নদী, বিল ও খালে মৎস্য অভয়াশ্রম নিশ্চিত করবে সরকার: মৎস্যমন্ত্রী
নদী, বিল ও খালসহ দেশের বিভিন্ন জলাশয়ে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং মৎস্য সম্পদের টেকসই উন্নয়নে অভয়াশ্রম নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, দেশের জলাশয়গুলোতে হারিয়ে যাওয়া মাছের প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। বিশেষ করে হাওর, বিল ও খালসহ স্বাদুপানির জলাশয় সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে।মন্ত্রী জানান, নির্দিষ্ট এলাকাকে মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হবে, যেখানে মাছের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এতে মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।তিনি আরও বলেন, ইলিশ মাছের মতো অন্যান্য প্রজাতির ক্ষেত্রেও প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে প্রায় দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে, যাতে ডিম পাড়া ও বংশ বিস্তার বাধাগ্রস্ত না হয়।এ সময় জেলেদের আর্থিক কষ্ট লাঘবে সরকার বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা প্রদান করে আসছে বলেও জানান মন্ত্রী। ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।মন্ত্রী আরও বলেন, নদী ও সমুদ্রের অগভীর এলাকায় যেখানে মাছ প্রজনন করে, সেসব অঞ্চলকে চিহ্নিত করে সুরক্ষিত করা হবে। কারণ প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ করলে ডিম নষ্ট হয় এবং বিভিন্ন প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ে।স্বাদুপানির মাছ যেমন শিং, টাকি ও বোয়াল বর্তমানে কমে যাওয়ার পেছনে প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংসকে দায়ী করে তিনি বলেন, এসব প্রজাতি রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।সরকারের এই পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের নদী-নালা, বিল ও জলাশয়ে মাছের প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুনরুদ্ধার হবে এবং ভবিষ্যতে মৎস্য খাত আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।পরি–কণ্ঠ/মুয়াজ:মৎস্য সম্পদ রক্ষা মানেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই নদী, বিল ও খাল রক্ষায় সম্মিলিত সচেতনতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।