চেনা মুখও কোনো কোনো সময় নতুন রূপে ধরা দেয়। জাগিয়ে তোলে বিস্ময়! প্রশ্ন জাগায়, এ কি নতুন কেউ? ঠিক যেমনটি ঘটেছে সুনিধি নায়েকের বেলায়। সদ্য প্রকাশিত ‘পাতার বাঁশরি’ গানে দর্শক-শ্রোতা সুনিধিকে আবিষ্কার করেছেন ভিন্ন অবয়বে। বৃত্তের বাইরে গিয়েও যে তিনি অনেক কিছু দিতে পারেন– পেয়েছেন তার আভাস। তাই তো সুনিধির অনুরাগীরা আলোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন অনলাইন সংগীতায়োজন ‘কোক স্টুডিও বাংলা’য় তাঁর গাওয়া ‘পাতার বাঁশরি’ গানটি নিয়ে।
অনেকের মতে, এটি শুধু গান নয়, পাতার বাঁশরিতে তুলে আনা এক বিশুদ্ধ প্রেমের গল্প। যে গল্প গড়ে উঠেছে প্রিয় মানুষের দূর থেকে ভেসে আসা বাঁশির সুরে প্রেমিকের আকুলতাকে ঘিরে। নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার টানেই ফিরে আসেন প্রেমিক। প্রেম আর বিরহের এই না বলা কথাগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সহজ কথা ও সুরে। সেই সুবাদে সংগীতপ্রেমীদের কাছেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, সংগীতের নানা শাখায় বিচরণে দারুণ পারদর্শী সুনিধি। এখন শুধু প্রতিনিয়ত তাঁকে নতুনভাবে আবিষ্কারের পালা।
একটু পেছন ফিরে তাকালে আমরা দেখি, সুনিধি নায়েকের কণ্ঠে কবিগুরুর কালজয়ী গানগুলো শুনে মুগ্ধ হয়েছেন– এমন শ্রোতা সংখ্যা একেবারে কম নয়। যারা নির্দ্বিধায় স্বীকার করেন, এই শিল্পীর শ্রুতিমধুর কণ্ঠ আর অনিন্দ্য গায়কি সহজেই মনোযোগ কেড়ে নেয়। তাই তো ‘বন্ধু রহো সাথে’, ‘ও যে মানে না মানা’, ‘বুক বেঁধে তুই দাঁড়া দেখি’র মতো কালজয়ী রবীন্দ্রসংগীত যখন তাঁর কণ্ঠ থেকে ভেসে আসে, তখন তা অনায়াসে হৃদয় স্পর্শ করে যায়। তাই তো শান্তিনিকেতনের আলো-হাওয়ায় বেড়ে ওঠা সুনিধির পরিচিতি রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী হিসেবে গড়ে ওঠায় অবাক হননি কেউ। বিশ্বভারতীর পড়াশোনা পর্ব চুকিয়ে তিনি যখন সংগীতের অন্যান্য শাখায় বিচরণ করার সাহস দেখান, তখনও তা অস্বাভাবিক মনে হয়নি।
কেননা ততদিনে অনেকে জেনে গেছেন, শান্ত্রীয় সংগীতেও পারঙ্গম এই শিল্পী; যার অনন্য উদাহরণ অর্ণবের সঙ্গে গাওয়া ‘সন্ধ্যাতারা’ গানটি। এখানে শেষ নয়, আধুনিক মৌলিক গানের প্রতিও সুনিধির আলাদা দুর্বলতা আছে। তার প্রমাণ মিলেছে ‘প্রান্তরের গান’টির সুবাদে। এরপর মৌলিক গানের অ্যালবাম প্রকাশ করেও চমকে দিয়েছেন এই কণ্ঠশিল্পী। ‘আড়ালে থেকো’ শিরোনামে প্রকাশিত তাঁর অ্যালবামের গানগুলো মন ছুঁয়ে গেছে অনুরাগীদের। এরপরও আরও কিছু যেন পাওয়া বাকি, এমনটাই মনে হতো শ্রোতাদের।
এই অনুভব বাংলাদেশের সেই সব দর্শক-শ্রোতার, যাদের কাছে কণ্ঠশিল্পীর পরিচিতি ঢাকা পড়ে যাচ্ছিল চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে। কেননা নন্দিত কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক শায়ান চৌধুরী অর্ণবের এই জীবনসঙ্গীকে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে দেখতে পাওয়া ছিল বাড়তি চমক। কিন্তু আগে ও পড়ে অনুরাগীদের প্রত্যাশা ছিল সুনিধির কণ্ঠে আনকোরা গান শোনার। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছিল না। বরং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে সুপারস্টার শাকিব খানের বিপরীতে ‘রকস্টার’ সিনেমায় অভিনয় প্রসঙ্গ। তাই অভিনয় নিয়ে প্রশ্নটা এসেই যায়। জানতে চাওয়া, অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কীভাবে?
সুনিধি বলেন, ‘যারা আমার কণ্ঠশিল্পী পরিচয়কে বড় করে দেখেন, তারা বড় পর্দায় আমাকে দেখে অবাক হবেন– এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি মনে করি, আগে বা পড়ে অভিনয়ে আমাকে আসতেই হতো। কারণ আমি ড্যান্স ড্রামা নিয়ে পড়াশোনা করেছি। ইউনিভার্সিটি লাইফে ড্যান্স ড্রামাও করেছি। এটাও তো এক ধরনের ফর্ম অব আর্ট। একটাই জীবন, যে জিনিসগুলো করতে পারি, সেটা তো আমি করব। আর বেশি ভাবনাচিন্তা কিছু নেই। তাই পরিচালক আজমান রুশো যখন ‘রকস্টার’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব দেন, তখন নির্দ্বিধায় কাজটি করতে রাজি হয়েছি। কিন্তু এটাই একমাত্র কাজ নয়। ‘রকস্টার’ প্রথম মুক্তি পাওয়া সিনেমা। এর বাইরে আরও সিনেমায় কাজ করছি, যেগুলো শিগগিরই একে একে মুক্তি পাবে।’
এ কথা শোনার পর স্বাভাবিকভাবেই সুনিধির কাছে জানতে চাওয়া, অভিনয়ে এখন থেকে নিয়মিত দেখা যাবে কিনা?
এর জবাবে তিনি বলেন, ‘অভিনয়ে নিয়মিত দেখতে পাওয়ার খুব একটা সুযোগ নেই। তবে মাঝে মাঝে অভিনয় করব; যদি সে কাজগুলো প্রত্যাশামাফিক হয়। কারণ সবকিছুর আগে আমি গানের মানুষ। গানকে প্রাধান্য দেব। এই যেমন ঈশানের সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে তাঁর কথা ও সুর এবং আদিত রহমানের সংগীতায়োজনে ‘পাতার বাঁশরি’ গাইলাম, তেমনি নানা সময় নানা রকম আয়োজনের মধ্য দিয়ে শ্রোতার কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করব। তাই যত কিছুই করি, জানবেন, আমার শিকড় কেবলই গান।’
বিষয় : সুনিধি নায়েক গান কোক স্টুডিও বাংলা

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬
চেনা মুখও কোনো কোনো সময় নতুন রূপে ধরা দেয়। জাগিয়ে তোলে বিস্ময়! প্রশ্ন জাগায়, এ কি নতুন কেউ? ঠিক যেমনটি ঘটেছে সুনিধি নায়েকের বেলায়। সদ্য প্রকাশিত ‘পাতার বাঁশরি’ গানে দর্শক-শ্রোতা সুনিধিকে আবিষ্কার করেছেন ভিন্ন অবয়বে। বৃত্তের বাইরে গিয়েও যে তিনি অনেক কিছু দিতে পারেন– পেয়েছেন তার আভাস। তাই তো সুনিধির অনুরাগীরা আলোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন অনলাইন সংগীতায়োজন ‘কোক স্টুডিও বাংলা’য় তাঁর গাওয়া ‘পাতার বাঁশরি’ গানটি নিয়ে।
অনেকের মতে, এটি শুধু গান নয়, পাতার বাঁশরিতে তুলে আনা এক বিশুদ্ধ প্রেমের গল্প। যে গল্প গড়ে উঠেছে প্রিয় মানুষের দূর থেকে ভেসে আসা বাঁশির সুরে প্রেমিকের আকুলতাকে ঘিরে। নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার টানেই ফিরে আসেন প্রেমিক। প্রেম আর বিরহের এই না বলা কথাগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সহজ কথা ও সুরে। সেই সুবাদে সংগীতপ্রেমীদের কাছেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, সংগীতের নানা শাখায় বিচরণে দারুণ পারদর্শী সুনিধি। এখন শুধু প্রতিনিয়ত তাঁকে নতুনভাবে আবিষ্কারের পালা।
একটু পেছন ফিরে তাকালে আমরা দেখি, সুনিধি নায়েকের কণ্ঠে কবিগুরুর কালজয়ী গানগুলো শুনে মুগ্ধ হয়েছেন– এমন শ্রোতা সংখ্যা একেবারে কম নয়। যারা নির্দ্বিধায় স্বীকার করেন, এই শিল্পীর শ্রুতিমধুর কণ্ঠ আর অনিন্দ্য গায়কি সহজেই মনোযোগ কেড়ে নেয়। তাই তো ‘বন্ধু রহো সাথে’, ‘ও যে মানে না মানা’, ‘বুক বেঁধে তুই দাঁড়া দেখি’র মতো কালজয়ী রবীন্দ্রসংগীত যখন তাঁর কণ্ঠ থেকে ভেসে আসে, তখন তা অনায়াসে হৃদয় স্পর্শ করে যায়। তাই তো শান্তিনিকেতনের আলো-হাওয়ায় বেড়ে ওঠা সুনিধির পরিচিতি রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী হিসেবে গড়ে ওঠায় অবাক হননি কেউ। বিশ্বভারতীর পড়াশোনা পর্ব চুকিয়ে তিনি যখন সংগীতের অন্যান্য শাখায় বিচরণ করার সাহস দেখান, তখনও তা অস্বাভাবিক মনে হয়নি।
কেননা ততদিনে অনেকে জেনে গেছেন, শান্ত্রীয় সংগীতেও পারঙ্গম এই শিল্পী; যার অনন্য উদাহরণ অর্ণবের সঙ্গে গাওয়া ‘সন্ধ্যাতারা’ গানটি। এখানে শেষ নয়, আধুনিক মৌলিক গানের প্রতিও সুনিধির আলাদা দুর্বলতা আছে। তার প্রমাণ মিলেছে ‘প্রান্তরের গান’টির সুবাদে। এরপর মৌলিক গানের অ্যালবাম প্রকাশ করেও চমকে দিয়েছেন এই কণ্ঠশিল্পী। ‘আড়ালে থেকো’ শিরোনামে প্রকাশিত তাঁর অ্যালবামের গানগুলো মন ছুঁয়ে গেছে অনুরাগীদের। এরপরও আরও কিছু যেন পাওয়া বাকি, এমনটাই মনে হতো শ্রোতাদের।
এই অনুভব বাংলাদেশের সেই সব দর্শক-শ্রোতার, যাদের কাছে কণ্ঠশিল্পীর পরিচিতি ঢাকা পড়ে যাচ্ছিল চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে। কেননা নন্দিত কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক শায়ান চৌধুরী অর্ণবের এই জীবনসঙ্গীকে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে দেখতে পাওয়া ছিল বাড়তি চমক। কিন্তু আগে ও পড়ে অনুরাগীদের প্রত্যাশা ছিল সুনিধির কণ্ঠে আনকোরা গান শোনার। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছিল না। বরং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে সুপারস্টার শাকিব খানের বিপরীতে ‘রকস্টার’ সিনেমায় অভিনয় প্রসঙ্গ। তাই অভিনয় নিয়ে প্রশ্নটা এসেই যায়। জানতে চাওয়া, অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কীভাবে?
সুনিধি বলেন, ‘যারা আমার কণ্ঠশিল্পী পরিচয়কে বড় করে দেখেন, তারা বড় পর্দায় আমাকে দেখে অবাক হবেন– এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি মনে করি, আগে বা পড়ে অভিনয়ে আমাকে আসতেই হতো। কারণ আমি ড্যান্স ড্রামা নিয়ে পড়াশোনা করেছি। ইউনিভার্সিটি লাইফে ড্যান্স ড্রামাও করেছি। এটাও তো এক ধরনের ফর্ম অব আর্ট। একটাই জীবন, যে জিনিসগুলো করতে পারি, সেটা তো আমি করব। আর বেশি ভাবনাচিন্তা কিছু নেই। তাই পরিচালক আজমান রুশো যখন ‘রকস্টার’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব দেন, তখন নির্দ্বিধায় কাজটি করতে রাজি হয়েছি। কিন্তু এটাই একমাত্র কাজ নয়। ‘রকস্টার’ প্রথম মুক্তি পাওয়া সিনেমা। এর বাইরে আরও সিনেমায় কাজ করছি, যেগুলো শিগগিরই একে একে মুক্তি পাবে।’
এ কথা শোনার পর স্বাভাবিকভাবেই সুনিধির কাছে জানতে চাওয়া, অভিনয়ে এখন থেকে নিয়মিত দেখা যাবে কিনা?
এর জবাবে তিনি বলেন, ‘অভিনয়ে নিয়মিত দেখতে পাওয়ার খুব একটা সুযোগ নেই। তবে মাঝে মাঝে অভিনয় করব; যদি সে কাজগুলো প্রত্যাশামাফিক হয়। কারণ সবকিছুর আগে আমি গানের মানুষ। গানকে প্রাধান্য দেব। এই যেমন ঈশানের সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে তাঁর কথা ও সুর এবং আদিত রহমানের সংগীতায়োজনে ‘পাতার বাঁশরি’ গাইলাম, তেমনি নানা সময় নানা রকম আয়োজনের মধ্য দিয়ে শ্রোতার কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করব। তাই যত কিছুই করি, জানবেন, আমার শিকড় কেবলই গান।’

আপনার মতামত লিখুন