পরিবেশ কণ্ঠ

নিউজপ্রিন্টে শুল্ক-ভ্যাট প্রত্যাহার ও করপোরেট কর কমানোর দাবি; বিজ্ঞাপন আয়ের ওপর কর ছাড় চায় সম্প্রচার মাধ্যম

করের চাপ কমাতে বাজেটে বিশেষ সুবিধা চায় সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেল মালিকরা



করের চাপ কমাতে বাজেটে বিশেষ সুবিধা চায় সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেল মালিকরা
সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে দেশের সংবাদপত্র ও টেলিভিশন শিল্পে করের চাপ কমানোর দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মালিক সংগঠনগুলো বলছে, বাড়তি শুল্ক-কর ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এ খাত টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজধানীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) সংবাদপত্র শিল্পের পক্ষ থেকে একাধিক প্রস্তাব তুলে ধরে। সংগঠনটি নিউজপ্রিন্ট আমদানির ওপর ৩ শতাংশ শুল্ক ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের পাশাপাশি করপোরেট কর বর্তমান প্রায় ২৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার আহ্বান জানায়।

একই সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো) টেলিভিশন খাতের জন্য বিজ্ঞাপন আয়ের ওপর ৫ শতাংশ উৎসে কর এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে অর্জিত বৈদেশিক আয়ের ওপর আরোপিত উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানায়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সংবাদপত্র একটি সেবাধর্মী খাত হলেও এর উৎপাদন ব্যয় বিক্রয়মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি। বিজ্ঞাপন আয় কমে যাওয়ায় ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে নিউজপ্রিন্টের মূল্যবৃদ্ধিও এ সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

তিনি জানান, বর্তমানে নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে শুল্ক, ভ্যাট, অগ্রিম আয়করসহ বিভিন্ন কর পরিশোধ করতে হয়, যার ফলে মোট ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে সংবাদপত্র শিল্প আর্থিকভাবে বড় ধরনের চাপে রয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে মতিউর রহমান বলেন, একটি পত্রিকা প্রকাশে যে খরচ হয়, বিক্রয়মূল্য তার তুলনায় অনেক কম। পাশাপাশি পাঠক ও বিজ্ঞাপন কমে যাওয়ায় আয়ের উৎস সংকুচিত হচ্ছে। তিনি করপোরেট কর হ্রাসের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

অন্যদিকে টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন অ্যাটকো জানায়, অধিকাংশ বেসরকারি চ্যানেল এখনও লাভজনক অবস্থায় পৌঁছাতে পারেনি। অথচ উৎসে কর কেটে নেওয়া হলেও লোকসানের কারণে সেই অর্থ ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এই খাতকে উৎসে কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, সংবাদপত্র শিল্পের করপোরেট কর বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। অন্যান্য কর ও শুল্কের বিষয়গুলো যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করে আসন্ন বাজেটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কণ্ঠ

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬


করের চাপ কমাতে বাজেটে বিশেষ সুবিধা চায় সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেল মালিকরা

প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে দেশের সংবাদপত্র ও টেলিভিশন শিল্পে করের চাপ কমানোর দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মালিক সংগঠনগুলো বলছে, বাড়তি শুল্ক-কর ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এ খাত টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজধানীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) সংবাদপত্র শিল্পের পক্ষ থেকে একাধিক প্রস্তাব তুলে ধরে। সংগঠনটি নিউজপ্রিন্ট আমদানির ওপর ৩ শতাংশ শুল্ক ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের পাশাপাশি করপোরেট কর বর্তমান প্রায় ২৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার আহ্বান জানায়।

একই সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো) টেলিভিশন খাতের জন্য বিজ্ঞাপন আয়ের ওপর ৫ শতাংশ উৎসে কর এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে অর্জিত বৈদেশিক আয়ের ওপর আরোপিত উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানায়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সংবাদপত্র একটি সেবাধর্মী খাত হলেও এর উৎপাদন ব্যয় বিক্রয়মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি। বিজ্ঞাপন আয় কমে যাওয়ায় ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে নিউজপ্রিন্টের মূল্যবৃদ্ধিও এ সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

তিনি জানান, বর্তমানে নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে শুল্ক, ভ্যাট, অগ্রিম আয়করসহ বিভিন্ন কর পরিশোধ করতে হয়, যার ফলে মোট ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে সংবাদপত্র শিল্প আর্থিকভাবে বড় ধরনের চাপে রয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে মতিউর রহমান বলেন, একটি পত্রিকা প্রকাশে যে খরচ হয়, বিক্রয়মূল্য তার তুলনায় অনেক কম। পাশাপাশি পাঠক ও বিজ্ঞাপন কমে যাওয়ায় আয়ের উৎস সংকুচিত হচ্ছে। তিনি করপোরেট কর হ্রাসের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

অন্যদিকে টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন অ্যাটকো জানায়, অধিকাংশ বেসরকারি চ্যানেল এখনও লাভজনক অবস্থায় পৌঁছাতে পারেনি। অথচ উৎসে কর কেটে নেওয়া হলেও লোকসানের কারণে সেই অর্থ ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এই খাতকে উৎসে কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, সংবাদপত্র শিল্পের করপোরেট কর বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। অন্যান্য কর ও শুল্কের বিষয়গুলো যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করে আসন্ন বাজেটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কণ্ঠ

সম্পাদক: ড. মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ