাল দিয়ে ইনিংস মেরামত করতে সিদ্ধহস্ত তিনি। চলমান বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫ হাজারি ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন এই ব্যাটার। সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান সিরিজের ১ম টেষ্টের চতুর্থ দিনে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন মুমিনুল হক। প্রথম ইনিংসে ৯১ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও পেয়েছেন অর্ধশতকের দেখা। সবমিলিয়ে টানা ৫ ইনিংসে অর্ধশতকের দেখা পেলেন তিনি। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৭তম অর্ধশতক। আর ফিফটি করেই তিনি স্পর্শ করেছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ৫ হাজার রানের মাইলফলক। তৃতীয় বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। তার আগে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। তার নামের পাশে রয়েছে ৭০ ম্যাচে ১৩৪ ইনিংসে ৩৮ গড়ে ৫৩১৪ রান, অর্ধশতক ৩১টি ও শতক ১০টি। সবার ওপরে অবস্থান করেছেন মুশফিকুর রহিম। ১০১ টেস্টে ১৮৫ ইনিংসে ৩৮ গড়ে ৬৫৮১ রান করেছেন তিনি। ৩০ অর্ধশতক ও ১৩টি অর্ধশতক তার নামের পাশে। ডাবল সেঞ্চুরি ৩টি। উইকেটকিপারদের মধ্যে যা কিনা সর্বোচ্চ বিশ্ব ক্রিকেটে। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের স্কোর বোর্ডে এখন রান ৩ উইকেটে ১৫২ আর লিড ১৭৯ রান। মুশফিকুর রহিম ১৬ রান এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত অপরাজিত আছেন  ৫৬ রানে।


ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য নিষিদ্ধের দাবিতে জয়া আহসানের রিট

ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য নিষিদ্ধের দাবিতে জয়া আহসানের রিট

বাংলাদেশে ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য নিষিদ্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং অভিনেত্রী ও প্রাণী কল্যাণ কর্মী জয়া আহসান জনস্বার্থে এ রিট করেন। রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করবেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব, ড. সিনথিয়া ফরিদ ও অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান। রিট আবেদনে বলা হয়েছে, অসুস্থ প্রাণীর মাংস প্রতারণামূলকভাবে মানুষের খাদ্য হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। আবেদনে গাজীপুরে উন্মোচিত অবৈধ ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্যের বিষয়ে সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিলেরও আবেদন জানানো হয়। এ ছাড়া ৬০ দিনের মধ্যে এই ধরনের কার্যক্রম বন্ধে জাতীয় নির্দেশিকা প্রণয়ন, অসুস্থ ও বাজেয়াপ্ত ঘোড়ার নিলাম বন্ধ এবং উদ্ধার করা প্রাণীদের পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের জন্য অভয়ারণ্য তৈরির নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। রিটকারীর আইনজীবীরা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরের শুরুতে গাজীপুরে জেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদফতর, র‌্যাব-১ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি তুলা কারখানাকে অবৈধ জবাইখানা হিসেবে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে ৩৬টি গুরুতর অসুস্থ ঘোড়া, আটটি জবাইকৃত ঘোড়ার মৃতদেহ এবং বিক্রির জন্য প্রস্তুত বিপুল পরিমাণ মাংস উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোকে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পাওয়া যায়। তারা অপুষ্টি, সংক্রমণ, উন্মুক্ত ক্ষত, পোকা সংক্রমণ, টিউমারসহ নানা জটিলতায় ভুগছিল। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী সংক্রমণ, ছত্রাক দূষণ ও সন্দেহজনক যক্ষ্মার উপস্থিতি শনাক্ত হয়। রিটে বলা হয়, জবাই করা এসব ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে বাজারে বিক্রি করে মানুষকে প্রতারিত করা হচ্ছিল।


কৃষকের সঙ্গে ধান কাটলেন এমপি প্রিয়াঙ্কা

কৃষকের সঙ্গে ধান কাটলেন এমপি প্রিয়াঙ্কা

শেরপুরের চরাঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রামে কৃষকের সঙ্গে ধান কাটলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও সাবেক জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। সোমবার (১১ মে) দুপুরে শেরপুর সদর উপজেলার কামারের চর ইউনিয়নের পয়স্তির চর গ্রামে স্থানীয় কাটাখালি খাল খননের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনকালে কৃষকদের মাঝে উদ্দীপনা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতীকী ধান কাটেন তিনি। এ সময় সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও প্রিয়াঙ্কার বাবা মো. হযরত আলীসহ জেলা ও স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।  এ সময় প্রিয়াঙ্কা বলেন, আমাদের এ চরাঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রামে কৃষকরা রোদে-বৃষ্টিতে ভিজে যে পরিশ্রম করে সোনালী ধান ফলায়, সেই ধান কাটাতে উদ্দীপনা সৃষ্টির লক্ষ্যে আমি তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ ধান কাটলাম। এতে স্থানীয় কৃষকদের উদ্দীপনা সৃষ্টির পাশাপাশি নিজেও অনুভব করলাম তাদের শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে কী পরিমাণ কষ্ট সহ্য করতে হয়। তিনি এ সময় সম্ভাব্য খাল খননের স্থান পরিদর্শন করে খাল খননের সময় কৃষকদের ধানের যেন ক্ষতি না হয় সেসব বিষয় লক্ষ্য রেখে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। এছাড়াও স্থানীয় কৃষকরা যেন ধানের ন্যায্যমূল্য পায় এবং প্রান্তিক কৃষকদের সার, তেল, বীজসহ নানা প্রণোদনার বিষয়ে সংসদে কথা বলবেন বলে প্রিয়াঙ্কা জানান।


রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুপক্ষের সংঘর্ষ-গোলাগুলি, আহত ১৫

রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুপক্ষের সংঘর্ষ-গোলাগুলি, আহত ১৫

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া এক পক্ষ আরেক পক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সোমবার দুপুরে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বরুনা এলাকায় ঘটে এ সংঘর্ষের ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ দিন আগে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সাইড দেওয়া নিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামের ভাই আমিন হোসেনের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন খার তর্ক বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। ওই ঘটনায় বিল্লাল হোসেন খা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে স্থানীয়রা সোমবার (১১ মে) এ নিয়ে বরুনা এলাকায় বিচার সালিশের আয়োজন করা হয়। বিচার সালিশে আমিন হোসেনের পক্ষ হয়ে তার ভাই রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম উপস্থিত হন। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন খাও তার লোকজন নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। বিচার চলাকালে উভয়পক্ষের লোকজন তর্ক-বিতর্ক ও বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন ধারাল অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। হামলাকারীরা এক পক্ষ আরেক পক্ষের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। গুলিবর্ষণ করেন। এতে করে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। লোকজন ছোটাছুটি করতে শুরু করে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জনের মতো আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানার একদল পুলিশ সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে ঘটনাস্থল এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, বিল্লাল হোসেন খাস ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী পরিকল্পিতভাবে আমাদের লোকজনের উপর হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ করেছে এবং ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।  পাল্টা অভিযোগ করে প্রতিপক্ষ বিল্লাল হোসেন খা বলেন, বিচার সালিশে তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে রফিকুল ইসলামের লোকজন হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ এবং ভাঙচুর লুটপাট চালিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পৌঁছে পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কেন বিশ্বকাপ খেলেনি খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন

কেন বিশ্বকাপ খেলেনি খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন

ভারতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কেন বিশ্বকাপ খেলেনি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অণুবিভাগ) কে এম অলিউল্ল্যাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। এই কমিটির অন্য দুই সদস্য জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন ও আইনজীবী ফয়সালা দস্তগীর। তিন সদস্যের এই কমিটিকে বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল কেন টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেনি এই বিষয় পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে এই কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব অংগ্যজাই মারমা কমিটি সংক্রান্ত অফিস আদেশ স্বাক্ষর করেছেন।  প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাদ দেয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা বাংলাদেশের জন্য অনিরাপদ তাই বাংলাদেশ সেখানে খেলবে না এ রকম স্ট্যাটাস দেন। বিসিবিও মন্ত্রীর পক্ষে অবস্থান নেন। বাংলাদেশ আইসিসির কাছে ভেন্যু পরিবর্তন করে শ্রীলঙ্কায় খেলার দাবি করলেও সেটা হয়নি। বাংলাদেশ ও আইসিসি উভয় উভয়ের জায়গায় অনড় থাকায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা হয়নি। 


ঈদে গার্মেন্টসগুলো পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া হবে: সড়কমন্ত্রী

ঈদে গার্মেন্টসগুলো পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া হবে: সড়কমন্ত্রী

ঈদে পোশাক কারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, নৌ ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে এসব কথা বলেন তিনি। শেখ রবিউল আলম বলেন, গত ঈদে হঠাৎ করে গার্মেন্টস ছুটি দেওয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। তাই এবার গার্মেন্টসগুলো পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া হবে। গত ঈদুল ফিতরের সময় ঈদযাত্রায় যে সকল ব্যত্যয় ঘটেছিল, সেগুলো নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এবার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ৬৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।


এআই নজরদারিতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে মামলা ৩০০ ছাড়িয়েছে

এআই নজরদারিতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে মামলা ৩০০ ছাড়িয়েছে

এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরার নজরদারিতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় গত এক সপ্তাহে ৩০০টিরও বেশি মামলা হয়েছে। পুরো ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে চালু হলে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি মামলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মো. সরওয়ার। সোমবার দুপুরে উত্তরা এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট উদ্বোধন শেষে তিনি এ তথ্য জানান। ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানী ঢাকাকে আধুনিক ও শৃঙ্খলাপূর্ণ করতে এআইভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কোনো যানবাহন ক্রসিং বা উল্টোপথে চলাচল করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল মামলা হবে। অভিযুক্ত চালকরা ভিডিও ফুটেজে নিজেদের অপরাধ সরাসরি দেখতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শাস্তি নয়, বরং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। আপাতত আটটি পয়েন্টে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট লাগানো হয়েছে। প্রায় ৩০টি পয়েন্টে এই সেবা চালু করা হবে


রাজধানীতে দুপুরের মধ্যে বজ্রবৃষ্টির আভাস

রাজধানীতে দুপুরের মধ্যে বজ্রবৃষ্টির আভাস

রাজধানী ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এ সময় তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সোমবার (১১ মে) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া এক পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, দুপুর পর্যন্ত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, আজ দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। আজ ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। সেইসঙ্গে সংস্থাটি জানিয়েছে, ঢাকায় আজ দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।   এদিকে, দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া, সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আজ সোমবারের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এতে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়বৃষ্টির প্রবণতা রয়েছে।   


ঢাকাসহ পাঁচ জেলায় বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

ঢাকাসহ পাঁচ জেলায় বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

ভ্যাপসা গরমের পর গতকাল রোববার বিকেলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বয়ে যায় কালবৈশাখী, সঙ্গে ছিল ভারী বৃষ্টি। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ৩২ মিলিমিটার। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ সোমবারও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। আজ সকালের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে পশ্চিম অথবা উত্তর পশ্চিম দিক দিয়ে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ সময় বাতাসের গতি হতে পারে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার। এ সব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আজ সকাল ৭টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার দুপুর ১টা পর্যন্ত আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, আজ সকাল ৬টায় রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে এবং আগামীকাল রোববার সূর্যোদয় ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে।


মধ্যরাতে ভূমিকম্প, মিয়ানমারের সঙ্গে কেঁপে উঠল বাংলাদেশও

মধ্যরাতে ভূমিকম্প, মিয়ানমারের সঙ্গে কেঁপে উঠল বাংলাদেশও

মিয়ানমারে মধ্যরাতে ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার (১০ মে) দিবাগত রাত ১টা ৩৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে জানিয়েছে জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড)। সংস্থাটির তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার নিচে। প্রাথমিকভাবে এর অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে ২০ দশমিক ৪৬ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৩ দশমিক ৯৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। অন্যদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সিদোকতাইয়া এলাকার প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের কম্পন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও অনুভূত হয়। চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করেই কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। অনেকেই আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। এর আগেও শনিবার (৯ মে) বিকালে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। বিকাল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে হওয়া ওই কম্পনে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি না হলেও জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে জানা গেছে, শনিবারের ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪ থেকে ৪ দশমিক ৫ এর মধ্যে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৪ দশমিক ৫ উল্লেখ করলেও ইউএসজিএস বলেছে ৪ দশমিক ৪। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের আসামের বিলাসিপাড়া এলাকায়। ভূমিকম্পটির গভীরতা কম হওয়ায় সীমান্তঘেঁষা বাংলাদেশের জেলাগুলোতে কম্পন বেশি অনুভূত হয়। লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্থানীয়রা মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের ঝাঁকুনি অনুভবের কথা জানান। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন।


আত্মবিনাশী উন্নয়নে হাওরের সর্বনাশ

আত্মবিনাশী উন্নয়নে হাওরের সর্বনাশ

হাওরাঞ্চলে এবার কৃষক ত্রিমুখী সংকটে পড়েছেন। সেগুলো হলো ধানের উৎপাদন ক্ষতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ধানের বাজারদর কমে যাওয়া। শ্রমিক সংকট পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। এবার ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণের বেশি। হারভেস্টার বা ধান কাটার যন্ত্রের ব্যবহারও জলাবদ্ধতার কারণে সীমিত হয়ে পড়ে। যন্ত্রের ভাড়াও বেড়ে হয়েছে দুই থেকে তিন গুণ। দেশের মোট চাল উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি (৫৫-৬০ শতাংশ) আসে বোরো মৌসুমে। এর মধ্যে সাতটি হাওরবেষ্টিত জেলায় উৎপাদিত হয় প্রায় ২০ শতাংশ। কিন্তু এবার উৎপাদন মৌসুমে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় কৃষকের আহাজারির শেষ নেই। কারণ, চৈত্র মাসের শেষ দিক থেকে টানা বৃষ্টি আর বৈশাখে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বিস্তীর্ণ জমির আধা পাকা ধান তলিয়ে গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৫০ হাজার ৭৩ হেক্টর এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর মতে, ৮০ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতি হয়েছে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধান উৎপাদন অঞ্চল তথা হাওরাঞ্চলে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গড় হিসাবমতে, প্রতি হেক্টরে প্রায় ৪ দশমিক ৪৭ টন চাল উৎপাদন হওয়ার কথা। সেই হিসাবে ৫০ হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হলে ২ লাখ টনের বেশি উৎপাদন কমে যেতে পারে। আর যদি ৮০ হাজার হেক্টরের হিসাব ধরা হয়, তাহলে ঘাটতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হবে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে ৫০ হাজার হোক আর ৮০ হাজার হেক্টরই হোক, ক্ষতি যা হয়েছে তাতে জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় গত ২৬ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত দেশের সাতটি হাওরবেষ্টিত জেলায় প্রায় ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ৭ মে একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, হাওরাঞ্চলের মোট কৃষিজমির ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ, অর্থাৎ ৪৯ হাজার ৭৩ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার টন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার কৃষক। অপর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, হাওরাঞ্চলের প্রায় ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পুরো হাওরাঞ্চলের প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ এলাকা প্রতিবছরই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। হাওরে ফসলহানি অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। পর পর দুই বছরের বেশি ভালো ফসল সচরাচর পান না হাওরের কৃষক। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যায় ফসল। কিন্তু এবার হয়েছে ব্যতিক্রম। প্রথমে চৈত্র মাসের শেষ দিক থেকে অতিবৃষ্টির কারণে ধান পরিপক্ব হতে সময় বেশি লেগেছে, পরে একপর্যায়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ফসল নষ্ট হয়েছে, আর শেষ পর্যায়ে পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বেড়ে বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে হাওরের ফসল। সিলেট-সুনামগঞ্জ এলাকায় কৃষকের কাছে এবার ‘কাঁচইরা’ তথা কাঁচা বা বৃষ্টি-বাদলের মৌসুম। প্রতি ৫, ১০, ১৫ বা ২০ বছর পর পর এমন সর্বনাশা কাঁচইরা বছর ফিরে আসে। তবে আগে প্রচারের সুযোগ কম থাকায় দেশের মানুষ হাওরে জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হওয়ার কথা তেমন একটা জানতে পারত না। এ বছর সেটা জানতে পারছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রতিটি হাওরকে পুকুর বানিয়ে পানি নিষ্কাশনের পকেট বন্ধ করে দেওয়ায় অতিবৃষ্টির কারণে হাওরে জমা পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে না। একসময় যেখানে ফসলহানির প্রধান কারণ ছিল বাঁধ ভেঙে যাওয়া, সেখানে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন রকম। বাঁধ থাকলেও ফসল রক্ষা পাচ্ছে না; বরং সেই বাঁধই হয়ে উঠছে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। প্রতিবছর কয়েক লাখ ঘনমিটার মাটির বাঁধ তৈরি বা মেরামত করায় হাওর ও হাওরের ভেতরে প্রাকৃতিকভাবে পানি ধারণের আধার বা জলাশয়, হাওরের সঙ্গে যুক্ত নদ-নদী ও খাল ভরাট হয়ে গেছে। গত তিন বছরে ২ হাজার ১৩৬টি ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ বা সংস্কারে ব্যবহৃত হয়েছে প্রায় ৯৩ লাখ ৬৯ হাজার ঘনমিটার মাটি। এই পরিসংখ্যান সাদাচোখে ইতিবাচক মনে হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। উজানে নদ-নদী খনন না করে এবং হাওরের প্রকৃতি ও পানিপ্রবাহের স্বাভাবিক পথ বিবেচনার বাইরে রেখে অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে ভারী বৃষ্টিপাত বা উজানের ঢল নামলেই হাওর হয়ে উঠছে জলাবদ্ধতার ফাঁদ। এবারের মৌসুমে সেটিই স্পষ্ট হয়েছে। অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপরিকল্পিত বাঁধের প্রভাব। কৃষকেরা শত শত পাম্প বসিয়েও পানি সরাতে ব্যর্থ হয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠসেবা বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, সারা দেশে প্রায় সাড়ে ৫০ লাখ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হলেও হাওরাঞ্চলে উৎপাদনের ঘনত্ব বেশি। এ কারণে ক্ষতির প্রভাবও তুলনামূলক বেশি। গত মৌসুমে দেশের মোট বোরো উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এসেছে হাওরবেষ্টিত সাতটি জেলা থেকে। গত বছর বোরো মৌসুমে দেশে প্রায় ২ কোটি ১৩ লাখ টন চাল উৎপাদিত হয়েছিল। এবার সরকার ২ কোটি ২৪ লাখ টন বোরো উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। কিন্তু হাওরের এই ধাক্কা সব হিসাব অনিশ্চিত করে তুলেছে। এর আগে, ২০১৭ সালের মার্চ-এপ্রিলের অকালবন্যায় নষ্ট হয়েছিল প্রায় ২ লাখ হেক্টর জমির বোরো ধান। সে বছর চালের দাম বেড়েছিল রেকর্ড পরিমাণ। এর পাঁচ বছর পর আঘাত হানে আগাম ঢল, যাতে ক্ষতির মুখে পড়ে ৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ধান। এতেই চালের বাজার অস্থিতিশীল হয়েছিল। হাওরে সমস্যার শিকড় অবশ্য আরও গভীরে। বাঁধ নির্মাণের জন্য হাওরের ‘জাঙ্গাল’ ও ‘কান্দা’ বা উঁচু জমি কেটে মাটি নেওয়া হচ্ছে। বর্ষায় সেই মাটি ধুয়ে গিয়ে ভরাট করছে খাল, নদী ও জলাশয়। এতে একদিকে যেমন পানি ধারণক্ষমতা কমছে, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য। অর্থাৎ স্বল্প মেয়াদে সমাধানের জন্য নেওয়া উদ্যোগ দীর্ঘ মেয়াদে বড় বিপর্যয়ের জন্ম দিচ্ছে। মূলত নীতিগত দুর্বলতার কারণেই এমনটি ঘটছে। কোনো সরকারই হাওর নিয়ে বাস্তবভিত্তিক ও সুদূরপ্রসারী কোনো পরিকল্পনা নেয়নি, নিচ্ছেও না। সরকারের নীতির কারণে প্রকৌশলীদের অস্থায়ী পরিকল্পনা থাকে কেবল বাঁধকেন্দ্রিক। নাগরিকদেরও এ বিষয়ে সচেতনতায় আছে বড় ঘাটতি। এবারের সংকট ঘিরেও দেখা যাচ্ছে ঢাকা থেকে রাজনীতিকেরা এলাকায় গিয়ে ঢালাও বক্তব্য দিচ্ছেন। বরাবরের মতো পাউবোর দুর্নীতির দিকে আঙুল তুলছেন। তাঁদের বক্তব্যে সমস্যার গভীরতা উঠে আসছে না। হাওরাঞ্চলে এবার কৃষকেরা ত্রিমুখী সংকটে পড়েছেন। সেগুলো হলো ধানের উৎপাদন ক্ষতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ধানের বাজারদর কমে যাওয়া। শ্রমিক সংকট পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। এবার ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণের বেশি। হারভেস্টার বা ধান কাটার যন্ত্রের ব্যবহারও জলাবদ্ধতার কারণে সীমিত হয়ে পড়ে। যন্ত্রের ভাড়াও বেড়ে হয়েছে দুই থেকে তিন গুণ। অন্যদিকে, বাজারে ভেজা ধানের দাম কমে গেছে। গত বছর বোরো মৌসুমে ভেজা ধানের দাম ছিল ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা মণ। এবার মণ ৫০০-৬০০ টাকায় নেমেছে। রাজনীতিতে যেমন, উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদনেও তেমনি আত্মবিনাশী পথচলাই যেন আমাদের নিয়তি। হাওরের তো বটেই, সামগ্রিকভাবে দেশের কৃষকেরই মূল সমস্যা কাঠামো ও নীতিগত। এ দেশে কৃষি উৎপাদন অনেক আগেই চলে গেছে ক্রোনি পুঁজিবাদী উৎপাদনব্যবস্থার আওতায়। সিন্ডিকেট-নিয়ন্ত্রিত বাজারব্যবস্থা আর নয়া-উদারবাদী কৃষি উন্নয়ন নীতি বহাল থাকছে সাম্রাজ্যবাদের প্রেসক্রিপশন-নির্ভর রাষ্ট্রনীতির কারণে। এখানকার কৃষকের আশু দুর্দশাও নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং বিদ্যমান ক্রোনি পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক ফল। প্রথমত, দেশের কৃষি এখনো ক্ষুদ্র মালিকানাভিত্তিক ও বাজারনির্ভর। বেশির ভাগ কৃষকের জমি কম, আকারেও খুব ছোট; উৎপাদন খরচ বেশি। কৃষিপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে মধ্যস্বত্বভোগী আড়তদার, মিলমালিক ও বড় ব্যবসায়ীরা। কৃষক উৎপাদন করেন ঠিকই; কিন্তু লাভের বড় অংশ চলে যায় বাণিজ্যিক চেইনের ওপরের স্তরে। এবার যে ধান কৃষক ৫০০-৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, সেই ধান থেকে উৎপাদিত চালই ভোক্তাদের কিনতে হবে গতবারের চেয়ে চড়া দামে। কৃষক সংকটে পড়লেও বিপণন চেইনের শীর্ষ স্তরের ব্যক্তিরা ঠিকই আগের চেয়ে বেশি মুনাফা লুটবেন। সরকার এই মুনাফাচক্র ভাঙার দিকেও নজর দেবে না, হাওরের ফসল রক্ষার সঠিক নীতি প্রণয়নেও মনোযোগী হবে না—এটাই স্বাভাবিক। লেখক: সাংবাদিক ও গবেষক