বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শীতলক্ষ্যা নদী সহ দেশের সকল নদ-নদীকে দূষণ, দখল ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ ঘাটে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে পরিবেশবাদী সংগঠন পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রতিবাদ সভায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, মাঝি-মাল্লা, স্থানীয় বাসিন্দা এবং নদীপ্রেমীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শীতলক্ষ্যা নদীর বর্তমান অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মাসুম আকন্দ, বিএনপি নেতা ফেরদৌস ওয়াহিদ সুমন, মুস্তাকুর রহমান, নুরে আলম, সংগঠনের মহাসচিব মীযানুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়ক আব্দুল কাদির, সোনারগাঁ কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাংবাদিক আক্তার হাবিব, মাই টিভির নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. সুজন মিয়া এবং গোপালগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক সোহাগ মিয়াসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা বলেন, একসময় শীতলক্ষ্যা নদীর স্বচ্ছ জল, প্রাণবন্ত পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ছিল এ অঞ্চলের মানুষের গর্ব। কিন্তু আজ শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য, অবৈধ দখল এবং অপরিকল্পিত কার্যক্রমের কারণে নদীটি ধীরে ধীরে তার প্রাণশক্তি হারাচ্ছে। নদীর পানি দূষিত হওয়ার ফলে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে এবং নদীকেন্দ্রিক জীবিকা নির্বাহকারী হাজারো মানুষের জীবনও সংকটে পড়েছে।
মোহাম্মদ হোসেন বলেন, “নদীকে হত্যা করে কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। শীতলক্ষ্যা শুধু একটি নদী নয়, এটি এ অঞ্চলের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। আমরা চাই প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।”
আক্তার হাবিব বলেন, “বিশ্ব পরিবেশ দিবস বছরে একদিন আসে, কিন্তু পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের প্রতিদিনের। যদি আমরা এখনই নদী রক্ষায় সোচ্চার না হই, তাহলে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাদের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদেরই।”
আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “নদী দূষণ ও দখলের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। নদী রক্ষার আন্দোলনকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।”
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত মাঝি-মাল্লারা জানান, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া এবং দূষণের কারণে তাদের জীবন-জীবিকা আগের মতো নেই। তারা নদীকে রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
সভা থেকে বক্তারা শীতলক্ষ্যা নদীকে দূষণমুক্ত, দখলমুক্ত ও জীবন্ত নদী হিসেবে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা নদী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রতিবাদ সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে নদী রক্ষার শপথ নেন। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় একটাই দাবি—“ আমার নদী আমার মা, দূষণ হতে দিবো না, আমার নদী আমার মা, দখল হতে দিবো না, নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে, নদী বাঁচলে ভবিষ্যৎ বাঁচবে।”
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শীতলক্ষ্যা নদী সহ দেশের সকল নদ-নদীকে দূষণ, দখল ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ ঘাটে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে পরিবেশবাদী সংগঠন পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রতিবাদ সভায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, মাঝি-মাল্লা, স্থানীয় বাসিন্দা এবং নদীপ্রেমীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শীতলক্ষ্যা নদীর বর্তমান অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মাসুম আকন্দ, বিএনপি নেতা ফেরদৌস ওয়াহিদ সুমন, মুস্তাকুর রহমান, নুরে আলম, সংগঠনের মহাসচিব মীযানুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়ক আব্দুল কাদির, সোনারগাঁ কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাংবাদিক আক্তার হাবিব, মাই টিভির নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. সুজন মিয়া এবং গোপালগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক সোহাগ মিয়াসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা বলেন, একসময় শীতলক্ষ্যা নদীর স্বচ্ছ জল, প্রাণবন্ত পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ছিল এ অঞ্চলের মানুষের গর্ব। কিন্তু আজ শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য, অবৈধ দখল এবং অপরিকল্পিত কার্যক্রমের কারণে নদীটি ধীরে ধীরে তার প্রাণশক্তি হারাচ্ছে। নদীর পানি দূষিত হওয়ার ফলে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে এবং নদীকেন্দ্রিক জীবিকা নির্বাহকারী হাজারো মানুষের জীবনও সংকটে পড়েছে।
মোহাম্মদ হোসেন বলেন, “নদীকে হত্যা করে কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। শীতলক্ষ্যা শুধু একটি নদী নয়, এটি এ অঞ্চলের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। আমরা চাই প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।”
আক্তার হাবিব বলেন, “বিশ্ব পরিবেশ দিবস বছরে একদিন আসে, কিন্তু পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের প্রতিদিনের। যদি আমরা এখনই নদী রক্ষায় সোচ্চার না হই, তাহলে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাদের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদেরই।”
আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “নদী দূষণ ও দখলের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। নদী রক্ষার আন্দোলনকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।”
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত মাঝি-মাল্লারা জানান, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া এবং দূষণের কারণে তাদের জীবন-জীবিকা আগের মতো নেই। তারা নদীকে রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
সভা থেকে বক্তারা শীতলক্ষ্যা নদীকে দূষণমুক্ত, দখলমুক্ত ও জীবন্ত নদী হিসেবে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা নদী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রতিবাদ সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে নদী রক্ষার শপথ নেন। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় একটাই দাবি—“ আমার নদী আমার মা, দূষণ হতে দিবো না, আমার নদী আমার মা, দখল হতে দিবো না, নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে, নদী বাঁচলে ভবিষ্যৎ বাঁচবে।”
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন