পরিবেশ কণ্ঠ

ডিজেলের দাম ও সরবরাহ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি কাজ, হুমকির মুখে খাদ্য নিরাপত্তা

সেচ মৌসুমে ডিজেল সংকট ২০২৬: বিপাকে দেশের বোরো চাষিরা



সেচ মৌসুমে ডিজেল সংকট ২০২৬: বিপাকে দেশের বোরো চাষিরা
সংগৃহীত

সারাদিন রোদে পুড়ে জমিতে কাজ করার পর এখন কৃষকদের রাত কাটছে ডিজেলের জন্য ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে। বোরো মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচযন্ত্র ও কৃষি যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছেন না দেশের কয়েক লাখ কৃষক। চট্টগ্রাম, জামালপুর, পটুয়াখালী ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রতিবেদনে জ্বালানি তেলের এই তীব্র সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কৃষক আজগর জানান, গত এক সপ্তাহে কয়েক দফা বাজারে গিয়েও মাত্র ৪ লিটার তেল সংগ্রহ করতে পেরেছেন, যার দামও দিতে হয়েছে লিটারে ২০ টাকা বেশি। একই অবস্থা বরগুনার মামুনেরও, তাকে ১০০ টাকার ডিজেল কিনতে হয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে প্রায় ২১ লাখ ৩১ হাজার ৩০৯টি ডিজেলচালিত কৃষিযন্ত্র রয়েছে। ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত চলা এই সেচ মৌসুমে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন ডিজেলের চাহিদা থাকলেও বাজারে সরবরাহে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে অভ্যন্তরীণ বাজারে। খুচরা বিক্রেতাদের লাইসেন্স না থাকা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের ভয়ে অনেক বিক্রেতা তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। ফলে কৃষকেরা স্থানীয় বাজার থেকে তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, ‘জ্বালানিসংকটের কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়া খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। কৃষি খাতে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও আমদানি বাড়ানো জরুরি।’ অন্যথায় বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে এবং বাজারে চালের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কণ্ঠ

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬


সেচ মৌসুমে ডিজেল সংকট ২০২৬: বিপাকে দেশের বোরো চাষিরা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সারাদিন রোদে পুড়ে জমিতে কাজ করার পর এখন কৃষকদের রাত কাটছে ডিজেলের জন্য ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে। বোরো মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচযন্ত্র ও কৃষি যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছেন না দেশের কয়েক লাখ কৃষক। চট্টগ্রাম, জামালপুর, পটুয়াখালী ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রতিবেদনে জ্বালানি তেলের এই তীব্র সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কৃষক আজগর জানান, গত এক সপ্তাহে কয়েক দফা বাজারে গিয়েও মাত্র ৪ লিটার তেল সংগ্রহ করতে পেরেছেন, যার দামও দিতে হয়েছে লিটারে ২০ টাকা বেশি। একই অবস্থা বরগুনার মামুনেরও, তাকে ১০০ টাকার ডিজেল কিনতে হয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে প্রায় ২১ লাখ ৩১ হাজার ৩০৯টি ডিজেলচালিত কৃষিযন্ত্র রয়েছে। ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত চলা এই সেচ মৌসুমে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন ডিজেলের চাহিদা থাকলেও বাজারে সরবরাহে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে অভ্যন্তরীণ বাজারে। খুচরা বিক্রেতাদের লাইসেন্স না থাকা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের ভয়ে অনেক বিক্রেতা তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। ফলে কৃষকেরা স্থানীয় বাজার থেকে তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, ‘জ্বালানিসংকটের কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়া খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। কৃষি খাতে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও আমদানি বাড়ানো জরুরি।’ অন্যথায় বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে এবং বাজারে চালের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


পরিবেশ কণ্ঠ

সম্পাদক: ড. মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ