মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আবারও চরম অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সম্প্রতি কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সমুদ্রের পানি শোধনাগারের একটি অংশে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই আকস্মিক ও শক্তিশালী হামলায় কুয়েতের রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বেশ কয়েকজন ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও
বেসামরিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলার ফলে সৃষ্ট বিশাল অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়েই এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
শনিবার কুয়েতের ফায়ার সার্ভিস এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘কুনা’ (KUNA) জানিয়েছে, ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া দুটি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় ফায়ার সার্ভিস।
এসময় আগুন নেভানোর লড়াইয়ে অংশ নেওয়া কয়েকজন কর্মী এবং সেখানে কর্মরত একজন বেসামরিক শ্রমিক গুরুতরভাবে আহত হন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে, গতকাল ভোরে ইরানের এই হামলার পরপরই বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি শোধনাগারের বিশেষ ইউনিটে আগুন ধরে যায়। হামলার প্রভাব কুয়েতের জনজীবনে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় সমুদ্রের পানি শোধনাগারটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হরমুজগান পানি ও পয়োনিষ্কাশন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই শোধনাগারটি অকেজো হয়ে পড়ায় কুয়েতের অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। মরুপ্রধান এই দেশটিতে বিশুদ্ধ পানির এমন তীব্র সংকট স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নাভিশ্বাস সৃষ্টি করেছে।
এই হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধ এবং সরাসরি সংঘাতের উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য যে, কুয়েতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনা রয়েছে, যা ইরানের জন্য কৌশলগত উদ্বেগের কারণ। যদিও গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, তবুও সাম্প্রতিক এই হামলা সেই শান্তি প্রক্রিয়াকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার লড়াই ও আধিপত্য বিস্তারের নেশায় বেসামরিক স্থাপনার ওপর এমন আঘাত পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করে তুলতে পারে। কুয়েত সরকার এই ন্যাক্কারজনক হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আবারও চরম অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সম্প্রতি কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সমুদ্রের পানি শোধনাগারের একটি অংশে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই আকস্মিক ও শক্তিশালী হামলায় কুয়েতের রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বেশ কয়েকজন ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও
বেসামরিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলার ফলে সৃষ্ট বিশাল অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়েই এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
শনিবার কুয়েতের ফায়ার সার্ভিস এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘কুনা’ (KUNA) জানিয়েছে, ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া দুটি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় ফায়ার সার্ভিস।
এসময় আগুন নেভানোর লড়াইয়ে অংশ নেওয়া কয়েকজন কর্মী এবং সেখানে কর্মরত একজন বেসামরিক শ্রমিক গুরুতরভাবে আহত হন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে, গতকাল ভোরে ইরানের এই হামলার পরপরই বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি শোধনাগারের বিশেষ ইউনিটে আগুন ধরে যায়। হামলার প্রভাব কুয়েতের জনজীবনে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় সমুদ্রের পানি শোধনাগারটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হরমুজগান পানি ও পয়োনিষ্কাশন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই শোধনাগারটি অকেজো হয়ে পড়ায় কুয়েতের অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। মরুপ্রধান এই দেশটিতে বিশুদ্ধ পানির এমন তীব্র সংকট স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নাভিশ্বাস সৃষ্টি করেছে।
এই হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধ এবং সরাসরি সংঘাতের উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য যে, কুয়েতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনা রয়েছে, যা ইরানের জন্য কৌশলগত উদ্বেগের কারণ। যদিও গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, তবুও সাম্প্রতিক এই হামলা সেই শান্তি প্রক্রিয়াকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার লড়াই ও আধিপত্য বিস্তারের নেশায় বেসামরিক স্থাপনার ওপর এমন আঘাত পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করে তুলতে পারে। কুয়েত সরকার এই ন্যাক্কারজনক হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন