পরিবেশ কন্ঠ

যেভাবে ধরা পড়লেন পলাতক মোজাফফর

জিয়া হত্যা মামলা: মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তারের নেপথ্য কাহিনী


প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

জিয়া হত্যা মামলা: মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তারের নেপথ্য কাহিনী
মোজাফফর হোসেনছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ সাড়ে চার দশক ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন অবশেষে আইনের জালে বন্দি হয়েছেন। রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে এই নাটকীয় গ্রেপ্তারের নেপথ্যে ছিল এক নিপুণ ডিজিটাল ফরেনসিক অনুসন্ধান। এক-এগারোর আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মুঠোফোন বিশ্লেষণ করতে গিয়েই মূলত বেরিয়ে আসে পলাতক মোজাফফরের বর্তমান অবস্থান।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা তার ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) এবং খুদেবার্তা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কিছু রহস্যময় ও সন্দেহজনক নম্বর খুঁজে পান। দেখা যায়, ২০২৩ সাল থেকে বনানী ও মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে একই ব্যক্তি একাধিক ভুয়া নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে মাসুদ উদ্দিনের সাথে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময় কথা বলতেন। ফোনালাপের স্থায়িত্ব কম হলেও এর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।

তদন্তকারী সংস্থা প্রাথমিক অবস্থায় এই রহস্যময় কলারের পরিচয় নিশ্চিত করতে না পারলেও নম্বরগুলো পুলিশ সদর দপ্তরের বিশেষজ্ঞ টিমের কাছে পাঠায়। পরবর্তীতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, এই ব্যক্তি আর কেউ নন—জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ৪৫ বছর ধরে পালিয়ে থাকা পুরস্কার ঘোষিত পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর। গত বুধবার রাতে ডিবির একটি বিশেষ দল বনানীর সেই গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার তাকে সামরিক পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত সেই রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের সময় মেজর মোজাফফর সরাসরি সশস্ত্র অবস্থায় জিয়াউর রহমানের কক্ষের কাছে উপস্থিত ছিলেন বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান এবং পুরস্কার ঘোষণা করেও তাকে এতদিন খুঁজে পাওয়া যায়নি। অবশেষে প্রযুক্তির জালে ধরা পড়ে শেষ হলো তার দীর্ঘ পলাতক জীবন।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬


জিয়া হত্যা মামলা: মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তারের নেপথ্য কাহিনী

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ সাড়ে চার দশক ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন অবশেষে আইনের জালে বন্দি হয়েছেন। রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে এই নাটকীয় গ্রেপ্তারের নেপথ্যে ছিল এক নিপুণ ডিজিটাল ফরেনসিক অনুসন্ধান। এক-এগারোর আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মুঠোফোন বিশ্লেষণ করতে গিয়েই মূলত বেরিয়ে আসে পলাতক মোজাফফরের বর্তমান অবস্থান।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা তার ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) এবং খুদেবার্তা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কিছু রহস্যময় ও সন্দেহজনক নম্বর খুঁজে পান। দেখা যায়, ২০২৩ সাল থেকে বনানী ও মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে একই ব্যক্তি একাধিক ভুয়া নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে মাসুদ উদ্দিনের সাথে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময় কথা বলতেন। ফোনালাপের স্থায়িত্ব কম হলেও এর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।

তদন্তকারী সংস্থা প্রাথমিক অবস্থায় এই রহস্যময় কলারের পরিচয় নিশ্চিত করতে না পারলেও নম্বরগুলো পুলিশ সদর দপ্তরের বিশেষজ্ঞ টিমের কাছে পাঠায়। পরবর্তীতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, এই ব্যক্তি আর কেউ নন—জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ৪৫ বছর ধরে পালিয়ে থাকা পুরস্কার ঘোষিত পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর। গত বুধবার রাতে ডিবির একটি বিশেষ দল বনানীর সেই গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার তাকে সামরিক পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত সেই রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের সময় মেজর মোজাফফর সরাসরি সশস্ত্র অবস্থায় জিয়াউর রহমানের কক্ষের কাছে উপস্থিত ছিলেন বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান এবং পুরস্কার ঘোষণা করেও তাকে এতদিন খুঁজে পাওয়া যায়নি। অবশেষে প্রযুক্তির জালে ধরা পড়ে শেষ হলো তার দীর্ঘ পলাতক জীবন।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ