পরিবেশ কণ্ঠ

জাতীয় সংসদে বিল পাস: অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে গতকাল এক ঐতিহাসিক অধিবেশনে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাস করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক পূর্বে জারি করা অধ্যাদেশটিকে কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই হুবহু বিল আকারে অনুমোদন দিয়েছে সংসদ। এই নতুন আইনের ফলে সরকারের নির্বাহী আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কোনো প্রকার সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকছে না। বুধবার জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। বিলটি উত্থাপনের সময় প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান কিছুটা সময় চেয়ে আপত্তি জানালেও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তা আমলে নেননি। স্পিকার জানান, বিল উত্থাপনের এই পর্যায়ে আপত্তির কোনো আইনি সুযোগ নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বিলটি মূলত একটি গণহত্যাকারী ও সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণের আইনি রূপ। তিনি আরও জানান, গণ-আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে জনমতের ভিত্তিতেই আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে এবং তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই অধ্যাদেশের মাধ্যমেই ইতিপূর্বে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে বিশেষ সংসদীয় কমিটির সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও বিলটিতে নতুন করে কোনো শাস্তিমূলক বিধান যুক্ত করা হয়নি। এদিকে, আওয়ামী লীগ তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে এই বিল পাসের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা একে ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী’ এবং ‘সংসদের জন্য কলঙ্কজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। একই অধিবেশনে ‘জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয়, যার ফলে শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়ে গেল। এছাড়া সরকারি হিসাব নিরীক্ষা ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীসহ আরও ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। সংবিধানের বিধি অনুযায়ী, আগামী ১১ এপ্রিলের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে পাসের বাধ্যবাধকতা ছিল। পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

জাতীয় সংসদে বিল পাস: অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম