পরিবেশ কন্ঠ

সালমান এফ রহমানের পক্ষে লড়বেন বিদেশি আইনজীবী


প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সালমান এফ রহমানের পক্ষে লড়বেন বিদেশি আইনজীবী
সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নিতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আবেদন জমা দিয়েছেন এই ব্রিটিশ আইনজীবী।

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং সেই সময়কালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে নামতে চাইছেন একজন বিদেশি আইনজীবী। গ্রায়েম এল. হল নামের ওই ব্রিটিশ আইনজীবী ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বার কাউন্সিলে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। গত রোববার (৩০ আগস্ট) আসামিপক্ষের অন্যতম জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রায়েম এল. হল ট্রাইব্যুনালে সালমান এফ রহমানের আইনজীবী প্যানেলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, গ্রায়েম এল. হল গত ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিবের কাছে একটি বিশেষ আবেদনপত্র পাঠান। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ১১(৮) ধারার বিধানের উল্লেখ করে বিদেশি আইনজীবী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করেছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের স্থানীয় আইনজীবীদের পাশাপাশি তিনি সালমান ফজলুর রহমানের পক্ষে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে চান। আবেদনের সঙ্গে তিনি তার বিস্তৃত পেশাগত প্রোফাইল এবং প্রয়োজনীয় আইনি সনদসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাগজপত্রও দাখিল করেছেন।

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর থেকেই বিগত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। সালমান এফ রহমান বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইন্ধন ও পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে। এই সংবেদনশীল মামলায় বিদেশি আইনজীবীর অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আইনি মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী বিদেশি আইনজীবীদের নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা বার কাউন্সিলের অনুমোদন সাপেক্ষ। এখন দেখার বিষয় হলো, বার কাউন্সিল গ্রায়েম এল. হলকে বাংলাদেশের আদালতে ওকালতি করার অনুমতি প্রদান করে কি না। ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক মানের আইনি সহায়তা পাওয়ার অংশ হিসেবেই বিবাদী পক্ষ এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে করা এই বিচারপ্রক্রিয়া দেশ ও বিদেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হচ্ছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


সালমান এফ রহমানের পক্ষে লড়বেন বিদেশি আইনজীবী

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নিতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আবেদন জমা দিয়েছেন এই ব্রিটিশ আইনজীবী।

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং সেই সময়কালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে নামতে চাইছেন একজন বিদেশি আইনজীবী। গ্রায়েম এল. হল নামের ওই ব্রিটিশ আইনজীবী ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বার কাউন্সিলে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। গত রোববার (৩০ আগস্ট) আসামিপক্ষের অন্যতম জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রায়েম এল. হল ট্রাইব্যুনালে সালমান এফ রহমানের আইনজীবী প্যানেলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, গ্রায়েম এল. হল গত ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিবের কাছে একটি বিশেষ আবেদনপত্র পাঠান। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ১১(৮) ধারার বিধানের উল্লেখ করে বিদেশি আইনজীবী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করেছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের স্থানীয় আইনজীবীদের পাশাপাশি তিনি সালমান ফজলুর রহমানের পক্ষে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে চান। আবেদনের সঙ্গে তিনি তার বিস্তৃত পেশাগত প্রোফাইল এবং প্রয়োজনীয় আইনি সনদসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাগজপত্রও দাখিল করেছেন।

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর থেকেই বিগত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। সালমান এফ রহমান বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইন্ধন ও পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে। এই সংবেদনশীল মামলায় বিদেশি আইনজীবীর অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আইনি মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী বিদেশি আইনজীবীদের নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা বার কাউন্সিলের অনুমোদন সাপেক্ষ। এখন দেখার বিষয় হলো, বার কাউন্সিল গ্রায়েম এল. হলকে বাংলাদেশের আদালতে ওকালতি করার অনুমতি প্রদান করে কি না। ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক মানের আইনি সহায়তা পাওয়ার অংশ হিসেবেই বিবাদী পক্ষ এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে করা এই বিচারপ্রক্রিয়া দেশ ও বিদেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হচ্ছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ